|
‘ডাবল ডায়াবেটিস’ কী, কারা ঝুঁকিতে, জানুন লক্ষণসমূহ
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
ডায়াবেটিসের সঙ্গে কম-বেশি সবাই পরিচিত আমরা। কিন্তু কখনো কি ‘ডাবল ডায়াবেটিস’ বা যুগ্ম ডায়াবেটিস কথাটি শুনেছেন। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসস্বাভাবিকভাবেই এ কথা শোনার পর মনে হতে পারে, একসঙ্গে হয়তো দুই ধরনের ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। তবে ভারতের পারেলের গ্লেনিগ্ল্যামস হাসপাতালের ফিজিশিয়ান ও ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. আরতি উল্লালের মতে, শব্দটি আরো সুনির্দিষ্ট একটি বিষয়কে বোঝায়। এ ব্যাপারে এই চিকিৎসক বলেন, আরো সুনির্দিষ্ট করে বোঝায় যে―যখন টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ইনসুলিন অসংবেদনশীলতা দেখা দেয়, যা সচরাচর টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ডা. আরতি জানিয়েছেন, এর অর্থ হচ্ছে রক্তে শর্করা, এটি নিয়ন্ত্রণ করতে শরীরের আরো বেশি ইনসুলিনের প্রয়োজন হয়। যা ডায়াবেটিসের কোনো পৃথক ধরন নয়। শব্দটি মূলত দুটি অবস্থার মিশ্রণকে বর্ণনা করে। এর অর্থ কি টাইপ ১-টাইপ ২ উভয় ডায়াবেটিস থাকা এ চিকিৎসক ব্যাখ্যা করেন, ডাবল ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির টাইপ ১ ডায়াবেটিস তো থাকেই, পাশাপাশি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও তৈরি হতে পারে। এতে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে এবং ইনসুলিনের চাহিদাও বাড়ে। এ কারণে শব্দটি আলাদা দুটি রোগ নির্ণয়ের পরিবর্তে ওভারল্যাপিং বা একীভূত বৈশিষ্ট্যগুলোকে বোঝায়। কেন এমন হয় ডা. আরতি জানান, টাইপ ১ ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ হচ্ছে, শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। তবে পরবর্তীতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও তৈরি হতে পারে। এ কারণে ওজন বেড়ে যাওয়া, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, জিনগত বা বংশগত কারণ এবং অন্যান্য বিপাকীয় বিষয়গুলো অবদান রাখতে পারে। তখন শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। টাইপ ১ ডায়াবেটিস থাকার পরও এই পরিস্থিতি হতে পারে। টাইপ ১ ডায়াবেটিস আক্রান্তদের যেসব লক্ষণে নজর রাখা উচিত সবসময় এর নির্দিষ্ট কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। ডা. আরতি সতর্ক করে বলেন, ইনসুলিনের ক্রমশ চাহিদা, অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া বা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা হওয়া সন্দেহে ব্যাপক বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার কোমরের মাপ বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপও দেখা দিতে পারে। আর চিকিৎসকরা সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের পাশাপাশি এসব বিষয় বিবেচনা করেন। কারা বেশি আক্রান্ত হতে পারেন যেসব টাইপ ১ ডায়াবেটিসের রোগীর অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায় বা পেটের মেদ বেশি থাকে, তাদের বেশি ঝুঁকি থাকতে পারে। ডা. আরতি বলেন, পরিবারে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলেও এই ঝুঁকি বাড়তে পারে। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সবসময় এসব ব্যাপারে স্পষ্ট হওয়া যায় না। কারণ, মানুষ ভেদে কারণ ভিন্ন হতে পারে। ঝুঁকি কমানোর উপায় স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়মিত পরীক্ষা করাও জরুরি। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ওজনে বড় ধরনের পরিবর্তন বা ইনসুলিনের চাহিদা বেড়ে গেলেও এ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। পরামর্শ ছাড়া কখনো ইনসুলিনের ডোজ কমানো বা বন্ধ করা যাবে না। আর যেকোনো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। |