|
এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ফ্লাইটের ফার্স্ট ও বিজনেস ক্লাস ফাঁকা
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
ফ্রাংকফুর্ট বিমানবন্দর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী এমিরেটসের ফ্লাইটগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ভ্রমণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। দোহারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটগুলোতেও কেবিন অনেকটাই ফাঁকা দেখা যাচ্ছে। কিছু যাত্রী জানিয়েছেন, পুরো বিজনেস ক্লাস অংশে তারা একাই ছিলেন।ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণধারায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আকাশসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে ওই অঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরে পরিচালনাগত অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে ফ্লাইট সংখ্যা কমে গেছে এবং যাত্রীচাহিদাও তীব্রভাবে নেমে এসেছে। যদিও কিছু ভ্রমণকারী এখনো অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে আছেন, অনেকেই নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় দুবাই ও দোহার মতো ট্রানজিট হাব এড়িয়ে চলছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে ভ্রমণচাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এখনো চালু থাকা ফ্লাইটগুলোতেও যাত্রীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কম। চাহিদার এই পতনের ফলে বিরল এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজের প্রিমিয়াম কেবিনগুলো প্রায় ফাঁকা। ভিউ ফ্রম দ্য উইং জানিয়েছে, কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রীরা বলেছেন, পুরো ফার্স্ট ক্লাস বা বিজনেস ক্লাস কেবিনে তারা একাই ছিলেন। বহুল আলোচিত একটি উদাহরণ হলো ফ্রাংকফুর্ট বিমানবন্দর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়া এমিরেটসের একটি ফ্লাইট। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এয়ারবাস এ৩৮০ দিয়ে পরিচালিত হয়, যা সাধারণত সর্বোচ্চ ৪৬৮ জন যাত্রী বহন করতে পারে। যাত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই ফ্লাইটে মাত্র প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। অর্থাৎ উড়োজাহাজটি প্রায় ৯০ শতাংশ ফাঁকা ছিল। এমিরেটসের এ৩৮০-তে বাণিজ্যিক উড্ডয়নে সবচেয়ে বিলাসবহুল ফার্স্ট ক্লাস সেবাগুলোর একটি রয়েছে। এই কেবিনে ব্যক্তিগত স্যুইট এবং ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত দুটি অনবোর্ড শাওয়ার স্পা রয়েছে। সাধারণত এসব শাওয়ার সুবিধা ব্যবহার করতে যাত্রীদের আগে থেকে সময় নির্ধারণ করে নিতে হয়। কারণ চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু প্রায় ফাঁকা ওই ফ্লাইটে এ ধরনের সীমাবদ্ধতার প্রয়োজন হয়নি। কারণ পুরো ফার্স্ট ক্লাস কেবিনই খালি ছিল। সামগ্রিকভাবে যাত্রী কম থাকায় এসব ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাস কেবিনও অনেকটাই ফাঁকা ছিল। দোহারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। কেউ কেউ ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটের প্রায় ফাঁকা বিজনেস ক্লাস কেবিন দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের পুরো বিজনেস ক্লাস অংশটাই একজনের দখলে ছিল বলে দেখা গেছে। তবে অনলাইনে যে দাবি ছড়িয়েছে- কিছু ফ্লাইট নাকি মাত্র একজন পাইলট বা একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী ন্যূনতম ক্রু-সংখ্যা বাধ্যতামূলক, যা নির্ধারিত সীমার নিচে নামানো যায় না। অত্যন্ত কম যাত্রী নিয়ে বড় উড়োজাহাজ পরিচালনার ঘটনা অস্বাভাবিক হলেও একেবারে নজিরবিহীন নয়। নিরাপত্তা সংকট, ভ্রমণভীতি বা প্রযুক্তিগত জটিলতার মতো বড় ধরনের বিঘ্নের সময় এমন কম যাত্রীসংখ্যা দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০০০ সালের জানুয়ারিতে ওয়াই-টু-কে পরিবর্তনের সময় কিছু ফ্লাইটে হাতে গোনা যাত্রী ছিল। কারণ অনেকে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ভ্রমণ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। একইভাবে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে অনেক যাত্রী অন্য ফ্লাইটে বুকিং বদলে নিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিমান ভ্রমণপ্রেমীরা কখনো কখনো প্রিমিয়াম কেবিনে কম যাত্রী দেখতে পেলেও, পুরো ফার্স্ট ক্লাস বা বিজনেস ক্লাস অংশ একার জন্য পাওয়া স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কত দ্রুত বিমানযাত্রার চাহিদায় প্রভাব ফেলতে পারে। এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজের মতো উপসাগরীয় এয়ারলাইনগুলো সাধারণত বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত দীর্ঘপাল্লার নেটওয়ার্কগুলোর কিছু পরিচালনা করে। |