|
উন্নয়নে সমান গুরুত্ব পাবে গোপালগঞ্জও
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ জেলাকে দেশের অন্যান্য জেলার মতো সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এ লক্ষ্যে জেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ সভা করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।গোপালগঞ্জের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে গত ১১ মে (সোমবার) এ বিশেষ সভা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান।সভায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন– পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল, এলজিইডি গোপালগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হকসহ বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকরা। এ সময় জেলার উন্নয়ন অগ্রগতি, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন চাহিদা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন ঘাটতি তুলে ধরে প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান। স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও সময়োপযোগী করতে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমান গুরুত্ব পাচ্ছে গোপালগঞ্জ সভা সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জকে দেশের অন্যান্য জেলার মতো সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়েও উঠে আসে। সভায় উপস্থিত থাকা একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি গোপালগঞ্জের ৩টি আসনেই জয় পেয়েছে। এটি আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত হলেও উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্যান্য জেলার মতো সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে গোপালগঞ্জকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা হবে না। কারণ এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মূলত এ সভা করা হয়েছে। সভায় গোপালগঞ্জের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নানা আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি মিডিয়াতে কোনো কথা বলি না এবং সংবাদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য কিংবা বক্তব্য দেই না।’ প্রথমবারের মতো তিন আসনেই বিএনপির জয় শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। অতীতে জেলাটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল এবং ধারাবাহিকভাবে দলটির প্রার্থীরা তিনটি আসনেই জয়ী হয়ে আসছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার রাজনৈতিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। এই নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন, যা জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৯ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া পান ৫৪ হাজার ৩২৯ ভোট। গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু পান ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী ৬০ হাজার ৯৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পান ৩৪ হাজার ৩৩৯ ভোট। |