|
বানিজ্য সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতা
রায়হান আহমেদ তপাদার :
|
শুল্ক আরোপ ও সুরক্ষামূলক নীতির মাধ্যমে পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এখন বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চলেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিশোধ, মূলধনের প্রবাহ এবং বিনিময় হার নির্ধারণ সবই একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে ঘটে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতি মনে করিয়ে দেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার ইতিহাসের প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়কাল এবং সেই সময়ের অর্থনৈতিক পরাশক্তিদের প্রতিবেশীকে দরিদ্র করার নীতিমালার কথা। যুদ্ধান্তরকাল সময়কালে অনেক অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিনিময় হারের অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছিল। মুদ্রা প্রবর্তন স্বর্ণ দ্বারা সমর্থিত ছিল না এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বতন্ত্র মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছিল। এ সময়কাল ছিল বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যযুদ্ধ, অতি মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং জোরপূর্বক মুদ্রার অবমূল্যায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অর্থনীতিগুলো ১৯৩০-এর মহামন্দার মুখোমুখি হয়, যার ফলে তীব্র অর্থনৈতিক অস্থিরতা, নিম্ন মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাপক হারে বেকারত্ব দেখা দেয়। মার্কিন নেতৃত্বাধীন বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়াগুলো কি আমাদের আবার সেই অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে? বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এ অবস্থায় সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি কী হতে পারে সেটিও ভেবে দেখার সময় এসেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য আবার এক বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এবার আর বিষয়টি কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা বা সম্ভাবনার সমীকরণ নয়, ঘোর বাস্তবতা। লোহিত সাগর উপকূলে কয়েক বছরের মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য দেখিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি বৃহৎ ও ক্ষুদ্র হানিশ দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তারা এখন মোখা শহরের দিকে এগোচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের এক দশক পুরোনো গৃহযুদ্ধ নতুন করে জ্বলে উঠেছে। একই সঙ্গে স্বাক্ষর করার মাত্র এক মাসের মাথায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কেও ফেলেছে তাদের প্রথম বাস্তব পরীক্ষার মুখে। এ চুক্তির মূল কথাটি বেশ স্পষ্ট-তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। পাকিস্তান শুরু থেকেই বলে আসছে, চুক্তিটি নিছক আত্মরক্ষামূলক; কোনো যুদ্ধে জড়ানোর দাওয়াত নয়। এত দিন বিষয়টিকে কেবল কথার কথা মনে হলেও এখন তা আর কূটনৈতিক পরিভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইসলামাবাদকে এখন বাস্তবে প্রমাণ করে দেখাতে হচ্ছে-তাদের এ অবস্থান আসলে কী বোঝায়।হুতিদের অগ্রযাত্রার জবাবে গত দুই সপ্তাহে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে সৌদি আরব; পাঁচ দিনে করেছে প্রায় ৩০০টি বিমান হামলা। সীমান্তের দুই পারেই বাড়ছে প্রাণহানি। যুদ্ধের এই উত্তাপ সৌদি তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় ১৬ সেপ্টেম্বর। ওই দিন মক্কা অভিমুখে আসা একটি হুতি ড্রোন আকাশে ধ্বংস করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মক্কার আধ্যাত্মিক গুরুত্বের কারণে এই শহরের প্রতি যেকোনো হুমকিকে সর্বোচ্চ লাল দাগ হিসেবে দেখে রিয়াদ। পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া আসতেও সময় লাগেনি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইসলামাবাদ চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালনে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, ‘মক্কা চুক্তি আমাদের ওপরও কার্যকর হয় এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।’খাজা আসিফ মুখে যা-ই বলুন না কেন, এখানেই মূল খটকা-কথা ও কাজের পার্থক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আসল গল্প। আর এ বিষয়টিই আমাদের প্রশ্নের মূল উত্তর খুঁজে দেবে। ১০ সেপ্টেম্বরই পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবছে না তারা; আপাতত নজর থাকবে কূটনীতিতেই।এমনকি ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া তথ্যমতে, তুর্কি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে চুক্তির আওতায় রিয়াদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্যই চায়নি। তবে ভেতরে-ভেতরে রিয়াদ হাত বাড়াচ্ছে অন্যদিকে।আপাতত ওমান ও মিসরই মূল কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ করছে। সৌদি কর্মকর্তাদের ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে, সরাসরি অন্য পথ ধরার আগে কূটনীতিকে আরও একটু সুযোগ দিতে চান তাঁরা।ধীরগতিতে হাঁটার জন্য তুরস্কের অবশ্য নিজস্ব অজুহাত আছে। অক্টোবরের আগে তুর্কি সংসদে চুক্তিটি অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে আঙ্কারার মনে যা-ই থাকুক, তাদের চুক্তিটি এখন আইনি জটিলতার গ্যাঁড়াকলে ঝুলে আছে।তবে এই কালক্ষেপণ একদম নিখরচায় হচ্ছে না। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিকল্প সমীকরণ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে সৌদি আরব। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে হুতিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলার জন্য দুবার আহ্বান জানান বলে জানা গেছে। ট্রাম্প সরাসরি হামলা চালাতে না করলেও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। রিয়াদ নাকি এখন ইসরায়েল ও ব্রিটেনের দরজাতেও নাড়া দিচ্ছে; কারণ, চুক্তির সঙ্গীদের থেকে সময়মতো কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।স্টিভেন এ কুকের মতো অনেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক এখন প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলছেন, চুক্তির পর সামরিক কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সই করার এক মাসের মধ্যেই চুক্তিটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ল কি না। সমস্যার মূল জায়গাটি ঠিক এখানেই-ইসলামাবাদ যেটিকে তাদের দায়িত্বশীল সংযম হিসেবে দেখতে চাইছে, রিয়াদের চোখে তা একাকী ফেলে রেখে যাওয়ার শামিল। প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা বাস্তবে যেমন দেখাচ্ছে পাকিস্তান কিছুই করেনি-এমনটা বলা অবশ্য পুরোপুরি ঠিক হবে না। চলমান সংকট শুরুর অনেক আগেই সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অধীন পাকিস্তানের প্রায় ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং সেনাসদস্য সৌদি ভূখণ্ডে রাখা আছে।একদিকে রিয়াদের প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে হুতিদের লাগাম টানতে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে ইসলামাবাদ ব্যবহার করছে চ্যানেলটি। এই মুহূর্তে ময়দানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর চেয়ে নেপথ্যের এই কূটনীতি হয়তো অনেক বেশি কাজ দিচ্ছে।মক্কা চুক্তির ঘোষিত উদ্দেশ্যগুলোও যেমন যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামরিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা-প্রথমটিকে সমর্থন করে, কিন্তু দ্বিতীয়টির বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না।সামরিক পরিকল্পনা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের যেমন সুগভীর সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক সম্পর্ক রয়েছে, ঠিক তেমনই প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গেও ইসলামাবাদকে একটি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয়। কোনো অবস্থাতেই ইয়েমেন যেন সৌদি-ইরান সরাসরি যুদ্ধের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে কড়া নজর পাকিস্তানের। আর ঠিক এ কারণেই আসিম মুনির ও আব্বাস আরাগচির এ কূটনীতি এত তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের ভূমিকার দিকেও নজর রাখা দরকার। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজে হুতিদের হামলা কমাতে ইরানের ওপর চাপ তৈরি করেছিল চীন, হুমকি দিয়েছিল বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার। বৈশ্বিক বাণিজ্যে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন প্রণালিগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করলে বেইজিং যে আবারও একই ধরনের উদ্যোগ নেবে, তা বলা বাহুল্য। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান সম্পর্কের বরফ গলার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে সংকট কাটাতে মধ্যস্থতা- কারীর ভূমিকায় বেইজিং বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, বিভিন্ন দেশের স্বার্থের হিসাব এক রেখায় মিলছে না ঠিকই, তবে সেগুলোর কোনোটিই নতুন কোনো যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। সৌদি আরব চায় তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। ইরান চায় অঞ্চলে তার রাজনৈতিক প্রভাব টিকিয়ে রাখতে।চীনের দরকার বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা। পাকিস্তান চায় সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেই ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সংঘাত এড়িয়ে চলতে। আর তুরস্ক চায় এ অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক ওজন বাড়াতে, যদিও সংসদীয় অনুমোদনের কারণে তারা এখন কিছুটা ধীরগতিতে হাঁটছে। লক্ষ্য ভিন্ন হলেও ওমান-মিসরের মধ্যস্থতা থেকে শুরু করে মুনির-আরাগচি যোগাযোগ স্পষ্ট করে, সব পক্ষই আপাতত পরিস্থিতিকে এই সীমিত পরিসরেই সামাল দিতে আগ্রহী। ইয়েমেন সংকটের একটি পাকিস্তানি দিকও রয়েছে, যা সাধারণত আলোচনায় কমই আসে। বাব আল-মানদেব প্রণালিটি সরাসরি গিয়ে মিশেছে আরব সাগরে। তার মানে জিন্নাহর করাচি বন্দর, সিপেকের প্রাণকেন্দ্র গওয়াদর কিংবা পাকিস্তানের নিজস্ব সমুদ্রসীমা মোটেও ইয়েমেন সংকট থেকে খুব একটা দূরে নয়।লোহিত সাগরে টানা জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য পরিবহন খরচ ও ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম একলাফে অনেক বেড়ে যায়, যা বিকল্প বাণিজ্যিক পথ খোঁজার তাগিদ তৈরি করে। সিপেকের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গওয়াদর বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বাড়ায় বটে, তবে একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মনে ঝুঁকিও তৈরি করে। কিন্তু গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা রিয়াদের চোখে চিত্রটি ভিন্ন হতে পারে। ওয়াশিংটন, তেল আবিব আর লন্ডনে যখন ফোন ঘন ঘন বাজছে, তখন নিজেদের রক্তঘামের চুক্তির সঙ্গীদের চুপ থাকাটা সংযম নয়, বরং সময়ের প্রয়োজনে পাশে না পাওয়া বলেই মনে হতে পারে। একই পদক্ষেপের এই যে দুই ভিন্ন ব্যাখ্যা, তা ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের যেকোনো খবরের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলবে মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে। ইতিহাস মনে রাখবে, এই সংকট কি পাকিস্তানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, নাকি এটি ছিল কেবল কাগজে-কলমে থাকা এক চুক্তি, যা প্রথম কঠিন পরীক্ষাতেই থমকে গিয়েছিল।যাইহোক, বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যে এখন দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করার সময় এসেছে। কভিড-১৯ মহামারী আমাদের দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিনির্ভরতা আমাদের কতটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। সীমান্ত বন্ধ হলে বা রফতানি সীমিত হলে দেশে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। আজকের বাস্তবতা আমাদের অন্তত কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন, চিকিৎসা ও জ্বালানি সরবরাহ খাতগুলোয় স্বনির্ভরতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার দিকে নির্দেশ করে। বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আমাদের দেশে খাদ্য উৎপাদন, চিকিৎসা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি কাঠামোতে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় উৎপাদন প্রক্রিয়া উন্নয়নের গুরুত্ব কত বেশি। স্থানীয় ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন করলে তা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এবং আজকের এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। বিশেষ করে বাংলাদেশের কৃষি, ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নীতিগত, আর্থিক, অবকাঠামোগত, প্রযুক্তিগত এবং বাজারসহায়তা অপরিহার্য। আর এটাই হতে পারে দেশের টেকসই অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরতার মূল ভিত্তি। লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক, লন্ডন থেকে |