|
বনানী থানা বিএনপিতে মূল্যায়নের অপেক্ষায় রাজপথের চার কাণ্ডারী
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
|
বিগত ষোল বছরের জেল-জুলুম, হুলিয়া আর পুলিশি নির্যাতন কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাঁদের। রাজপথের প্রতিটি রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে ছিলেন সামনের সারিতে। অন্যায় ও অনৈতিক সুবিধার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আগলে রেখেছেন দলীয় আদর্শ। তবুও নীরব, নিঃস্বার্থ ও প্রচারবিমুখ হওয়ায় এখনো কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাননি তারা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বনানী থানার অন্যতম চার নিবেদিতপ্রাণ কর্মী—সহিদুল আলম হিরু, মিজানুর রহমান বাঘমার, নাফি আহমেদ এবং হাসান আল মামুন অপুকে ঘিরে এখন এমনই আবেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।তৃণমূলের ভাষ্যমতে, বর্তমান রাজনীতিতে যখন পদ-পদবি ও ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিযোগিতা প্রবল, তখন বনানী থানা বিএনপির এই চার নেতা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাসী কিংবা কোনো ধরনের অপকর্মের ন্যূনতম দাগ নেই। স্বৈরাচারী শাসনের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে রাজপথ কাঁপানো এই নেতাদের নামে কখনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠেনি। সংগ্রামের দূরদিনগুলোতে রাজপথের সাহসী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পান সহিদুল আলম হিরু ও নাফি আহমেদ। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে একের পর এক মামলা ও কারাবরণ সত্ত্বেও তারা রাজপথে ছিলেন আপসহীন। গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানকালে ফার্মগেট মোড়ে পুলিশের গুলিতে বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ করেন শহীদ মো. গোলাম নাফিজ। এই বীর শহীদ আর কেউ নন, বনানী থানা বিএনপির লড়াকু কর্মী নাফি আহমেদেরই আপন ভাতিজা। রাজপথের রক্তক্ষয়ী এ লড়াইয়ে বিএনপি ও শহীদ পরিবারের যে আত্মত্যাগ, তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী নাফি আহমেদ। সহিদুল আলম ও নাফির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথের শক্তি বৃদ্ধি করেছেন মিজানুর রহমান বাঘমার ও হাসান আল মামুন অপু। বিশেষ করে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রচার-প্রচারণা, ভোটার স্লিপ বিতরণসহ প্রতিটি কাজ নিখুঁত ও সততার সাথে সম্পন্ন করে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়ান তারা। রাজনীতি করতে গিয়ে গত ১৬ বছরে তারা হারিয়েছেন অনেক কিছু। স্বৈরাচারের নিপীড়নে তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হুমকির মুখে পড়েছে পরিবার-পরিজন ও সম্পত্তি। প্রবীণ গুলশান থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এক আলোচনা সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "উনারা চাইলে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবার নিয়ে সুখে থাকতে পারতেন। কিন্তু শহীদ জিয়ার আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ আঁকড়ে ধরে রাজনীতিকে ভালোবাসার এক অদ্ভুত নেশায় নিজেদের সঁপে দিয়েছেন। তারা দল থেকে কখনো কিছু চাননি, শুধুই দিয়ে গেছেন। কিন্তু আত্মসম্মানবোধের কারণে মুখ ফুটে নিজের প্রাপ্তির কথা না বলায় আজ তারা অবহেলিত।" বনানী থানার সাধারণ নেতা-কর্মীদের দাবি, দল যখন রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও নতুন ধারার রাজনীতি বিনির্মাণের পথে এগোচ্ছে, তখন এমন পরিচ্ছন্ন ও পরীক্ষিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা দলের নৈতিক দায়িত্ব। রাজপথের এই চার কাণ্ডারী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নে হতে পারেন সবচেয়ে বিশ্বস্ত হাতিয়ার। প্রবীণ ও নবীন কর্মীদের একবাক্যে দাবি—স্বার্থপর ও সুযোগ সন্ধানীদের ভিড়ে এই নিঃস্বার্থ বীরদের প্রাপ্য মর্যাদা বুঝিয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। |