|
বন্ধুত্বের আড়ালে অটোভ্যানের জন্য সুজনকে হত্যা, ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
|
ঢাকার আশুলিয়ায় অটোভ্যান ছিনতাইয়ের জন্য চালক মো. সুজন হাওলাদারকে (২৯) হত্যার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন– মো. মারুফ (৩৯) ও মো. তানভীর ঢালী ওরফে আকাশ (২২)। তাদের কাছ থেকে নিহত সুজনের অটোভ্যান ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিও উদ্ধার করেছে পিবিআই। পিবিআই বলছে, বন্ধুত্বের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে সুজনকে সঙ্গে নিয়ে অটোভ্যানটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন মারুফ। পরে আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে তাঁকে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত এবং গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ। পিবিআই জানায়, কেরানীগঞ্জের অটোভ্যানচালক সুজন গত ৮ আগস্ট বিকেলে অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন। ওই দিন রাত নয়টার দিকে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। এরপর তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর স্ত্রী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর দুই দিন পর ১০ আগস্ট সকালে আশুলিয়া থানার আবদুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচ থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মাথায় আঘাত ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় সুজনের মা আলো বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার নেয়। পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দীন ও তাঁর দলের সদস্যরা ওই দিন মাদারীপুর সদর এলাকার একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে মারুফ ও তানভীরকে গ্রেফতার করেন। তাঁদের কাছ থেকে সুজনের অটোভ্যান ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মারুফের দেখানো অনুযায়ী আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের নিচের পানির মধ্যে থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, মারুফ ও সুজন আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। গত ৮ আগস্ট ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় তাঁদের দেখা হয়। পরে তাঁরা কেরানীগঞ্জে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেন এবং সুজনের অটোভ্যানে করে আশুলিয়া হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের দিকে রওনা হন। পিবিআইয়ের ভাষ্য, অটোভ্যানটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মারুফ সুজনকে কাশিমপুরে নিয়ে যান। সেখানে অটোভ্যানে মালামাল তোলা হয়। রাত তিনটার দিকে তাঁরা মালামালসহ ঢাকার লালবাগের উদ্দেশে রওনা হন। ভোরের দিকে আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পৌঁছালে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। সেটি ঠিক করতে না পেরে তাঁরা এক্সপ্রেসওয়ের নিচে একটি পিলারের পাশে বসে ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পিবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়, এ সময় মারুফ ওপরে গিয়ে অটোভ্যানে থাকা চাপাতি নিয়ে আসেন। ৯ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি প্রথমে পাথর দিয়ে সুজনের মাথায় আঘাত করেন। পরে চাপাতি দিয়ে তাঁর গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেন তিনি। এরপর অটোভ্যানের তার জোড়া দিয়ে সেটি সচল করেন মারুফ। অটোভ্যানটি মালামালসহ ঢাকার লালবাগে নিয়ে যান তিনি। পরদিন ১০ আগস্ট অটোভ্যানটি মাদারীপুরে নিয়ে গিয়ে তানভীর ঢালী ওরফে আকাশের কাছে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। |