|
পুতিনের দূতের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক, ইউরোপীয় নিরাপত্তা চুক্তির আভাস
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের জন্য এমন একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যা সমগ্র ইউরোপকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাশিয়ার একজন শীর্ষ দূতের সঙ্গে বৈঠকের পর এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তবে এই প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ না থাকায় ইউরোপীয় দেশগুলো বেশ বিভ্রান্তিতে পড়েছে। কোনো বিস্তারিত বিবরণ ছাড়াই বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত বিশাল একটি বিষয়। এটি কেবল ইউক্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এমনকি আমি এও বলতে পারি যে এটি সমগ্র ইউরোপকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এটি একটি বিশাল ও সুন্দর চুক্তি হতে যাচ্ছে এবং এতে সবাই রোমাঞ্চিত হবে।’ অতীতে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য একাধিকবার চুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূত হিসেবে কাজ করা কিরিল দিমিত্রিভের সঙ্গে বৈঠকের পর এই মন্তব্য করেন। দিমিত্রিভ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম তহবিল সিইও, এ তহবিলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দখলকৃত ইউক্রেনীয় গ্রাম ওলেশকিতে গত সপ্তাহের সফল যুদ্ধবিরতি উদযাপনের উদ্দেশ্যে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে উপস্থিত ছিলেন কিরিল দিমিত্রিভ। মেলানিয়া ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সেখানে একত্রিত করেছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান যে তিনি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করেননি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনোস্কির সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বিরোধের পর ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার জন্য তাঁর প্রচেষ্টাকে নতুন করে জোরদার করেছেন। ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান সমর্থক জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ-এর সঙ্গে কথা বলেন। জার্মানির একজন সরকারি কর্মকর্তা এই ফোনালাপের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালেও বলেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের উত্থাপিত নতুন ধারণাগুলো বিগত মাসগুলোর আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি। ট্রাম্প অন্য কোনো ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন কিনা তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এদিকে, ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট নিশ্চিত করেছেন যে আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আগে গত বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ন্যাটো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং ইইউ ও ইউরোপীয় সমকক্ষদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। হার্ট বলেন, ‘বৈঠকটি ইউক্রেন যুদ্ধের একটি ন্যায্য ও টেকসই অবসানের পথকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।’ তবে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি। কিন্তু এত সব প্রতিশ্রুতির পরও যুদ্ধ এখনও পুরোদমে চলছে। পুতিন ইউক্রেনের কাছ থেকে তাঁর সর্বোচ্চ দাবিগুলো বজায় রেখেছেন; যার মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের সমগ্র পূর্ব ডনবাস অঞ্চলের ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আকার কমানো এবং ন্যাটোর যোগদানের বিষয়ে কিয়েভের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা। তবে কিয়েভের মতে, পুতিনের এই রেড লাইন বা শর্তগুলোই প্রমাণ করে যে তিনি কোনো শান্তি চুক্তির আলোচনা নিয়ে মোটেও আন্তরিক নন। এদিকে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি বিবৃতি পোস্ট করে যুক্তি দেখান যে, ‘সব পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো দূর করতে, ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে এবং একটি আরো স্থিতিশীল ও অনুমানযোগ্য নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি করতে একটি বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো প্রয়োজন।’ কুশনার তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপ এবং রাশিয়া একটি টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হিমশিম খাচ্ছে। কয়েক দশকের অবিশ্বাস, পারস্পরিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং এই যুদ্ধের বিধ্বংসী পরিণতি এটিকে একটি অসাধারণ কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে।’ তিনি আরো যোগ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইউক্রেন, ন্যাটো এবং অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তবে এই সংঘাতের বিষয়ে অবগত বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প আসলে কী নির্দেশ করছেন সে সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না। সূত্র : সিএনএন |