/ মতামত / ডেমাজানী গ্রাম থেকে অস্পৃশ্যতার শিকল ভাঙার লড়াইয়ের বার্তা অবশেষে মন্দিরে প্রবেশের আন্দোলন সফল
ডেমাজানী গ্রাম থেকে অস্পৃশ্যতার শিকল ভাঙার লড়াইয়ের বার্তা অবশেষে মন্দিরে প্রবেশের আন্দোলন সফল
শিপন কুমার রবিদাস:
Published : Friday, 16 October, 2026 at 2:53 PM
ডেমাজানী গ্রাম থেকে অস্পৃশ্যতার শিকল ভাঙার লড়াইয়ের বার্তা অবশেষে মন্দিরে প্রবেশের আন্দোলন সফলআমার বাড়ি বাংলাদেশের উত্তরের জেলা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানী গ্রামে। আমাদের গ্রামে আমরাই একমাত্র রবিদাস পরিবার। রবিদাস একটি ঐতিহ্যবাহী জনগোষ্ঠী, যাদের পেশার সঙ্গে জুতা তৈরি, মেরামত ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের পরিবারের প্রতি উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নেতিবাচক মনোভাব দীর্ঘদিনের। পরিবারের প্রায় সব সদস্যকেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে অস্পৃশ্যতামূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। আমরা নয় ভাই-বোনের মধ্যে আমি অষ্টম। বড় দাদা-দিদিদের জীবনেও এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো আমাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এসব ঘটনার কিছু তাঁদের মুখে শুনেছি, আবার কিছু নিজের চোখেই দেখেছি।

২০১৩: দুর্গাপূজার মণ্ডপে প্রবেশ করতে গিয়ে অপমান
২০১৩ সালের দুর্গাপূজার কথা। তখন আমি ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমাদের পাড়ার সার্বজনীন মন্দিরে দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে পূজার্চনায় অংশ নিতে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করি। সে সময় অনেক মানুষের ভিড় থাকায় কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও প্রসাদ নেওয়ার জন্য মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেন তৎকালীন দায়িত্বরত পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সাহা। ২০০৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাঁর কাছে তিন-চার মাস প্রাইভেট পড়েছিলাম। সেই সুবাদে তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতাম। দিনে যতবারই তাঁর সঙ্গে দেখা হতো, ততবারই তাঁকে নমস্কার জানাতাম। তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করতাম।

যাহোক, তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি পা ধুয়ে মন্দিরে ঢুকছো?’ প্রত্যুত্তরে বললাম, ‘কীভাবে শুচিতা বজায় রেখে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়, সেটা অন্তত জানি। আপনি এমন কথা বললেন কেন, স্যার?’

তাঁর কাছ থেকে এমন আচরণ পেয়ে আমি ভীষণ ব্যথিত হয়েছিলাম। পরক্ষণেই তিনি আমতা আমতা করে বললেন, ‘তুমি জানো না তোমরা কী জাত? মুচি জাতের মানুষ পূজার সময় মন্দিরে ঢুকলে পূজার উপকরণ অপবিত্র হয়ে যাবে। দেবী দুর্গার পূজার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যাবে। পূজার সময় মন্দিরের উপকরণে নিম্নজাতের মানুষের স্পর্শ করা অনুচিত।’

কথাগুলো শোনার পর মনোকষ্ট ও অপমানবোধ থেকে প্রতিবাদ করে বলেছিলাম, ‘সার্বজনীন পূজামণ্ডপে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র-সনাতন ধর্মাবলম্বী সবার সমান অধিকার রয়েছে। আমরা সবাই হিন্দু। তাই পূজার্চনার অধিকারও সবার সমান। তা ছাড়া পূজার চাঁদা আমরাও দিই। সে ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে এমন বৈষম্য আমি মানি না, মানব না। আপনার সামনেই মন্দিরে ঢুকে প্রসাদ নিয়ে আসছি। পারলে বাধা দিন।’

ঘটনাটি সেখানেই শেষ হলেও এর ক্ষত আমার মনে গভীরভাবে থেকে যায়। বাড়ি ফিরে আমি আর কান্না থামাতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণ আগেই রাগে-দুঃখে প্রতিবাদ করে এসেছি, অথচ বাড়িতে এসে নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। পরিবারের কাউকে প্রথমে কিছু বুঝতে দিইনি। কিন্তু মা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। তিনি জানতে চাইলে তাঁকে সব খুলে বলি।

আমার অবিরাম কান্না দেখে মা-ও নিজেকে সামলাতে পারেননি। তিনি মন্দিরে গিয়ে প্রতিবাদ করতে চাইলে আমি তাঁকে থামাই। মা একেবারেই নিরক্ষর। কিন্তু সেদিন তিনি হঠাৎ এমন একটি কথা বলেছিলেন, যা আমার জীবনের জন্য গভীর শিক্ষণীয় হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা চর্মকার। যে ঢাক না বাজলে দেবী দুর্গার পূজা সম্পন্ন হয় না, সেই ঢাক তৈরির সঙ্গে আমাদের পেশার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যদি অস্পৃশ্য হই, তাহলে চামড়ার তৈরি ঢাকও অস্পৃশ্য। পূজামণ্ডপ থেকে সেই ঢাক আমি ছিনিয়ে আনব। দেখি, ঢাক ছাড়া দেবী মায়ের পূজা কীভাবে হয়!’ মায়ের সেই কথার মধ্যে ছিল শত বছরের বঞ্চনার বিররুদ্ধে প্রতিবাদ, আত্মমর্যাদার দাবি এবং জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যের প্রতি এক গভীর প্রশ্ন।

২০২০: প্রদীপদানি স্পর্শ করায় নতুন করে বৈষম্য
২০১৩ সালের ঘটনার পরও আমাদের প্রতি বৈষম্যমৃলক আচরণের অবসান হয়নি। ২০২০ সালের দুর্গাপূজার সময় আমি দুর্গামন্দিরের একটি প্রদীপদানি স্পর্শ করায় আশুতোষ সাহা সেটি পুকুরে ফেলে দেন। একই সঙ্গে পূজায় নিযুক্ত পুরোহিতকে সতর্ক করে দেন, যাতে আমি কিংবা আমার পরিবারের কোনো সদস্য মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারি।

আমার প্রদীপদানি স্পর্শ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলাদা একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় আমি সাংগঠনিক কাজে বগুড়ার বাইরে অবস্থান করছিলাম। সভা চলাকালে আমাদের সংগঠনের কর্মী সুজন রাজভর ফোন করে আমাকে বিষয়টি জানান।

একটি পূজামণ্ডপে ব্যবহৃত প্রদীপদানি স্পর্শ করার কারণে সেটি ফেলে দেওয়া এবং একটি পরিবারের সদস্যদের মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রবেশের মতো মৌলিক অধিকারের প্রশ্নটি যে কতটা অবহেলিত হতে পারে, তা আবারও উপলব্ধি করি।

২০২১: চাঁদার টাকা মাটিতে রেখে গ্রহণ
২০২১ সালে সুজন রাজভরকেও অপমান করেন আশুতোষ সাহা। আমাদের পাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন গোত্রের মানুষের বসবাস। রবিদাস ও রাজভর জনগোষ্ঠীর দুর্গাপূজার চাঁদা সংগপ্রহের দায়িত্বে ছিল সুজন রাজভর। দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সাহার বাড়িতে সুজন সংগৃহীত চাঁদার টাকা জমা দিতে যান। কিন্তু আশুতোষ সাহা তাঁর হাত থেকে টাকা গ্রহণ না করে মাটিতে রাখতে বলেন। পরে মাটিতে রাখা টাকার ওপর জল ছিটিয়ে তিনি তা গ্রহণ করেন। চাঁদার টাকা সংগ্রহের সময় দু’-তিনজনের চাঁদা বাকি থাকায় সুজনকে ভর্ৎসনাও করা হয়। তাঁকে বলা হয়, ‘দুর্গাপূজা ফকিন্নিদের পূজা না, রাজা-বাদশার পূজা। ঠিকমতো পূজার চাঁদা দিতে না পারলে বারোয়ারিতে থাকার দরকার নেই।’ নিজের হাত থেকে টাকা গপ্রহণ না করায় সুজন গভীর মনোকষ্টে কান্না করতে থাকে।

সেদিন রাতে মন্দিরে গিয়ে সবার সামনে আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এর ফলে আশুতোষ সাহা ও তাঁর কতিপয় অনুসারীর বিরাগভাজন হয়ে পড়ি। তাঁরা আমাদের অস্পৃশ্য মনে করতেন এবং আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করতেন। এভাবে বছরের পর বছর ধরে আমাদের আত্মমর্যাদা ক্ষুন্ন করা হয়েছে। অথচ আমরা এই সমাজেরই মানুষ। আমরাও ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতে চাই, পূজার্চনা করতে চাই, অন্য সবার মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাই।

২০২২: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ
২০২২ সালের দুর্গাপূজার আগে আমার মনে আশঙ্কা জাগে, আগের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এত দিন স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় আমি অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত মানবাধিকারের এমন চরম লঙ্ঘনের প্রতিকার চেয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিই।

আমার মনে হয়েছিল, হয়তো কোনো সমাধানই হবে না। কিন্তু দুর্গাপূজার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিষয়ে আশুতোষ সাহাকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগকারী হিসেবে আমিও চিঠি পাই।

এরপর থেকেই আমার এলাকায় অস্পৃশ্যতার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে শুরু করে। অনেকেই এমন ঘটনার নিন্দা জানান এবং দ্রুত সমাধানের দাবি তোলেন। আমার সাহসী ভৃমিকার জন্য কেউ কেউ পপ্রশংসা করেন, আবার কেউ কেউ একে বাড়াবাড়ি বলেও মন্তব্য করেন।

তবে আমি বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট ছিলাম। কারণ, আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক আচরণের একটি সুষ্ঠু সমাধান আসন্ন-এমন আশা করতে শুররু করেছিলাম। এরই মধ্যে বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে আমাকে বিষয়টি এখানেই শেষ করে দেওয়ার অনুরোধ, প্রস্তাব এমনকি হুমকিও দেওয়া হতে থাকে। কিন্তু আমি শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অটল ছিলাম। এমন কথাও প্রচার করা হয়, ‘আশু মাস্টারের মতো সম্মানী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিপন মামলা করেছে। এটা কি ঠিক?’

আমি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখিনি। আমার কাছে এটি ছিল মানবাধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও সমান অধিকারের প্রশ্ন। তাই জনমত গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জমা দেওয়া আবেদনের ফটোকপি বিভিন্ন নাগরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠন এবং সংগঠকদের কাছে পাঠাতে থাকি।

এই উদ্যোগের ফলে অনেকেই জাতপাতের কুফল সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শুররু করেন। তাঁরা উপলব্ধি করতে পারেন, জাতপাতের ধারণা কীভাবে নীরব ঘাতকের মতো মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও সামাজিক সম্পর্ককে ক্ষতিগপ্রস্ত করে। জনমত গঠনের এই প্রক্রিয়া আমাকে অনেক বেশি সাহস ও শক্তি জুড়িয়েছিল।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমাধান
অবশেষে পূর্বনির্ধারিত সময়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও মহোদয় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। পরে বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে কারও প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। অভিযুক্ত আশুতোষ সাহার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হয়। আমিও অভিযোগকারী হিসেবে আমি পূজা কমিটির সঙ্গে মিলেমিশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে লিখিত দিই। আশুতোষ সাহা ও তাঁর অনুসারীরা ভবিষ্যতে রবিদাসসহ দলিত জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মন্দিরে পপ্রবেশ, পূজার্চনা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগপ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য না করার বিষয়ে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেন। এভাবেই দীর্ঘদিনের অপমান, বঞ্চনা ও প্রতিবাদের পর মন্দিরে প্রবেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে একটি ইতিবাচক সমাধান আসে।

সমাধান হয়েছে, কিন্তু মানসিকতার পরিবর্তন কি হয়েছে?
ঘটনাটির একটি সুষ্ঠু সমাধান এসেছে বলা যায়। কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরও জটিল। ওই দিনের পর থেকে আমি লক্ষ করেছি, পাড়ার বেশ কয়েকজন আমাকে এড়িয়ে চলেন। যদিও আমি তাঁদের সঙ্গে আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে মিশতে চেষ্টা করেছি। আমার জীবনের এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, অস্পৃশ্যতার শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত। জাতপাতের ধারণায় বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে এমন এক মনস্তত্ত্ব গড়ে ওঠে, যা কেবল নির্দেশ কিংবা পপ্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাতারাতি বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।

আমরা যতই বৈষম্য বিলোপের আইন দাবি করি না কেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সমাজ থেকে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য দূর হবে না। এর জন্য প্রয়োজন মানুষের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের পরিবর্তন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তবে বাংলাদেশে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন থাকা অত্যন্ত জররুরি। এমন আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জাতপাতের ধারণা থেকে উদ্ভৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ না পায়। পাশাপাশি অপরাধের প্রতিকার, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সেই সময়ের উদ্যোগ আমার পাড়ায় অন্তত মানবতার একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। আমি উপলব্ধি করেছি, অন্যায়ের বিররুদ্ধে প্রতিবাদ করা পপ্রয়োজন। বৈষম্যের শিকার হয়ে নীরব থাকলে বৈষম্য আরও শক্তিশালী হয়। নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতনতা, সাহস, সংগঠিত উদ্যোগ এবং আইনি প্রতিকার প্রহণের মানসিকতা থাকা জরুরি।

আমার এই অভিজ্ঞতা কেবল একটি পরিবারের কিংবা একটি জনগোষ্ঠীর মন্দিরে প্রবেশের অধিকারের লড়াই নয়; এটি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই। কোনো মানুষের পরিচয় তাঁর পেশা, জন্ম কিংবা জাতপাত দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই সমান মর্যাদা, অধিকার ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে কাউকে তার জন্মপরিচয়ের কারণে অপমানিত হতে হবে না; যেখানে ধর্মীয় উপাসনালয়ের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে; যেখানে মানুষের মূল্যায়ন হবে তার মানবিক গুণাবলি ও কর্মের ভিত্তিতে, জাতপাতের পরিচয়ে নয়। মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে-পেশা কিংবা জাতপাতের পরিচয়ে নয়। এমন সমাজই আমাদের কাম্য।

লেখক: সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, বগুড়া-৫, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


 
১
কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনলো বিজিবি
কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনলো বিজিবি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই বাংলাদেশি পুলিশ ...
২
বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদল বৈঠক ...
৩
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকের শিক্ষাগত যোগ্যতার কাজ নেইঃ আইএমএফ
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকের শিক্ষাগত যোগ্যতার কাজ নেইঃ আইএমএফ
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় অর্ধেক এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাদের শিক্ষাগত ...
৪
ফেসবুক লাইভে উসকানির পর মব জাস্টিসে হত্যা: দেবহাটা থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
ফেসবুক লাইভে উসকানির পর মব জাস্টিসে হত্যা: দেবহাটা থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ...
৫
মাদকের টাকা না পেয়ে মায়ের ওপর হামলা, ঠেকাতে গিয়ে কাকি খুন
মাদকের টাকা না পেয়ে মায়ের ওপর হামলা, ঠেকাতে গিয়ে কাকি খুন
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাদকের টাকা না পেয়ে মায়ের সঙ্গে বিবাদের জেরে দায়ের কোপে কাকিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে শ্যামনগর ...
৫
ডেমাজানী গ্রাম থেকে অস্পৃশ্যতার শিকল ভাঙার লড়াইয়ের বার্তা অবশেষে মন্দিরে প্রবেশের আন্দোলন সফল
ডেমাজানী গ্রাম থেকে অস্পৃশ্যতার শিকল ভাঙার লড়াইয়ের বার্তা অবশেষে মন্দিরে প্রবেশের আন্দোলন সফল
আমার বাড়ি বাংলাদেশের উত্তরের জেলা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানী গ্রামে। আমাদের গ্রামে আমরাই একমাত্র রবিদাস পরিবার। রবিদাস একটি ঐতিহ্যবাহী জনগোষ্ঠী, ...
৭
রৌমারীতে ২০০ পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ একজন আটক
রৌমারীতে ২০০ পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ একজন আটক
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা  করে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও দুই বোতল বিদেশি মদসহ মো.মোন্নাফ হোসেন (৪০) নামে ...
৮
গুলশানে কথিত ‘জার্মান ক্লাবে’ ডিএনসির অভিযান, বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
গুলশানে কথিত ‘জার্মান ক্লাবে’ ডিএনসির অভিযান, বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
রাজধানীর গুলশানে ‘জার্মান ক্লাব’ নামে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ...
৯
দুর্গাপূজায় সীমান্তবর্তী এলাকা-গোপালগঞ্জসহ তিন জেলায় বিজিবি মোতায়েন
দুর্গাপূজায় সীমান্তবর্তী এলাকা-গোপালগঞ্জসহ তিন জেলায় বিজিবি মোতায়েন
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত ...
১০
কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যা বলছে বিজিবি
কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যা বলছে বিজিবি
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া এক এএসআই ও এক কনস্টেবলকে দ্রুত ফেরত আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে ...
 
১
হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ...
২
বোদা উপজেলায় পূজা মণ্ডপগুলোতে জিআর চাল বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী আজাদ
বোদা উপজেলায় পূজা মণ্ডপগুলোতে জিআর চাল বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী আজাদ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১০ টি ইইনিয়ন ১ চি পৌরসভায় পূজা মণ্ডপে জিআর ...
৩
সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল শিক্ষিকা নিহত
সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল শিক্ষিকা নিহত
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী মোল্লার মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী। সোমবার ...
৪
আগৈলঝাড়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
আগৈলঝাড়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নজরুল বর্ষ ...
৫
কমরেড ফরহাদ বর্তমানে বেঁচে থাকলে দেশের অবস্থা বদলে যেত : প্রয়াত কমরেড ফরহাদের স্ত্রী রীনা খানম
কমরেড ফরহাদ বর্তমানে বেঁচে থাকলে দেশের অবস্থা বদলে যেত : প্রয়াত কমরেড ফরহাদের স্ত্রী রীনা খানম
কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের স্ত্রী রীনা খানম বলেছেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংসদ সদস্য কমরেড ...
৫
ফুলবাড়ীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন
ফুলবাড়ীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন
"শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি ...
৭
মেহেরপুরের দুই সীমান্তে বিজিবির অভিযান, উদ্ধার ৮ লাখ টাকার মাদক
মেহেরপুরের দুই সীমান্তে বিজিবির অভিযান, উদ্ধার ৮ লাখ টাকার মাদক
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দুটি সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার ...
৮
আলামত নিশ্চিতে তাজমীনের সোয়াব-পোশাক যাচ্ছে সিআইডির ফরেনসিকে
আলামত নিশ্চিতে তাজমীনের সোয়াব-পোশাক যাচ্ছে সিআইডির ফরেনসিকে
কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর জান্নাতুন তাজমীন হত্যার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তা। নিহত এই স্কুলছাত্রীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা, ...
৯
ফুলবাড়ীতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ফুলবাড়ীতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিশ^ মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। (প্রতিবাদ্য বিষয় ছিল জীবনের অভিজ্ঞতার কণ্ঠ্যস্বর: ...
১০
গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন আশিক
গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন আশিক
যুক্তরাজ্য ও সাউথ কোরিয়া ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জয়পুরহাটের কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। দক্ষিণ ...
সম্পাদক ও প্রকাশক: ইউসুফ আহমেদ (তুহিন)
প্রকাশক কর্তৃক ৭৯/বি, ব্লক বি, এভিনিউ ১, সেকশান ১২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ থেকে প্রকাশিত ও ৫২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা ১১০০ থেকে মুদ্রিত
বার্তাকক্ষ : +৮৮০১৯১৫৭৮৪২৬৪, ই-মেইল editor@natun-barta.com, Web : www.Natun-Barta.com.com