|
এক মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ, মোট মামলার প্রায় অর্ধেকের আইনি ভিত্তি অজানা
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
এপ্রিল মাসে সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা এক মাসের ব্যবধানে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১১-এ পৌঁছেছে। একই সময়ে দেশজুড়ে মোট এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ১৮০টি, যা আগের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের তথ্যের ভিত্তিতে সংবিধান ও নাগরিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা কনস্টিটিউশন ওয়াচডগের ন্যাশনাল ক্রাইম ডেটা মনিটরে এই চিত্র উঠে এসেছে।নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সবচেয়ে বেশি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে ঢাকা রেঞ্জে, ৩৭৫টি। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ২৮৫টি, রাজশাহী রেঞ্জ ২৫২টি এবং রংপুর রেঞ্জ ২৩৭টি নিয়ে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এলাকায় নথিভুক্ত হয়েছে ১৬৮টি মামলা। মোট মামলার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র হলো স্বচ্ছতার অভাব। ৭ হাজার ২৯১টি মামলা, অর্থাৎ মোটের ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ, শুধু 'অন্যান্য' শিরোনামে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই মামলাগুলোয় কোন আইনের কোন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। কনস্টিটিউশন ওয়াচডগ বলছে, এই বিশাল অংশের মামলার আইনি ভিত্তি অজানা থাকায় বিচারিক ও জনসাধারণের নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য একটি অংশের আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মোট মামলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মামলা মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্ত। এপ্রিলে এই সংখ্যা ৫ হাজার ৭০৬, যা আগের মাসের তুলনায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। দেশে পরিচালিত প্রতি ১০০টি উদ্ধার অভিযানের ৯৪টিই মাদক-সংক্রান্ত। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে অনেক মামলায় জামিনের সুযোগ সংকুচিত থাকায় এই মামলাগুলোয় অভিযুক্তরা বিচার শুরুর আগে কতদিন হাজতে থাকছেন সেই প্রশ্নটিও রয়ে যায়। তবে জামিন আবেদন ও বিচারপূর্ব আটকের হার-সংক্রান্ত তথ্য এখনো প্রকাশ পায়নি। এপ্রিলে হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে ২৮৮টি, চুরির মামলা ৮০৬টি এবং ডাকাতির মামলা ৫১টি। দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে ৭৭টি, যা আগের মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ কম। পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে ৬৬টি। |