|
সাতক্ষীরার কলারোয়ার চেঁড়াঘাট ছয় গম্বুজ মসজিদ: ১৬৪ বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
|
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চেঁড়াঘাট গ্রামে প্রায় ১৬৪ বছর ধরে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট একটি প্রাচীন মসজিদ। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে দমদম এলাকার নৌ-খালের কোলঘেঁষে ছায়া-সুনিবিড় পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদটি স্থানীয়ভাবে ‘চেঁড়াঘাট ছয় গম্বুজ জামে মসজিদ’ নামে পরিচিত। এটি এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হিসেবেও বিবেচিত।মসজিদের নামফলকে উল্লেখ রয়েছে, এটি কায়েম বিশ্বাস নির্মিত। ফলক অনুযায়ী মসজিদটির প্রতিষ্ঠাকাল বাংলা ১২৬৯ সন ও ইংরেজি ১৮৬২ সাল। সে হিসাবে ২০২৬ সালে মসজিদটির বয়স দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬৪ বছর। প্রাচীন এই মসজিদটি পাতলা আকৃতির ইট ও চুন-সুরকির গাঁথুনিতে নির্মিত। প্রায় ১২ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদটিতে রয়েছে ৭টি দরজা, ১০টি পিলারের ওপর দাঁড়ানো ছাদ, ৬টি গম্বুজ এবং ১০টি মিনার। প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার এই মসজিদে একসঙ্গে শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদের নির্মাতা কায়েম বিশ্বাস ছিলেন সে সময়ের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। কথিত আছে, ভারতের মুর্শিদাবাদের জমিদার দুর্গাপদ চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন। পরে কৌশলে ক্ষমা প্রার্থনা করলে জমিদার একটি মসজিদ নির্মাণের শর্ত দেন। সেই শর্ত পূরণ করতেই কায়েম বিশ্বাস কলকাতা থেকে নির্মাণ শ্রমিক ও উপকরণ এনে নিজ গ্রাম চেঁড়াঘাটে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. আবু নসর রচিত ‘কলারোয়া উপজেলার ইতিহাস’ গ্রন্থেও মসজিদটির নির্মাণ ইতিহাসের উল্লেখ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। স্থানীয় উদ্যোগে মসজিদটির কিছু সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজও করা হয়েছে, যাতে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে সুবিধা হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি খান জাহান আলী ভুট্টো এবং স্থানীয় বাসিন্দা এমএ সাজেদসহ কয়েকজন মুসল্লি বলেন, “চেঁড়াঘাট ছয় গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি ইবাদতখানা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে যতটুকু সম্ভব সংরক্ষণ ও সংস্কারের চেষ্টা করছি। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি আরও টেকসইভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।” স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারি উদ্যোগে মসজিদটি সংরক্ষণ করা হলে কলারোয়ার এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ জরুরি। |