|
এক দিনের ব্যবধানে যমুনা নদী রক্ষা বাঁধের আবারও আকস্মিক ধ্বস
কামরুল হাসান, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
|
এক দিনের ব্যবধানে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদী রক্ষা বাঁধের আবারও অন্তত ৬৫ মিটার এলাকায় ধ্বস দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকিতে নদী রক্ষা বাঁধ। এছাড়াও তিন দিনেও স্বাভাবিক হয়নি ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের যানচলাচল যান চলাচল।মঙ্গলবার সকালে ও বিকেলে আরো কয়েক দফায় ধ্বসে যায়। একই সঙ্গে সড়কের মাঝখানে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কে ফাটল ও ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে শাখারিয়া স্লুইসগেটসংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে গোপালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের চাপে শাখারিয়া স্লুইচগেট এলাকায় সড়ক কাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মহাসড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত নদী খনন ও কার্যকর নদীশাসনের অভাবে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা দ্রুত টেকসই নদীশাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শামসুল আলম বলেন, সাখারিয়া ও নলিন এলাকার ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সড়কে ফাটল ও ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের চাপ বেড়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন বলেন, পানির তীব্র চাপে দুই দিনে ৮৫ মিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে দ্বিতীয় দিন থেকে তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। হেমনগর পুলিশ ফাঁড়ি জানিয়েছে, বিকল্প হিসেবে নলিন বাজার হয়ে যানবাহন চলাচল করছে। |