|
চাঙ্গা গ্রামীণ অর্থনীতি
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
পবিত্র মাহে রমজান শেষের দিকে। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। ঈদ কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতি। এবারের ঈদে টানা এক সপ্তাহের ছুটিতে নাড়ির টানে গ্রামে যাচ্ছে মানুষ। যে সব পরিবারের সদস্য দেশের বাইরে থাকেন, সেই সব রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে সাধ্যমত টাকা পাঠাচ্ছেন। দেশে যারা চাকরি করেন তারাও বেতন বোনাস পেয়ে বাড়িতে প্রিয়জনের কাছে টাকা পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়া সামাজিক-ধর্মীয়, কল্যাণমূলক খাতসমূহ যেমন, যাকাত, ফিতরা, দান-সাদাকাহ এসবও রোজায় বেশ কার্যকর থাকে। মানুষ গ্রামে গঞ্জে দরিদ্রদের মাঝে যাকাত, ফিতরা বিতরণ করছে। বিশেষ করে এবার একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসায় সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি বিরাজ করছে। নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রী-এমপিরা এলাকায় যাচ্ছেন। কুশল বিনিময়ের সাথে দরিদ্রদের মাঝে দান-অনুদান, উপহার তুলে দিচ্ছেন। তাদের ঘিরে বাড়তি আনন্দ উচ্ছ্¦াস বিরাজ করছে গ্রামে-গঞ্জে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অনেকটা ভাল, সন্তোষজনক। নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়ে ব্যবসায়ীরাও নবউদ্যমে বিনিয়োগ করছেন। এসব কিছুর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। বিশেষ করে গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, পোলট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খামার, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছু বেশ চাঙ্গা। গ্রাম-গঞ্জের মায়াভরা প্রকৃতির মাঝে গড়ে ওঠা ছোট ও মাঝারি ধরনের পর্যটন ও বিনোদন স্পটগুলো ঈদের ছুটিতে জমজমাট হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে এবার ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে গ্রামীণ হাট-বাজারের অবস্থা বেশ জমজমাট। সারাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা নিচে তুলে ধরা হলো।বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রত্যন্ত পল্লী-গ্রাম-জনপদে এবার আগাম ঈদের আমেজ তৈরি হয়েছে। ঈদ আনন্দের আবাহনে নতুন এবং ভিন্ন মাত্রা যোগ হতে চলেছে। পবিত্র শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা এক সপ্তাহের ছুটি শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার। তার আগেই শহর-নগর-বন্দর-শিল্পাঞ্চলে যান্ত্রিকতায় কর্মক্লান্ত জীবনের খাঁচা ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িঘরে ছুটছে মানুষ। নানান শ্রেণি-পেশা-বয়সী মানুষের সবধরনের যানবাহনে অবিরাম ছুটে চলায় একেকটি পাড়া-গ্রাম-জনপদ পরিণত হচ্ছে মিনি শহর কিংবা উপশহরে। ঈদে ম্যারাথন ছুটি ছাড়াও বাংলাদেশে ১৭ বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায়। সেই সুবাদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় মানুষের মাঝে আপাতঃ স্বস্তি প্রকাশ পাচ্ছে। সরকারি ও বিরোধীদলের নবনির্বাচিত মন্ত্রী-এমপি-নেতারা ঘন ঘন ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়। কুশল বিনিময়ের সাথে দরিদ্রদের হাতে হাতে দান-অনুদান, উপহার তুলে দিচ্ছেন। তাছাড়া এখন বসন্তের শীতল-স্নিগ্ধ অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও মোটাদাগে সন্তোষজনক। এবারে যে ঈদ আনন্দ পূর্ণতা পেতে চলেছে তার আগেভাগেই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে গ্রামীণ মানুষের ঈদ উৎসব প্রস্তুতির স্বতঃস্ফূর্ততায়। ঈদকে কেন্দ্র করে সবল ও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতি। প্রবাসী আয়ে বাড়ছেই রেমিট্যান্স প্রবাহ। বৈধ ও হুন্ডি উভয় চ্যানেলে আসছে প্রচুর রেমিট্যান্স। এর ফলে গ্রাম-জনপদে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবাতাস বইছে। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে মূলত ৮টি জেলা প্রবাসী অধ্যুষিত। বৃহত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের ৮টি জেলাসহ সারা দেশের মধ্যে প্রবাসী আয়ে রেমিট্যান্স জোগানোর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হাজার কোটি টাকা পাঠাচ্ছেন তাদের প্রত্যেক স্বজনের কাছে। রেমিট্যান্সের বড়সড় অংশই সামাজিক কল্যাণমূলক খাতসমূহ, জাকাত, দান-সাদাকাহ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসাভিত্তিক, হতদরিদ্রদের মাঝে বিলিবণ্টন এবং জনহিতকর কার্যক্রমে ব্যয় হচ্ছে। মাহে রমজানে এবং ঈদ সামনে রেখে খাতে রেমিট্যান্স বাবদ টাকার প্রবাহ আসছে ব্যাপকহারে। রেমিট্যান্স বাবদ আসা পুঁজি থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে গড়ে ওঠা হাজারো গ্রামীণ পোলট্রি, ডেইরি ফার্ম ও মৎস্য খামার, ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রামের কোলাহলমুক্ত শান্ত-সৌম্য প্রকৃতির মাঝে গড়ে ওঠা ছোট ও মাঝারি ধরনের পর্যটন ও বিনোদন স্পটগুলো ঈদের ছুটিতে জমজমাট হবে। শহুরে লোকজন অক্সিজেন রিচার্জ করার জন্য আসছেন গ্রামের সবুজ-শীতলতার খোঁজে। পর্যটকের আগমন অপেক্ষায় নতুন উদ্যমে এখন ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে পুরোদমে। গ্রামীণ অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরে রক্ত সঞ্চালনের মতোই টাকার সার্কুলেশন বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের দিনগুলোতে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি উপজেলায় প্রধান প্রধান হাটবাজার-গঞ্জের মার্কেট, বিপণিকেন্দ্রগুলো দিনে-রাতে বেচাকেনায় সরগরম। অনেক জায়গায় শহর-নগরের আদলে চোখধাঁধানো মার্কেট-বিপণিকেন্দ্র, শপিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। বৃদ্ধি পেয়েছে কেনাকাটায় ভিড় এবং ব্যস্ততা। রমজান মাসজুড়ে বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র শবে কদর এবং ঈদের ছুটিকে ঘিরে গ্রাম-জনপদের সর্বত্র হাঁস-মুরগি, ডিম, দুধ, খামারগুলোতে মাছের উৎপাদন, চাহিদা ও বেচাকেনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার ঈদে লম্বা ছুটিতে গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে নাড়ির টানে নীড়ে ফেরা ‘শহুরে মানুষেরা’ গ্রাম-জনপদে ভিড় করছেন। এতে করে সমানতালে বেড়েই চলেছে মানুষের আয়-ব্যয়, ক্রয়-বিক্রয়, চাহিদা এবং টাকার ব্যাপক সার্কুলেশন (প্রবাহ)। এর ফলে সজীব-সবল ও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে গ্রামীণ অর্থনীতি এবং গ্রামীণ জনজীবন। দেশে নির্বাচিত নতুন সরকার এসেছে। এবার ঈদ এসেছে ভিন্নরূপ নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলে। গত বছরগুলোর মত নেই কোন শংকা। এবার ঈদের ছুটিটাও বেশ লম্বা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছুটি হয়েছে। সবাই মিলে নাড়ির টানে ঘরে ফিরছে স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য। এবার ঘরে ফিরতে এখনো বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। বলা যায় ঈদ যাত্রার পথ বেশ খানিক মসৃণ। শহরগুলো বেশ ফাঁকা হচ্ছে। আর গাও-গেরামে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করে নিয়ে যাচ্ছে সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে। নগর থেকে উপজেলার মার্কেট, ফুটপাতগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। ক্রেতারা বলছেন সবকিছুর দাম এবার একটু বেশী। বড় বড় বিপনী বিতান থেকে পুটপাত পর্যন্ত ভীড় লেগে আছে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা এবার তাদের ব্যবসা ভাল হবে। ঈদ আসতে আর ক’টা দিন বাকী রয়েছে। গাঁও-গেরামের চিত্র ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। রাজধানী কিংবা জেলা শহরে যাওয়া চাকুরীজীবী, শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরছে। গ্রামে থাকা স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে গল্প গুজবে মেতে উঠেছে। মোড়ের মাচার স্থানগুলোতে বেশ জমজমাট আড্ডা চলছে। গরিব ধনী বড় অফিসার বলে কোন পরিচয় নেই। সবাই গ্রামের স্বজন। পুরানো বন্ধুদের কাছে পেয়ে একে অপরের খোঁজ-খবর আর কুশল বিনিময় চলছে। সন্ধ্যার পর ঘুমিয়ে পড়া গ্রাম যেন জেগে উঠেছে। অনেক রাত ধরে চলছে নানা কথার ঝুড়ি। কথা যেন শেষ হয়না। বিশেষ করে এ প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা গ্রামের লাউ শসার ক্ষেতে শত শত লাউ শসাসহ বিভিন্ন ফসলের দুলনী দেখে শিহরিত হচ্ছে। এখন সেলফির সময় তাই দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের ক্ষেতের সাথে নিজের ছবি তুলে পাঠাচ্ছে বন্ধু-বান্ধবদের। সব মিলিয়ে গ্রামে উৎসব আন্দের আমেজ বিরাজ করছে। জুমাতুল বিদার পর ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরছে মানুষ। গত শুক্র ও শনিবার খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ঢাকা, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রামের মতো বড়ো বড়ো নগর থেকে বগুড়ায় ফিরছে মানুষ। আগামী সোমবার পর্যন্ত অফিস আদালত খোলা থাকায় চাকুরীজীবীরা পরিবার পরিজনদের আগেভাগে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। শনিবার বিকেলে এই রিপোর্ট লেখার সময় বেশ কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, পথে ভোগান্তি বেশ কম। অনেকেই জানাল ঢাকা থেকে যাত্রা করে ৫ ঘণ্টার মধ্যেই বগুড়া ফিরতে পেরেছেন তারা। এর কারণ হিসেবে তাদের ধারণা নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে পরিবহন সিন্ডিকেট এখনতক নিয়ন্ত্রণে আছে। পরিবহনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সড়কে ঈদের আগে যাতে কোনভাবে চাঁদাবাজি, কাগজপত্র চেকের নামে হয়রানি বন্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। সূত্রটি জানায়, যাত্রী চাহিদার কারণে ঈদের আগে লক্কড় ঝক্কড় মার্কা বাস নামানো হয়। এসব পরিবহনও চালায় আনাড়ি অপেশাদার চালক। ফলে দুর্ঘটনার হার এসময় বেশি হয়। এছাড়া টিকেট কাউন্টারগুলোতে চলে কালোবাজারি। এসব প্রতিরোধে পুলিশের আর্মড ব্যাটেলিয়ন সদস্যদের কাজে লাগানো উচিত বলে মন্তব্য তাদের। ইতোমধ্যেই গ্রাম এলাকায় স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশে এবং একইসাথে নির্বাচিত একটি সরকার থাকায় সামাজিক পরিবেশ এখন অনেক অনুকূল। মন্ত্রী ও এমপিরাও নিজনিজ নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থাকার বিষয়টিও ঈদ আনন্দকে এবার ভিন্ন মাত্রা দেবে বলেও মনে করা হচ্ছে। ঈদ উল ফিতরকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী অর্থনীতির পালে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে অনেক কর্মজীবী মানুষ হৃদয়ের টানে ঘরমুখী হতে শুরু করেছেন। ফলে বরিশাল বিভাগের ৪২ উপজেলার পৌনে ৪শ ইউনিয়নের দেড় সহস্রাধিক গ্রামে এখন ঈদের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। বরিশাল মহানগরী থেকে জেলা উপজেলা হয়ে সুদূর পল্লী এলাকার ঘরে ঘরে ইতোমধ্যে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আগামী ১৭ মার্চ থেকে সরকারী ছুটি কার্যকর হলে কর্মজীবী পরিবারের মানুষও ঘরে ফিরতে শুরু করবেন। অনেকেই আবার ঈদের ভিড় এড়াতে আগেভাগে পরিবার পরিজনকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এসব পরিবার গ্রামের বাড়িতে ফিরে বিভিন্ন মসজিদে ইফতার মাহফিলসহ সদকা জাকাত দিতে শুরু করায় হত দরিদ্র মানুষের হাতেও কিছু টাকা পয়সা আসতে শুরু করেছে। আর অনেকদিন পরে শেকড়ের টানে ঘরে ফেরা পরিবারগুলো গ্রামে ফিরে আসার সাথে হাটে-বাজারে নিত্যপণ্যসহ ঈদের কিছু কেনাকাটা করায় পল্লী এলাকার অর্থনীতিতে প্রাণের সঞ্চার হচ্ছে। ১৭ মার্চের পরে পরিস্থিতির আরো ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন বন্দর ও গঞ্জের ব্যবসায়ীগণও। ঈদের বাজারে পা ফেলার জায়গা নাই। দোকানে ক্রেতাদের বসার জায়গা নেই। বিক্রেতাদের খাওয়ার সময় নেই। এই হচ্ছে দিনাজপুর শহর, উপজেলা শহরগুলোর বাজারের চিত্র। ব্যবসায়ীরা এবার হোঁচট খেয়েছে। মালামাল স্টক নেই। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ইরি-বোরো রোপণের মওসুম-আলুর দাম নেই তারপরও গ্রামের মানুষেরা দল বেঁধে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাজারে নেমেছে। হাত খুলে খরচ করছে। সাধারণত ঈদের এক সপ্তাহ বাকি থাকতে কসমেটিক্স জুতা স্যান্ডেলের দোকানে ভিড় দেখা যেত। এবার ১০ দিন আগে দোকানিদের স্টক শেষ হয়ে গেছে। এত টাকা এলো কোথা থেকে। এর কোনো উত্তর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সবকিছু দেখে অনুভব করা যাচ্ছে আহা কি আনন্দ। দাম কম বেশি যাই হোক ক্রেতা-বিক্রেতা কারোরই কোনো অভিযোগ নেই। এক অভিভাবককে জিজ্ঞাসা করতেই হাসতে হাসতে বললো ভাই আর যা কিছুই হোক বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছি। নতুন সরকার এসেছে নির্বাচনের আগে যা যা ওয়াদা করেছে শুরুতেই তা পূরণ করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সামনে ভালো ছাড়া খারাপ কিছু নাই। তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপি হাতে গোনা কিছু ভূমি দস্যু ও চাঁদাবাজদের দমন বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেই জনগণ শান্তিতে থাকতে পারবে। নতুন সরকারের আমলে সড়ক মহাসড়কের যানজট না থাকায় বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে আসন্ন ঈদ পরিপূর্ণ উৎসবে রূপ নিচ্ছে। এলাকায় এমপি-মন্ত্রীরা অবস্থান করায় গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। এ এক অন্যরকম উৎসবমুখর পরিবেশ। রমজানের শেষে শুরু হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঘরে ফেরার আয়োজন। খুলনা অঞ্চলের পাড়ায়-মহল্লায় এবং গ্রামেগঞ্জে ইফতার মাহফিল, স্থানীয় এমপি মন্ত্রীদের আনাগোনা গোটা গ্রামীণ অর্থনীতি করেছে সমৃদ্ধ। সূত্র মতে, সড়ক মহাসড়ক এবার যানজট নেই বললেই চলে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করায় সুফল পেতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের আমজনতা। শহরের বিপণী-বিতানগুলো এবং গ্রামে গঞ্জের হাটবাজারে রোজার শেষ সময়ে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেনাকাটায় ধুম পড়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা সৌহার্দ্যরে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সর্বত্র। সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রতিদিন দুস্থ অসহায়দের মাঝে ইফতার, ঈদ সামগ্রী, যাকাতের লুঙ্গি-শাড়ি, সেমাই চিনি বিতরণ। এসব উপহার পেয়ে ঈদের আনন্দ ও স্বস্তি ফিরেছে অনেক অসহায় ও দুস্থ পরিবারে। দোকানীরা বলছে, খুলনায় বিগত দুটি ঈদে তেমন বেচাকেনা ছিল না। সরকার গঠনের পর এবার ঈদে বেচাকেনা অনেক বেড়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এবছর যাকাতের কাপড় বিক্রি বেশ ভালো। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন উপলক্ষে খুলনায় প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় ঈদ সামগ্রী ও যাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি দেয়ার ধুম পড়েছে। যা স্থানীয় নির্বাচনে অনেকটা প্রভাব ফেলে। এর ফলে শহর থেকে শুরু করে গ্রামে কিছু না কিছু ঈদ উপহার অধিকাংশ নিম্নবিত্তরা ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। নতুন সরকার গঠন ও আসন্ন স্থানীয় নির্বচনের ফলে এবার খুলনায় ঈদ হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশে। অর্থনৈতিক ভাবে চাঙ্গা হয়েছে সব সেক্টর। ঈদ সামনে রেখে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে কুমিল্লার গ্রামীণ অর্থনীতি। রেমিট্যান্স, চাকরির বেতন-বোনাস ও কৃষিতে ফলন ও বিক্রিমূল্য সঠিকভাবে পাওয়ায় ঈদকে ঘিরে গোটা কুমিল্লায় এখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। রোজা ও ঈদ কেন্দ্র করে কুমিল্লার বাজারে বেড়েছে টাকার প্রবাহ। এদিকে ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় মন্ত্রী, এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের এলাকাতে যাতায়াত ও অবস্থান বেড়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঈদ উৎসবের আমেজ ও কেনাকাটা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিপুল লোকসমাগম ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে হাট-বাজারের কেনাকাটা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। এবারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সময়ে প্রথম ঈদ উদযাপন হচ্ছে। এখানেও ব্যাংকমুখী মানুষের লেনদদেনের ক্ষেত্রে আস্থা তৈরি হয়েছে। আর এই লেনদেনের প্রভাব পড়ছে ঈদের কেনাকাটায়। শহরের তুলনায় কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় গ্রামীণ জনপদের অসংখ্য লোকজন প্রবাসে চাকুরী করছে। এবারের ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীদের প্রচুর রেমিট্যান্স এসেছে স্বজনদের কাছে। রেমিট্যান্স গ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর শাখা ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন প্রবাসীরা প্রচুর টাকা পাঠাচ্ছেন। প্রবাসীদের পরিবার পরিজন তা উত্তোলন করে কেনাকাটা করছেন। যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। ঈদের বাজারে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে বেচাবিক্রি ও কেনাকাটা। গত বছরের তুলনায় এবারে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরো বেশি বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকরা। এছাড়াও গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি, চাকুরী নির্ভরতা ঈদের বাজারে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাকুরীজীবীরা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-বোনাস পেয়েছেন। আবার ভালো ফলন ও কৃষিপণ্য বিক্রি করে কৃষকের হাতের টাকা হাত ঘুরে রোজা এবং ঈদের বাজারে খরচ হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানান, রোজার মাসের বাজার সদাই ছাড়াও ঈদের কেনাকাটায় বাজারে টাকার যোগান বেড়েছে। প্রচুর টাকা হাতবদল হচ্ছে। এটা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি এনেছে। ঈদকেন্দ্রিক মানুষের ক্ষয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের প্রভাব গ্রামীণ জনপদেও পড়েছে, যা সেখানকার অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, কুমিল্লায় ঈদকেন্দ্রিক বেচাবিক্রি ঘিরে অর্থনীতিতে যে গতিশীলতা এসেছে ব্যবসায়ীরা এটির বেশ ভালো সময় জুড়ে সুফল পাবেন। গফরগাঁও পৌরসভাসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ছোট-বড় হাটবাজারে ঈদ সামনে রেখে কেনাকাটায় জমজমাট অবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন দোকানে এখন ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে এবং ঈদের বাজার পুরোপুরি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষের মাঝেও ঈদের আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ১৭ বছর পর বিএনপি সরকারের আমলে এটি প্রথম পবিত্র ঈদুল ফিতর হওয়ায় মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় সব ধরনের দোকানপাটে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে কেনাবেচা চলছে। উপজেলার ৩ নম্বর চরআলগী ইউনিয়নের কৃষক মো. মুশিদ মিয়া জানান, এবার তুলনামূলকভাবে গ্রামগুলোতে আগেভাগেই ঈদের আমেজ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন ট্রেন ও সড়কপথে যানবাহনে প্রচুর ভিড় দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে অনেকেই সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন ঈদ উদযাপন করতে। গফরগাঁও মধ্যবাজারের ঐতিহ্যবাহী বারী প্লাজা মার্কেটের মালিক মো. আজিজুল হক বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারই প্রথম বাজারে কেনাকাটার এমন ধুম পড়েছে। গফরগাঁও বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা মো. গোলাম তাহাভী বলেন, “ঈদের মার্কেট করতে বাজারে এসেছি। পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করছি। এবার বাজারে কেনাকাটা করতে ভালো লাগছে। মানুষের মধ্যে তেমন অভাব-অনটনের দৃশ্য নেই, সবার মুখে এখন ঈদের আনন্দ।” প্রসঙ্গত, ঈদকে সামনে রেখে গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে এবং ব্যবসায়ীদের মাঝেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। |