|
'সচিব পরিচয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় টাকা'
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
|
রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে সচিব পরিচয়ে প্রতারনার মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা মেট্রো (উত্তর) পিবিআই কার্যালয়ে 'সচিব পরিচয়ে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাৎ' প্রসঙ্গে এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ভূয়া সচিব পরিচয় দেয়া প্রতারক মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান (৪৮), কথিত জমির মালিক সুমন আহমেদ ওরফে জাহাঙ্গীর আলম (৩৯) এবং জমির দালাল মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ওরফে সাইফুল (৫২)। এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, রাজধানীর দারুস সালাম থানার এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন (৪৯) জমির শেয়ার বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে সাইফুল ওরফে শাহীন নামে একজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে একটি সচিবের হয়ে জমি কেনার জন্য যোগাযোগকারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে একজন কথিত সচিবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর তাকে ধানমন্ডির একটি অভিজাত বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আধুনিক গাড়িতে আসা একজনকে সচিব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি ফারুক হোসেনকে জানান, তিনি নিজে সরাসরি জমি কিনতে পারবেন না। তাই তার মাধ্যমে জমি কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রতারকরা ফারুক হোসেনকে সাভারের বিলামালিয়া মৌজার ৫৮ শতাংশ জমি কেনার কথা বলেন। জমিটির মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বলে জানানো হয়। কথিত সচিবকে জমিটি কিনে দিলে পরে সেটি বিক্রি করে এক কোটি টাকা লাভ হবে- এমন প্রলোভনও দেওয়া হয়। প্রতারকরা প্রথমে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য তার সামনেই কথিত জমির মালিককে নগদ এক লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার অভিনয় করেন। পরে জমি কেনার জন্য ফারুক হোসেনের কাছে ১০ লাখ টাকা বায়না দাবি করা হয়। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ব্যাংক ও বাসা থেকে মোট ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে কথিত জমির মালিকের কাছে দেন। পরে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র করার কথা বলে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কিন্তু বায়নাপত্রের মূল কপি দেওয়ার কথা বলে আবারও তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি আরও ২০ লাখ টাকা দেন। এভাবে মোট ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতারকরা তাকে জমির বায়নাপত্র না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকেন। পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারণার অংশ হিসেবে চক্রটি বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতো। কখনো কথিত সচিবের অফিসে যাওয়ার কথা, কখনো ভাড়া বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হতো। এমনকি কথিত জমির মালিকের অসুস্থতা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার গল্পও সাজানো হয়। ভুক্তভোগীকে বিশ্বাস করানোর জন্য ভূয়া স্ট্যাম্প ও ভুয়া উকিলের প্রসঙ্গও ব্যবহার করা হয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ফারুক হোসেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রথমে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়।তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কথিত সচিব শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও দালাল সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গ্রেফতার তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা এবং ৩০ লাখ টাকা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্তে প্রতারণায় ব্যবহৃত ভূয়া বায়নাপত্রের স্ট্যাম্প, কথোপকথনের সিডিআর ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, মামলাটি দারুস সালাম থানায় দায়ের করা হয়েছে। পরে জনস্বার্থে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্ত শুরু করে এবং আসামি সনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। |