|
সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
|
"জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা" এবং "প্রকৃতি রক্ষাই জলবায়ুর সুরক্ষা"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলা সদর ও উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বর্ণাঢ্য র্যালি, ব্যতিক্রমী বৃক্ষ পদযাত্রা, আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণে দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং জেটনেটবিডি, বেলা, টিআইবি, এএলআরডি, ফিনিশ মন্ডলীয়াল ফাউন্ডেশন ও 'ধরা'র সহযোগিতায় সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে কবি ও শিক্ষক পল্টু বাশারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। বেলার নেটওয়ার্ক সদস্য রেহেনা পারভীনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, টিআইবি সভাপতি তোহিদুর রহমান, সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি তৈয়ব হাসান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আব্দুল মোনায়েম খান, নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বাবুল, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন এবং হেড সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন। অনুষ্ঠানে নোট পেপার উপস্থাপনা করেন আলফাজ উদ্দিন। বক্তরা বলেন, জলবায়ুর জন্য এখনই পদক্ষেপ, সবুজ পৃথিবী আমাদের অঙ্গীকার। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে উপকূলীয় অঞ্চলসহ পুরো দেশকে রক্ষা করতে হলে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।" বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে সাথে নিয়েই পরিবেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। আলোচনা সভা শেষে প্রাণ সায়ের খালের পাড়ে বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং প্লাস্টিক দূষণ কমানোর লক্ষ্যে এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন ফোরাম (ইপিএফ), স্বদেশ-সাতক্ষীরা ও সমমনা সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আরেকটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি র্যালি বের হয়ে ম্যানগ্রোভ সভাঘরে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। বাপা সাতক্ষীরা কমিটির জেলা আহ্বায়ক এড. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী মরিয়ম মান্নান, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জ্যোৎস্না দত্ত, রুপা বসু, ভূমিহীন নেতা আবদুস সামাদ, মফিজুর রহমান, সমাজকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা এবং যুব প্রতিনিধি জারিন তাসমিন, ঝিলিক, তানজিম হোসেন, সুরাইয়া ও মেহেদি হাসান। অনুষ্ঠানে আলোচনা পত্র পাঠ করেন ইপিএফ সদস্য মাধব চন্দ্র দত্ত। বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ, বনভূমি ধ্বংস, নদী-জলাশয় দূষণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। প্রকৃতি সংরক্ষণই জলবায়ু সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আলোচনা শেষে কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ী ৩ জনের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শ্যামনগরে ব্যতিক্রমী বৃক্ষ পদযাত্রা ও প্রকৃতিপ্রেমীদের শপথ: উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন ও গ্রীণ কোয়ালিশনের যৌথ উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমী বৃক্ষ পদযাত্রা ও শপথ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রা শুরুর মুহূর্তে আকাশজুড়ে নেমে আসা প্রশান্তির বৃষ্টি চারপাশের পরিবেশকে আরও স্নিগ্ধ ও প্রাণবন্ত করে তোলে। সকাল ৯টায় ঈশ্বরীপুর এ. সোবহান মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য বৃক্ষ পদযাত্রা বের হয়ে যশোরেশ্বরী মন্দির অভিমুখে রওনা হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে লবণসহিষ্ণু কদবেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্ল্যাকার্ড ছিল। পদযাত্রা শেষে সকল অংশগ্রহণকারী একটি করে গাছ দত্তক নেন এবং পরিবেশ সুরক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। শপথ বাক্য পাঠ করান আটুলিয়া ইউনিয়নের সবুজ যোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল। ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য এস.এম শফিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর পৌরসভা গ্রীণ কোয়ালিশন সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি, ইউনিয়ন সভাপতি জিল্লুর রহমান, যুব সংগঠক গাজী আব্দুর রউফ, সাইফুদ্দিন সিদ্দিক, কনিকা রানী, তেজেন্দ্রনাথ মৃধা এবং বারসিকের রামকৃষ্ণ জোয়ারদার। বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু নির্দিষ্ট কিছু মানুষের নয়, এটি সমাজের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে তৃণমূল পর্যায় থেকে এই আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে। |