/ মতামত / ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতি
ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতি
রায়হান আহমেদ তপাদার:
Published : Tuesday, 13 October, 2026 at 10:02 PM
ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতিআধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকট একটি বিস্ময়কর শিক্ষা দিয়েছে। সেটি হলো বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে অভিযোজনক্ষম। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এর প্রভাবে পড়ে। কিন্তু টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়তে বছরের পর বছর ধরে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার সুবাদে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিগুলো মোটামুটি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপ তাদের বিপুল তেল মজুদ কাজে লাগিয়েছে। চীনও একই পথ নিয়েছে। পাশাপাশি দেশটি তার শোধনাগার, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, এমনকি পরিবহন ব্যবস্থায় গড়ে তোলা নমনীয়তাও কাজে লাগিয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে যাওয়া পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহের পথ পরিবর্তন করেছে। যেসব উৎপাদক তাদের সরবরাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাঠায় না, তারা রফতানি বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ী ও শোধনাগারগুলোও দ্রুত সরবরাহ শৃঙ্খল নতুনভাবে সাজিয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমুদ্রপথে বাণিজ্য হওয়া প্রতি পাঁচ ব্যারেল তেলের এক ব্যারেলেরও বেশি সংকটের আগের তুলনায় ভিন্ন পথে পরিবহন করা হয়েছে।কিন্তু এসব অভিঘাত সামাল দেয়ার ব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা আছে। মজুদ কমছে, শোধন সক্ষমতার ওপর চাপ এখনো রয়েছে এবং বিকল্প পরিবহন পথও বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাছাড়া বিশ্বের একটি অঞ্চলের টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা অন্য সব অঞ্চলেও একই ধরনের স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করে না। যেসব দেশের সংকটে সাড়া দেয়ার সুযোগ কম তাদের বেশি দাম ও সরবরাহ ঘাটতির মুখে পড়তে হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর ভারতে কয়েক মাস ধরে বাণিজ্যিক তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহ সীমিত ছিল। পাকিস্তানে আগস্টের শেষ দিকেও এলএনজি সংকট পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্যতম কারণ ছিল।

গত দুই বছরে শুল্কযুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও উচ্চ ঋণের মতো নানা ঝুঁকি সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশ স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা ৩ শতাংশে নেমে এলেও ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে, আর তা হচ্ছে:বাজারের চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত শুল্কনীতি কিছুটা শিথিল করতে বাধ্য করেছে। পরিবর্তিত বাণিজ্য পথ, বহুমুখী জ্বালানি সরবরাহ ও কৌশলগত তেল মজুদ সংকটের প্রভাব কমিয়েছে। বিভিন্ন দেশের আর্থিক ও মুদ্রানীতির সমন্বিত পদক্ষেপ অর্থনীতিকে ধাক্কা সামলাতে সহায়তা করেছে।সবচেয়ে বড় ইতিবাচক শক্তি হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগের উত্থান। এআই-নির্ভর মূলধনি বিনিয়োগ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে ঝুঁকিও কম নয়।জ্বালানির উচ্চমূল্য, চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ সরকারি ঋণ ও সুদহার এবং এআই বিনিয়োগে সম্ভাব্য অতিমূল্যায়ন অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রিত থাকলে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী ও মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।এ প্রেক্ষাপটে কীভাবে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, সেটি এখন জরুরি প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি অর্থনীতিরই জ্বালানি প্রয়োজন, কিন্তু সেই জ্বালানি সরবরাহকারী সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অসমভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ এমন অঞ্চলে বাস করে, যেখানকার অর্থনীতি অন্তত একটি প্রধান জ্বালানি আমদানি করে। চীন তার তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ভারত প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে বাণিজ্য অপরিহার্য। নির্ভরযোগ্য ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সংযোগ স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলার মৌলিক ভিত্তিগুলোর একটি।কিন্তু বাণিজ্য এমন নির্ভরতাও সৃষ্টি করতে পারে, যা পরে দুর্বলতায় পরিণত হয়। 

কোনো দেশ হয়তো ভৌগোলিকভাবে দূরবর্তী অল্প কয়েকটি সরবরাহকারী কিংবা বিঘ্নের ঝুঁকিতে থাকা সীমিতসংখ্যক পরিবহনপথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। হরমুজ প্রণালিই বিশ্বের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথ নয়; জ্বালানি বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশই অন্তত একটি এ ধরনের পথ অতিক্রম করে। এমনকি বড় কোনো নিট রফতানি কারক দেশও নির্দিষ্ট কিছু জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হলে সরবরাহ বিঘ্নে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ব্রাজিল অপরিশোধিত তেল রফতানি করে, কিন্তু দেশটির ডিজেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আমদানি করতে হয়। ইন্দোনেশিয়া এলএনজি রফতানি করলেও আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরশীল এবং পরিশোধিত জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতাও সীমিত। সরকারগুলো এরই মধ্যে ঝুঁকি কমানো এবং সংকটে সাড়া দেয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তান একটি কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ গড়ে তোলার বিষয় বিবেচনা করছে। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের মজুদ বাড়াচ্ছে। আর ইন্দোনেশিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা বর্তমান প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিনের সমপরিমাণে নিয়ে যাওয়া। শুধু মজুদ দিয়েই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে অন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ ঝুঁকি কমাতে বা সংকটে সাড়া দেয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পারলেও প্রতিটিরই নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে।বিদ্যুতায়ন এবং দেশে উৎপাদিত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কাঠামোগতভাবে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। সহজভাবে বললে, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একক কোনো ব্যবস্থাপত্র নেই। কিছু কৌশলে বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হবে; অন্যগুলো গুরুত্ব দেবে মজুদ, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ অথবা বিকল্প সরবরাহকারী ও পরিবহন পথ তৈরির ওপর। অনেক ক্ষেত্রেই এ দুটি পন্থা একসঙ্গে অনুসরণ করা হবে। 

কোন কোন দুর্বলতা সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে এবং সীমিত বিনিয়োগ কোথায় করলে সবচেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপকতা অর্জন করা সম্ভব-তা চিহ্নিত করার দায়িত্ব নীতিনির্ধারকদের। উন্নয়নশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব দেশের রাজস্ব সক্ষমতা এবং সাশ্রয়ী মূলধনে প্রবেশাধিকার প্রায়ই সীমিত থাকে। এ ধরনের বিনিয়োগ ব্যয়বহুল হবে ঠিকই, কিন্তু তা না করলে জ্বালানি সংকটের অভিঘাত আরো বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০২২ সালে লোডশেডিংয়ের কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আনুমানিক ১-৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে গিয়েছিল। বর্তমান জ্বালানি সংকট ঝুঁকিপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতি- গুলোর জন্য শেষ পর্যন্ত কতটা ব্যয় ডেকে আনবে, তা এখনো দেখার বিষয়। তবে মোট ক্ষতির পরিমাণ যে উল্লেখযোগ্য হবে, তা প্রায় নিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সৃষ্ট যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ছিল ৬৫ মার্কিন ডলার। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ১২০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। যুদ্ধ যদি ছয় মাস স্থায়ী হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ব্যারেলপ্রতি ১৫০ মার্কিন ডলার এবং যুদ্ধ এক বছর স্থায়ী হলে তেলের মূল্য ২০০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করতে পারে। জ্বালানি তেল এমনই এক উপকরণ, যা বেশির ভাগ উৎপাদন কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে প্রয়োজন হয়। জ্বালানি তেলের কার্যকর বিকল্প এখনো উদ্ভাবিত হয়নি। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের মতো জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বিপদে পতিত হয়েছে। জ্বালানি তেল রিজার্ভারের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে আপৎকালীন বিশাল মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হয় না। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযমী হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহবান জানানো হয়েছিল, কিন্তু তাতে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্ব এখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল, ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করলে ইরানি জনগণ সরকার পতনের দাবিতে রাস্তায় নামবে। ফলে খুব সহজেই ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করে নিজেদের পছন্দের কাউকে ক্ষমতায় বসানো সম্ভব হবে। কিন্তু আক্রমণকারীদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না, বরং এই অপরিণামদর্শী যুদ্ধ ইরানি জাতিকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ করেছে। আক্রান্ত হওয়ার পর ইরান এভাবে ঘুরে দাঁড়াবে এবং প্রতি আক্রমণ শুরু করবে, তা খোদ যুক্তরাষ্ট্রও ভাবতে পারেনি। এর আগেও ইরান-ইসরায়েল প্রথাগত যুদ্ধ হয়েছে, কিন্তু সেই যুদ্ধের সঙ্গে এবারের যুদ্ধের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আগেরবার ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রক্সি যুদ্ধ করেছে। আর এবার যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানে আক্রমণ চালিয়েছে এবং ইসরায়েল তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। এর আগে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ যুদ্ধরত দুটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবারের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যেসব মুসলিম দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা রয়েছে, তার প্রতিটিকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করে ইরান আক্রমণ করে চলেছে। শুধু মার্কিন সামরিক স্থাপনায়ই নয়, ইরান এসব দেশের জ্বালানি তেল উৎপাদন ও শোধনাগারেও মিসাইল হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জ্বালানি তেলের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ২০২২ সালে বিভিন্ন দেশের মজুদ থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল বাজারে ছেড়ে কিছুটা হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছিল। 

কিন্তু এবার ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েও পরিস্থিতির কোনো আশাব্যঞ্জক উন্নতি করা যাচ্ছে না। এই জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে মূলত যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন কয়েকটি দেশে। কিন্তু পরিবহন সংকটের কারণে মজুদকৃত এসব জ্বালানি তেল বাজারে আনা যাচ্ছে না। এসব জ্বালানি তেল বাজারে আনতে হলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে হবে। ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন কোনো দেশের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। বিশ্ব জ্বালানি তেলের অন্তত ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি ইরানের প্রভাবমুক্ত করার জন্য যুদ্ধজাহাজ প্রেরণের অনুরোধ করলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। তবে সহযোগিতার মাধ্যমে সীমিত সম্পদের কার্যকারিতা আরো বাড়ানো সম্ভব। বর্তমান জ্বালানি সংকটই শেষ সংকট নয়। তাই আজই টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করতে হবে—কোন কোন নির্ভরতা সামাল দেয়া হবে এবং কীভাবে তা করা হবে, সে বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলেই পরবর্তী সংকট আঘাত হানলে দেশ ও কোম্পানিগুলোর সামনে বিকল্প পথ খোলা থাকবে।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক, লন্ডন থেকে


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


 
১
‘ডাবল ডায়াবেটিস’ কী, কারা ঝুঁকিতে, জানুন লক্ষণসমূহ
‘ডাবল ডায়াবেটিস’ কী, কারা ঝুঁকিতে, জানুন লক্ষণসমূহ
ডায়াবেটিসের সঙ্গে কম-বেশি সবাই পরিচিত আমরা। কিন্তু কখনো কি ‘ডাবল ডায়াবেটিস’ বা যুগ্ম ডায়াবেটিস কথাটি শুনেছেন। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসস্বাভাবিকভাবেই এ ...
২
কেমন হবে ইমাম ও মুসল্লির সম্পর্ক
কেমন হবে ইমাম ও মুসল্লির সম্পর্ক
ইসলামী সমাজব্যবস্থায় মসজিদের ভূমিকা কেন্দ্রীয়। মসজিদকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় ইসলামী সমাজের যাবতীয় কার্যক্রম।তাই ইমামের সঙ্গে মুসল্লিদের সম্পর্ক শিকড়ের সঙ্গে ...
৩
ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক
ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক
আর্থিক সংকটে ধুঁকতে থাকা বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। ...
৪
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সরাসরি দেখাবে টফি
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সরাসরি দেখাবে টফি
আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি। এ লক্ষ্যে স্পোর্টস মার্কেটিং এজেন্সি টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের ...
৫
বাংলাদেশের বাজারে অনার এক্স৭ই ও এক্স৬ই
বাংলাদেশের বাজারে অনার এক্স৭ই ও এক্স৬ই
বাংলাদেশের বাজারে এক্স সিরিজের নতুন দুটি স্মার্টফোন এনেছে অনার। মডেল দুটি হলো অনার এক্স৭ই ও অনার এক্স৬ই। এতে রয়েছে শক্তিশালী ...
৫
সাতক্ষীরায় জাতীয় ক্রিকেটার গড়ার ঐতিহ্যবাহী মাঠের বেহাল দশা: দ্রুত সংস্কারের দাবি
সাতক্ষীরায় জাতীয় ক্রিকেটার গড়ার ঐতিহ্যবাহী মাঠের বেহাল দশা: দ্রুত সংস্কারের দাবি
সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো জাতীয় দলের উদীয়মান তারকা ক্রিকেটার তৈরির আঁতুড়ঘর সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খেলার মাঠটি ...
৭
মৌলভীবাজারে এলপিজি গ্যাস বিক্রিতে লাইসেন্স যাচাই, ব্যবসায়ীদের সতর্ক
মৌলভীবাজারে এলপিজি গ্যাস বিক্রিতে লাইসেন্স যাচাই, ব্যবসায়ীদের সতর্ক
মৌলভীবাজার শহরে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বিক্রিতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন যাচাই এবং নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনা ...
৮
শারদীয় দূর্গাপূজা উৎযাপন উপলক্ষ্যে ফুলবাড়ীতে ৬১ টি পূজা মন্ডপে চালের ডিও বিতরণ
শারদীয় দূর্গাপূজা উৎযাপন উপলক্ষ্যে ফুলবাড়ীতে ৬১ টি পূজা মন্ডপে চালের ডিও বিতরণ
শারদীয় দুর্গাপুজা উদযাপন উপলক্ষে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৬১টি পুজা মন্ডপে সরকারী অনুদানের ৩৬ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন চালের ডিও লেটার বিতরণ ...
৯
ফুলবাড়ীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
ফুলবাড়ীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পপ্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ...
১০
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকি কমাতে নগরে গণপরিবহণ ও সাইকেলে যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকি কমাতে নগরে গণপরিবহণ ও সাইকেলে যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান
ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ৫-৭ শতাংশ হলেও সড়কের জায়গা দখল করে ৭০ শতাংশ। যানজটের কারণে ঢাকায় বছরে ...
 
১
হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ...
২
কালিহাতীতে ট্রাভেল ব্যাগে চার হাজার ৮১৫ ইয়াবা, আটক ১
কালিহাতীতে ট্রাভেল ব্যাগে চার হাজার ৮১৫ ইয়াবা, আটক ১
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে ৪ হাজার ৮১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. আল আমিন মিয়া (৩২) ...
৩
বোদা উপজেলায় পূজা মণ্ডপগুলোতে জিআর চাল বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী আজাদ
বোদা উপজেলায় পূজা মণ্ডপগুলোতে জিআর চাল বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী আজাদ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১০ টি ইইনিয়ন ১ চি পৌরসভায় পূজা মণ্ডপে জিআর ...
৪
আত্রাইয়ে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব দিনমজুর ফেরদৌসের পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন
আত্রাইয়ে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব দিনমজুর ফেরদৌসের পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন
নওগাঁর আত্রাইয়ে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ফেরদৌস দপ্তরী। পরনের এক কাপড় ছাড়া তার পরিবারের আর কোনো কিছুই ...
৫
কালিহাতীর বল্লায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন শিবির
কালিহাতীর বল্লায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন শিবির
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ...
৫
সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল শিক্ষিকা নিহত
সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল শিক্ষিকা নিহত
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী মোল্লার মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী। সোমবার ...
৭
আগৈলঝাড়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
আগৈলঝাড়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নজরুল বর্ষ ...
৮
জ্বালানি সংকটের কারণে ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলন করতে চায় সরকার
জ্বালানি সংকটের কারণে ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলন করতে চায় সরকার
দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়লা তথা ফুলবাড়ির কয়লা উত্তোলন করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার উদ্যোগী হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রজন্মের জন্য ...
৯
নড়াইলে পূজা উদযাপন কমিটির সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
নড়াইলে পূজা উদযাপন কমিটির সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
০৮ অক্টোবর/২০২৬ আসন্ন দূর্গা পূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে নড়াইল জেলা পূঁজা উদযাপন কমিটির সাথে মতবিনিময় করেন নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার ...
১০
কমরেড ফরহাদ বর্তমানে বেঁচে থাকলে দেশের অবস্থা বদলে যেত : প্রয়াত কমরেড ফরহাদের স্ত্রী রীনা খানম
কমরেড ফরহাদ বর্তমানে বেঁচে থাকলে দেশের অবস্থা বদলে যেত : প্রয়াত কমরেড ফরহাদের স্ত্রী রীনা খানম
কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের স্ত্রী রীনা খানম বলেছেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংসদ সদস্য কমরেড ...
সম্পাদক ও প্রকাশক: ইউসুফ আহমেদ (তুহিন)
প্রকাশক কর্তৃক ৭৯/বি, ব্লক বি, এভিনিউ ১, সেকশান ১২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ থেকে প্রকাশিত ও ৫২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা ১১০০ থেকে মুদ্রিত
বার্তাকক্ষ : +৮৮০১৯১৫৭৮৪২৬৪, ই-মেইল editor@natun-barta.com, Web : www.Natun-Barta.com.com