|
টার্গেট তেল স্থাপনা, উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্ব জুড়ে
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
ইরান যুদ্ধে টার্গেট এখন তেলক্ষেত্র। যেমন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ইরানের তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তেমনি পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে শুক্রবার ভয়াবহ হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের অন্য দ্বীপগুলোতেও হামলা চালানো হবে। জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মিত্রদের তেলক্ষেত্র এবং কূটনৈতিক স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর, আবু ধাবিতে খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরাহ বন্দরের চারপাশের এলাকাগুলোকে অবিলম্বে খালি করে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। ওই এজেন্সি বলেছে, বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি থাকায় সেটা বৈধ হামলার টার্গেট হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানে হামলা করা হবে। এর প্রেক্ষিতে লোকজনকে সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়। খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে ইরান। আমিরাত কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্রোন হামলা চালানো হলে তার ধ্বংসস্তূপ একটি তেলক্ষেত্রের ওপর পড়ে তাতে আগুন ধরে যায়। সেই আগুনের শিখা, ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে আকাশে। ইরাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্স্যুলেটে হামলা করেছে ইরান।এর নিন্দা জানিয়েছে আমিরাত। ওদিকে বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে আল- জাজিরা বলছে, গুরতর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল ইরানি বাহিনী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা ক্রমেই অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে। বিশেষ করে এখন ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আছে বৃহত্তর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা। সেই ক্ষমতা দিয়ে ইসরাইল ও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে তীব্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এর মধ্য দিয়ে তারা হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও অন্যদের বিরুদ্ধে তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে ইরান। সর্বশেষ তেলক্ষেত্রে এই হামলা-পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে ২৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধে সেখানে স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক প্রশাসনের সিদ্ধান্তে জাপানের ওকিনাওয়া বন্দর থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনাল ইউনিটের ২৫০০ সেনা সদস্য গতকালই যাত্রা শুরু করে। তারা উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলিতে করে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছাবে। ওদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য অংশীজনদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু তাতে তেমন সাড়া মিলছে না। তিনি দাবি করেছেন, ইরানকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। এখন তাদের তেলক্ষেত্রকে টার্গেট করা হচ্ছে। তবে একজন ইরানি কর্মকর্তা দেশটির সংবাদ সংস্থাগুলোকে বলেছেন, খার্গ দ্বীপ থেকে রপ্তানি ‘পূর্ণমাত্রায় চলছে’। সেখানে তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম কোনো বিঘ্ন ছাড়াই অব্যাহত আছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এবং তাসনিমে প্রকাশিত এই বক্তব্যটি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে তারা দ্বীপটিতে সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখা অব্যাহত রাখে, তাহলে ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোই পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে। ওদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে- খার্গ দ্বীপে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আরও দ্বীপে অভিযান চালাতে পারে। খার্গ দ্বীপ তার একটি; তারা ইতিমধ্যে কিশ দ্বীপকে টার্গেট করেছে। আর তৃতীয়টি হতে পারে আবু মুসা দ্বীপ। আল-জাজিরার একজন সাংবাদিক বলেন, ‘এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, ইরানি সেনাবাহিনী আবু মুসা দ্বীপকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবু মুসা হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত, আর খার্গ দ্বীপ আরও উত্তরে। স্থলসেনা মোতায়েনের আগে আমরা হয়তো দ্বীপগুলো জুড়ে প্রস্তুতি কার্যক্রম দেখতে পারি।’ ওদিকে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে ইরান জুড়ে ৩৬ হাজার ৫ শতাধিক বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আরও জানায়, এ সবের বেশির ভাগই আবাসিক ইউনিট এবং জনসেবাকেন্দ্র। খার্গ দ্বীপে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আরও দ্বীপে অভিযান চালাতে পারে। খার্গ দ্বীপ তার একটি; তারা ইতিমধ্যে কিশ দ্বীপকে টার্গেট করেছে। আর তৃতীয়টি হতে পারে আবু মুসা দ্বীপ। আল-জাজিরার একজন সাংবাদিক বলেন, ‘এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, ইরানি সেনাবাহিনী আবু মুসা দ্বীপকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবু মুসা হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত, আর খার্গ দ্বীপ আরও উত্তরে। স্থলসেনা মোতায়েনের আগে আমরা হয়তো দ্বীপগুলো জুড়ে প্রস্তুতি কার্যক্রম দেখতে পারি।’ সম্প্রতি ওবামা প্রশাসনের এক সাবেক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শুধু দ্বীপগুলোতেই নয়, বরং ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ এলাকাতেও স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি ক্রমেই বেশি বিবেচনায় আসছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২৫০০ স্থল সেনা মোতায়েনের কথা জানিয়েছে। এই অঞ্চলেই ইরানের অধিকাংশ তেল ও গ্যাস উত্তোলন করা হয়। ওদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর ফুজাইরাহতে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল সিভিল ডিফেন্স। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার পর পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ থেকে ফুজাইরাহতে যে আগুন লাগে, তা নিয়ন্ত্রণে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা কাজ করছেন। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফুজাইরাহ বন্দরটি হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে অবস্থিত এবং এটি আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংকারিং হাব হিসেবে কাজ করে। ওদিকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শেষ শাহর নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি বলেছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটামাত্রই’ তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রেজা পাহলভি বলেন, তিনি ইতিমধ্যে ইরানের ভেতরে ও বাইরে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাছাই করার কাজ করে আসছেন। তার ভাষায় ওইসব ব্যক্তি একটি ‘ট্রানজিশনাল সিস্টেম’-এ দায়িত্ব পালন করবেন। ইরানের বাইরে অবস্থানকারী কয়েকটি বিরোধী আন্দোলনের একটি নেতৃত্ব দেন পাহলভি। তবে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তার পরিচিতি আরও বেড়েছে। ওই সময় কিছু বিক্ষোভকারী রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছিল। পাহলভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তাকেন্দ্র ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসির জ্যেষ্ঠ ইরান ও আর্থিক অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা সাঈদ গাসেমিনেজাদ একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোর সদস্য বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটি ইরান সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ইরানে খার্গ দ্বীপে হামলার পরই আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা জ্বলছে ইরানের খার্গ দ্বীপে তেলক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে আমিরাতের আকাশে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে উপকূলীয় শহর ফুজাইরাহ থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। এই শহরে একটি বড় বন্দর রয়েছে, আঞ্চলিক তেল বন্দর রয়েছে। আঞ্চলিক তেল বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই তেল বন্দর। সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনালও আছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, একটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। অনলাইনে দেয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, আকাশ থেকে পড়া টুকরোর কারণে আগুন লাগে। তবে ঘটনাস্থলের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন মোকাবিলা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা দেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং দেশটির প্রায় পুরো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প আরও সতর্ক করেন যে, দ্বীপটির তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি অবকাঠামো বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর আগে ইসরাইল তেহরানের তেল ডিপোগুলোতে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান কুয়েত থেকে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে। অনেক হামলাই বড় তেল ও গ্যাস স্থাপনাকে কেন্দ্র করে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের বিশাল রাস তানুরা রিফাইনারি, কাতারের রাস লাফান গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে রুওয়াইস রিফাইনারি সংবলিত কমপ্লেক্স। . |