|
কাগজবিহীন ও স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত
নতুন বার্তা, চট্টগ্রাম:
|
কাগজের ফাইল, লম্বা লাইন আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দিন শেষ হতে চলেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে। সেবা কার্যক্রমকে আরো দ্রুত, স্বচ্ছ ও পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বন্দরকে একটি সম্পূর্ণ পেপারলেস ও ‘স্মার্ট পোর্ট’-এ রূপান্তর করতে নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত। বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা সহজ করা, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং বন্দর এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে এই ডিজিটাইজেশন ও অটোমেশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরের শতভাগ বিল অনলাইনে সম্পাদিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি কনটেইনার ও কনসাইনি বিল শতভাগ টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনির্মিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপন এবং এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এখন ছুটির দিন ও অফ-টাইমসহ যেকোনো সময় অনলাইন পেমেন্টের (বিল পরিশোধ) সুবিধা চালু করা হয়েছে। ফলে বন্দর ব্যবহারকারীদের বিল পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সময়ের ওপর আর নির্ভর করতে হচ্ছে না। সরাসরি অনলাইনে পেমেন্টের সুযোগ থাকায় সেবা গ্রহণের সময় কমার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মাশুলাদি আদায় আরো কড়া ও গতিশীল করতে নতুন নিয়ম আসছে। বন্দরের মাশুল বা ফি সংক্রান্ত কোনো পেমেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না হলে ‘অটো পুল পেমেন্ট’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া টিওএসের মাধ্যমে অনলাইনে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট অনুমোদন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে অকশন ডেলিভারির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে মাশুল আদায়, পণ্য ডেলিভারি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কাগজনির্ভরতা সম্পূর্ণ দূর হবে বলে আশা করছেন বন্দর কর্মকর্তারা। বন্দর এলাকায় পণ্যবাহী যানবাহনের যানজট নিরসনেও আনা হচ্ছে প্রযুক্তিগত ছোঁয়া। ই-গেট পাস ইস্যু এবং গেট ইন/আউট কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব সফটওয়্যার টিওএসের মাধ্যমে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ড টিকিট ও ই-গেট চালান এবং শতভাগ ভেসেল ই-এনওসি নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া টস-এর নতুন সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করা হচ্ছে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে রিয়েল-টাইম ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, বিল জেনারেট ও কনফার্মেশন এবং অফডক ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনালে রুট-বাই-রুট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে, যা ট্রাকের অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা ও চলাচল কমিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে সরাসরি সহায়তা করবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এই অটোমেশন ও ডিজিটাইজেশনের ফলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দ্রুত বকেয়া আদায়সহ নানা ধরনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন কাজের জন্য আর সরাসরি অফিসে গিয়ে কাগজপত্র সম্পাদনের প্রয়োজন পড়বে না। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্টে রূপান্তর করার এই লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবহারকারী ও স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। |