|
বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বরাজনীতি
রায়হান আহমেদ তপাদার:
|
আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনে স্নায়ুযুদ্ধ অত্যন্ত সুপরিচিত মেয়াদ।যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ওয়াল্টার লিপম্যান সংবাদপত্রে প্রথম স্নায়ুযুদ্ধ শব্দটি ব্যবহার করেন। এ শব্দের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সন্দেহ, অবিশ্বাস ও ভীতির কথা উল্লেখ করেছিলেন। সাধারণ অর্থে স্নায়ুযুদ্ধ বলতে সরাসরি প্রথাগত যুদ্ধে অবতীর্ণ না হয়ে একে অপরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক কিংবা ভিন্ন আঙ্গিকে পরাজিত করার কৌশলকে ইঙ্গিত করা হয়। নিঃসন্দেহে বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী অর্থাৎ চল্লিশ দশকের শেষ লগ্ন থেকে শীতল যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। যা নব্বই দশকের প্রথম দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের উপসর্গ লক্ষণীয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিশ্বে এক নতুন ধারার মেরুকরণ ঘটেছিল, যা ১৯৯০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। একদিকে ছিল আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের জোট, ন্যাটো এবং অন্যদিকে ছিল রাশিয়ার নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর জোট, ওয়ার্সো প্যাক্ট।এর বাহিরে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন নামের একটি জোট গড়ে উঠেছিল মূলত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সমন্বয়ে, যাদের উদ্দেশ্য ছিল এই দুই শক্তিশালী বৃহৎ সামরিক জোট থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা। ওই সময় ন্যাটো জোট এবং ওয়ার্সো জোটের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করেছে, যা ঠাণ্ডা যুদ্ধ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ওয়ার্সো প্যাক্ট অকার্যকর হয়ে যায় বৃহত্তর রাশিয়া (ইউএসএসআর) ভেঙে যাওয়ার মাধ্যমে। এই কাজে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছিল তৎকালীন বৃহত্তর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্ভাচেভ, যাকে পরবর্তী সময়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়। ওয়ার্সো জোট ভেঙে যাওয়ার পর জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনও কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে এবং নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সমগ্র বিশ্ব আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্যে চলে যায়, যেখানে পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থান কাগজে-কলমে থাকলেও মূলত আমেরিকাই প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে। বিশ্বে দেখা দেয় একমুখী মেরুকরণ, যা চলতে থাকে পরবর্তী তিন দশক এবং এখনো চলছে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকা নির্বিচারে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করে, যা বিশ্বে আবার নতুন মেরুকরণের সূচনা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে এই নতুন মেরুকরণের কাজে ভালো গতি আনতে পেরেছেন। আমেরিকার শত্রু-মিত্র-নির্বিশেষে সব দেশের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে এক ধরনের বাণিজ্য উত্তেজনা সৃষ্টি করে চলেছেন, তাতে সব দেশ, এমনকি আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র দেশও আমেরিকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এতটাই তিক্ত এবং নাজুক যে বিশ্বের দুটি বৃহৎ অর্থনৈতিক জোট, গ্রুপ-৮ এবং গ্রুপ-২০ কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আমেরিকার নর্থ ক্যারোলাইনায় গ্রুপ-২০ বা জি-২০ সদস্য রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলন যেভাবে অনুষ্ঠিত এবং শেষ হয়েছে, তাতে এমনটা ধারণা করাই স্বাভাবিক। জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনটি ছিল মূলত আগামী শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভা, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি ব্যাপক আলোচনা, উত্তপ্ত যুক্তিতর্ক এবং রেষারেষির আলোচনায় পর্যবসিত হয় এবং কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সভাটি শেষ হয়। এই সম্মেলনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ এবং সংকটের বিষয় উঠে এসেছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: বিশ্বব্যাপী মুদ্রা ও বন্ড মার্কেটে অতিরিক্ত সরকারি হস্তক্ষেপ এবং ব্যাপক বিক্রয় চাপ, উচ্চ শুল্ক নিয়ে সৃষ্ট বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, অসম বাণিজ্য ঘাটতি, এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সার্বভৌম ঋণ বা সোভারেইন ডেট। আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে সম্মেলন যথেষ্ট সফল হয়েছে। কিন্ত কানাডা-আমেরিকার মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা আকস্মিক ভেঙে যাওয়ার ফলে যেভাবে পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে জোরপূর্বক লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা গ্রুপের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সার্বভৌম বা রাষ্ট্রীয় ঋণ একটি বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে বিশ্বনেতাদের কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এই বিশাল অঙ্কের সার্বভৌম ঋণ বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার প্রতি বড় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে, যদি সঠিক সময়ে বিষয়টি সমাধান না করা হয়। এআই হচ্ছে এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, অথচ এটি নিয়েও বিশ্বে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট কোনদিকে যাবে এবং কিভাবে এর ইতি টানা যায়, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। অথচ এসব বিষয় নিয়ে সম্মেলনে ফলপ্রসূ কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের খবর সেভাবে সংবাদমাধ্যমে আসেনি। অন্যদিকে এই সম্মেলনে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী অ্যানটন সিলুয়ানভকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীরা ভালোভাবে নেননি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র থেকে উপস্থিত সব অর্থমন্ত্রী আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে যথেষ্ট হতাশ এবং বিরক্ত হয়েছেন। তাঁরা ভাবতেই পারেননি যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সন্তোষজনক সমাধান না হওয়া সত্ত্বেও এভাবে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়াকে জি-২০ এবং জি-৮ কোনো সম্মেলনেই আমন্ত্রণ জানানো হয় নি। ওদিকে চীনের প্রতি আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের বক্তব্যও এক ধরনের তিক্ততার জন্ম দিয়েছে। এই সম্মেলনে বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে লিপ্ত দেশের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা স্যাংশন দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, যা মূলত চীনকে লক্ষ্য করেই বলা হয়েছে। কেননা এই মুহূর্তে চীন হচ্ছে ইরানের সবচেয়ে বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার।এবারের জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলন এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে। ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কের কারণে বাণিজ্য উত্তেজনা তো প্রশমিত হয়নি, উল্টো কানাডা-আমেরিকা আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় এই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এআই নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আরেক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এআই খাতে আমেরিকা এবং চীন এত দূর এগিয়ে গেছে যে অন্য সব দেশ, এমনকি অনেক উন্নত দেশও বেশ পিছিয়ে পড়েছে। ফলে এই খাতে একদিকে যেমন ব্যাপক বিনিয়োগ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে তেমনি এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতা এরই মধ্যে সৃষ্টি হয়ে গেছে। ওদিকে পশ্চিমা বিশ্বের বিপরীতে যে ব্রিকস জোট গড়ে উঠেছিল, তার ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন মাত্রই শেষ হয়েছে। এই শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এই জোটও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরো অধিকতর সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের অবস্থান নতুনভাবে শক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্যে তারা ইউরোপের বাইরের দেশকেও সদস্য হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কানাডাকে সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা পূর্ণ সদস্য হওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ। যদি কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হয়েই যায়, তাহলে এটি অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্রের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেখা যাবে তখন অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্র, যেমন:সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হতে শুরু করেছে। যদি এ রকম অবস্থার সৃষ্টি হয়, সে ক্ষেত্রে আমেরিকা কিছুটা সাইডলাইনে চলে যাবে এবং তখন তারাও অন্যান্য দেশ নিয়ে আরেকটি নতুন জোট গঠনের দিকে যেতে পারে। কেননা, বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশের পক্ষে একক প্রচেষ্টায় খুব বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়, তা সেটি যত শক্তিশালী দেশই হোক না কেন। ভবিষ্যতে আসলেই বিশ্ব নতুন মেরুকরণের দিকে যাবে, নাকি জি-২০ আরো শক্তিশালী হয়ে সব ধরনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, তা পরিষ্কার হয়ে যাবে আগামী ডিসেম্বর মাসে, যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে জি-২০ রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সদস্য রাষ্ট্রদের মধ্যে সৃষ্ট চরম অবিশ্বাস, বিরোধ এবং একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা গ্রহণের মতো অবস্থার যদি সমাপ্তি না ঘটে, এই গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে যদি সম্পর্কের উন্নতি না হয় এবং সেই সঙ্গে যদি এই গ্রুপের মধ্যে একে অন্যের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার মতো সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত না হয়; তাহলে শুধু জি-২০ কেন, জি-৮ও কার্যকারিতা হারাবে। ফলশ্রুতিতে ব্রিকস তার আপন গতিতে এগিয়ে যাবে এবং পশ্চিমা বিশ্বের বিপরীতে এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ব্রিকস মূলত বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার জোট, যেখানে থাকবে এমার্জিং মার্কেটের পুরোটাই। এমার্জিং মার্কেটের সম্ভাবনা সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে আগামী দিনের বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তিই হবে এই এমার্জিং মার্কেট। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের নিজস্ব বলয় ও শক্তি নিয়ে আরো বৃহত্তর পরিসরে চলা শুরু করবে। বর্তমান বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলো একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেসব পরাশক্তি দেশ বিংশ কিংবা একবিংশ শতাব্দীতে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, তারা প্রত্যেকে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইতিমধ্যে পারমাণবিক শক্তিধর ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি দেশ পারমাণবিক উত্তেজনা প্রশমনে একমত হয়েছে। কিন্তু একে অপরকে দমিয়ে রাখার প্রচেষ্টা বর্তমানের মতো ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে তা অনুমেয়। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ত্রিদেশীয় অকাস চুক্তি। কিংবা জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি হচ্ছে এশিয়া অঞ্চলে চীনকে চাপের মধ্যে রাখার পরোক্ষ কৌশল। অপরদিকে ইউরোপ অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোকে ব্যবহার করবে তা অনেকাংশে নিশ্চিত। প্রসঙ্গত যে, বর্তমান ইউরোপের ইউক্রেন এবং রাশিয়া সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে মস্কো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইউক্রেন সীমান্তে ন্যাটোর উপস্থিতি মেনে নেবে না রাশিয়া। কার্যত বিবদমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও ঐকমত্যে পৌঁছায়নি কোনো পক্ষ। অর্থাৎ ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়া ছাড় দিতে নারাজ, যা মস্কোর আগ্রাসন সামরিক নীতির বহিঃপ্রকাশ। তবে নিকট ভবিষ্যতে সময় বলে দেবে, ইউরোপের বিবদমান সমস্যা কোন দিকে মোড় নেয়। লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক, লন্ডন থেকে |