|
মুন্সীগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও এক কর্মকর্তা
নতুন বার্তা, মুন্সীগঞ্জ:
|
ব্যাংক হিসাবে টাকা নেই, টাকা নিয়ে উধাও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখার ব্যবস্থাপক শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলেও শুক্রবার বন্ধের দিনও ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের ভিড় ছিল । গ্রাহকের হাতে টাকা জমা দেয়ার রসিদ আছে। কিন্তু ব্যাংকের হিসাবে সেই টাকার কোনো হদিস নেই। এদিকে রোববার গ্রাহকদের ব্যাংকে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়, শুক্রবার ব্যাংকে টানানো এক নোটিশ এর মাধ্যমে। অভিযুক্ত শরীফুজ্জামান সোহাগ ওই শাখায় সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বাড়ি পঞ্চগড়ে এবং তিনি ঢাকার শ্যামলীতে বসবাস করতেন বলে ব্যাংক সুত্রে জানা যায়।ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টাকা তুলতে গিয়ে একের পর এক গ্রাহক জানতে পারছেন, তাঁদের হিসাবে জমা হয়নি তাদের টাকা। কয়েকজনের হিসাবেই প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের দাবি, একইভাবে আরও অন্তত শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। ফলে অভিযোগের মোট অর্থের পরিমাণ আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তবে মোট কতজন গ্রাহকের টাকা নিয়ে অভিযোগ, আর্থিক পরিমাণ কত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে শরিফুজ্জামান এ শাখায় চাকরি করছেন। টাকা জমা দেওয়া, প্রয়োজনের সময় গ্রাহকের টাকা তোলায় সহযোগিতা করা। এতে গ্রাহকদের সঙ্গে তার একটি বিশ্বস্ত সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্প্রতি তিনি তার গ্রাহকদের জানান, কেউ এফডিআর করলে শতকরা ১১ টাকা হারে লাভ পাওয়া যাবে। এতে করে গ্রাহকরা তার মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া শুরু করে। টাকা জমার বিপরীতে শরীফুজ্জামান তাঁদের জমা দেয়ার একটি রসিদও দিতেন। গত তিনদিন ধরে হঠাৎ বিনা ছুটিতে ব্যাংকে অনুপস্থিত আরিফুজ্জামান। শরীফুজ্জামানের কাছে টাকা জমা দেওয়া এক গ্রাহক গত বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন গ্রাহক ব্যাংকে এসে জানতে পারেন শরীফুজ্জামান ব্যাংকে নেই। সাথে সাথে তারা তাদের ব্যাং হিসেবে চেক করে দেখে টাকা জমা হয়নি তাদের একাউন্টে। এ সময় আরও কয়েকজন এসে দেখেন- তাদের হিসেবেও কোন টাকা নেই। পরে জানতে পারেন- গত তিনদিন ধরে ব্যাংকে আসছেন না শরীফুজ্জামান। কর্মকর্তা অনুপস্থিত, ব্যাংক হিসেবে টাকা জমা না হওয়ায় গ্রাহকদের ধারণা, ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকা নিয়ে পালিয়েন শরীফুজ্জামান। বেজগাঁও এলাকার জুথি আক্তার প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি সাত লাখ টাকা জমা দেন। টাকা তোলার জন্য বৃহস্পতিবার ব্যাংকে এসে জানতে পারেন, তাঁর হিসাবে ওই টাকা জমা হয়নি। ষোলঘর এলাকার শেখ উজ্জ্বলের স্ত্রী ৩ মাসের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন ১২ লাখ টাকা (৩), হঠাৎ শুনতে পান অগ্রণী ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। পরে জানতে পারে তার টাকাও নিয়ে গেছে। বারিগাঁও এলাকার জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, তিনিও শরীফুজ্জামানের মাধ্যমে ব্যাংকে সাত লাখ টাকা জমা করে ছিলেন, পেয়ে ছিলেন জমা রশিদ। তবে তাঁর ব্যাংক হিসাবে নেই সে টাকা। উপজেলার আড়িয়লপাড়ার নাছির হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি ১৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। পরে হিসাব যাচাই করে দেখেন, ওই টাকার কোনো অস্তিত্ব নেই। আরেক ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম বলেন, বাহাদুর নামে তাঁর সমন্দি ৮১ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী রুজিনা বেগমের ২৭ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যাংকে এসে তাঁরা দেখতে পান, সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে ওই টাকা নেই। উল্লেখিত গ্রাহকদের দাবির হিসাব অনুযায়ী, তাঁদের হিসাবেই মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে আরও অনেক গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকে আসছেন বলে দাবি তাদের। বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন,পুলিশ ব্যাংকে আসেন। এদিকে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগের মুঠো ফোনে ফোন করা হলে নাম্বারটি সঠিক নয় বলে ফোন সার্ভিস থেকে জানানো হয়। অগ্রনী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপক মো.শরিফুদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন করা হলে,সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) জুয়েল মিয়া জানান, গ্রাহকদের ব্যাংক অবস্থান নেওয়ায় সেখানে কোন বিশৃঙ্খলা পরিবেশ তৈরি না হয় সেজন্য ব্যাংকে পুলিশ রয়েছে। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়টি দুদক দেখবে । সম্পূর্ণ বিষয়টি দুদক দেখছে। যেহেতু এটি দুদকের আওতাধীন। শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা যাচাই বাছাই চলছে। অভিযোগের খবর পেয়ে শতাধিক গ্রাহক এসে ব্যাংকে জড়ো হয়েছেন। গ্রাহকদের হাতে থাকা রসিদ, ব্যাংকের হিসাব ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা হচ্ছে। অনেকর হিসেব ঠিকঠাক পাওয়া যাচ্ছে। যাদের গুলো পাওয়া যাচ্ছেনা তাদের নথি রাখা হচ্ছে। ব্যাংকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা ও অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। |