|
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বাজেট পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে আলোচনা
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে “পোস্ট বাজেট ডায়ালগ- এফওয়াই ২০২৬-২৭” শিরোনামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাক বিজনেস স্কুল। এই সংলাপে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি, করব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয়, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের প্রফেসর, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং সাবেক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ, কর প্রশাসন, জবাবদিহিতা এবং সরকারি ব্যয়ের ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর করতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট কতটা সফল হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকরভাবে করা যায় তার ওপর। ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের প্রফেসর, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এনার্জি অ্যান্ড লজিস্টিকস (সিইএল) এর ডিরেক্টর এবং সাবেক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মূল্যস্ফীতি, করনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি কর ব্যবস্থায় আরও আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি কর পরিশোধের হার বাড়ানো এবং দেশের রাজস্ব ভিত্তি আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংক্রান্ত বিষয়গুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য এমন নীতিগত পদক্ষেপ নিতে হবে, যা সমস্যার সমাধান করবে, কিন্তু একই সঙ্গে অর্থনীতির অন্য খাতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে না। আলোচনায় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং তথ্যনির্ভর নীতিনির্ধারণের বিষয়গুলোও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, জাতীয় বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং সঠিক বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। তিনি বলেন, এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ করে দেয়। জাতীয় বাজেট দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সে বিষয়েও তারা আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অংশগ্রহণকারীরা মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, করনীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে অর্থবহ আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতেই এই সংলাপের আয়োজন করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে জ্ঞানভিত্তিক আলোচনাকে উৎসাহিত করাই ছিল এ আয়োজনের লক্ষ্য। |