|
বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরালে ব্যয় বাড়বে কয়েকগুণ
নতুন বার্তা, চট্টগ্রাম:
|
তরল পেট্রোলিয়াম জ্বালানি আমদানি, পরিশোধন, বিপণন ও নিয়ন্ত্রণের কাজ করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতটির পুরোটাই চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। অথচ সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় চলছে, যেটা সরালে শুধু ব্যয়ই বাড়বে কয়েকগুণ।স্বাধীনতা পরবর্তীসময়ে গুরুত্ব অনুধাবন ও চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার উদ্দেশ্যে বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে নেওয়া হয়। ডিজিটাল যুগে শুধু নথিপত্র আদান-প্রদান এবং ভাড়া ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম চালানোর ঠুনকো অজুহাতে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সচেতনমহল ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নেওয়া হলে উল্টো জটিলতার পাশাপাশি অপারেশনাল ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তাছাড়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়ে বর্তমানে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে। জানা যায়, ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত পেট্রোবাংলার একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল বিপিসি। ১৯৭৭ সালের ১ জানুয়ারি আলাদা অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিপিসি গঠিত হয়। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ব জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয় ও প্রধান ডিপো চট্টগ্রামে হওয়ায় এবং সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতির কারণে ১৯৮৯ সালে বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। শুরুতে নগরীর আগ্রাবাদের হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশনের বিল্ডিংয়ে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়েছিল বিপিসি। পরবর্তীসময়ে সল্টগোলা বন্দর ভবনের বিপরীতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলা ও চতুর্থ তলার একাংশ ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বিপিসি। সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে জামাল খান সংলগ্ন জয়পাহাড়ে প্রধান কার্যালয় নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিপিসি। বিপিসির চাহিদা মোতাবেক ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দও দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়। ওই প্রকল্পে জয়পাহাড়ে ২০ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০২১ সালে তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাধার মুখে জয়পাহাড়ে প্রধান কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ থমকে যায়। সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটছে কি? জয়পাহাড়ে ২০ তলা নান্দনিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ওই সময়ের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে দেওয়া এক চিঠিতে ভবনটি নির্মাণ না করার অনুরোধ করেন। ওই চিঠিতে জয়পাহাড় মৌজার জমি আবাসিক হিসেবে স্বীকৃত, এখানে বিপিসির ভবন হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে বলে জানানো হয়। ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ওই চিঠির পর ওই সময়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের নির্দেশে জয়পাহাড়ে প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীসময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জয়পাহাড়ে আবারও প্রধান কার্যালয়ের জন্য অস্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি মাসেই প্রধান কার্যালয় জয়পাহাড়ে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরের কথা রয়েছে। এর মধ্যে ‘ভাড়া স্থাপনায় কার্যক্রম চলছে’ এমন ঠুনকো অভিযোগের পর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের পদক্ষেপ সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের চাওয়ার প্রতিফলনই কি না এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসির দুই কর্মকর্তা বলেন, ‘জয় পাহাড়ের সার্সন রোডে বিপিসির নির্মেয়মাণ ভবনের উল্টো দিকে সাইফুজ্জামন চৌধুরী ও তার ভাই আনিসুজ্জামান রণির আলাদা দুটি বাসভবন। মূলত নিজের ভবন দুটির ব্যক্তি স্বার্থের জন্য বিপিসির ভবন নির্মাণকাজ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল।’ এখন ভবন নির্মাণ হওয়ার পর প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলে নতুন এ ভবন আর কোনো কাজে আসবে না জানিয়ে বলেন, ‘ভবনটিতে আধুনিক সব ধরনের দাপ্তরিক সুবিধা সংযোজন শেষ হয়েছে। এতে ভবনের পেছনে ব্যয় হওয়া ৪০ কোটি নগদ টাকা এবং ৩৫ কাঠা জমির মূল্য মিলিয়ে শত কোটি টাকা বিফলে যাবে। এতে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর চাওয়ার প্রতিফলন ঘটবে।’ বাকলিয়ায় পড়ে আছে ২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার জমি ২০২১ সালে জয়পাহাড়ে প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর ২০২২ সালে ভূমিমন্ত্রী জাবেদের সহযোগিতায় বিপিসিকে বাকলিয়া মৌজায় ১ দশমিক ১৯ একর সরকারি খাসজমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। এজন্য ২০২২ সালের ৭ জুন জেলা প্রশাসনকে ট্রেজারি চালানমূলে ২৫ কোটি ৩৯ লাখ ৫২ হাজার ৩০৭ টাকা পরিশোধ করে বিপিসি। তবে চলাচলের পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকায় ওই জায়গায় ভবন নির্মাণ করতে পারেনি বিপিসি। ইআরএলসহ বিপিসির আট অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই চট্টগ্রামে বিপিসির মালিকানা ও অংশীদারি সবগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে। বিশেষ করে বিপিসির শতভাগ মালিকানাধীন একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির (ইআরএল) অবস্থান চট্টগ্রামে। পাশাপাশি তিন প্রধান বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মেইন ইনস্টলেশন (এমআই) প্রধান স্থাপনাগুলোও চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়। পাশাপাশি এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল), স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পাানি লিমিটেড (এসএওসিএল), ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স পিএলসি (ইএলবিএল) এবং পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসির (পিটিসিপিএলসি) প্রধান কার্যালয়ও চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীর করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির অন্তরায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানের জনসভায় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধ- এমনটাই বলছেন মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান। দেশের শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) কেন্দ্রীয় মহাসচিব জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ঘোষণা ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে নির্বাচনি ওয়াদা দিয়েছিলেন।’ একসময়ে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার উদ্দেশ্যেই পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, শিপিং করপোরেশন ও চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল জানিয়ে বলেন, ‘এখন শোনা যাচ্ছে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।’ ‘যদি পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে এটি হবে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ওয়াদার বরখেলাপ।’- এমনটাই মনে করছেন চট্টগ্রামের এ সিনিয়র আইনজীবী। ‘পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই রেখে বাণিজ্য সংক্রান্ত সরকারি আরও কয়েকটি দপ্তরের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে নিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি হাইকোর্টের একটি স্থায়ী বেঞ্চও চট্টগ্রামে স্থাপন করা উচিত। তাহলে বাণিজ্যিক রাজধানী করার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার বাস্তবায়ন সহজতর হবে।’ যোগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান-সাবেক দুই মেয়র যা বলছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্বাচনি ঘোষণাও রয়েছে। সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে রয়েছে, সেগুলো থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ও চট্টগ্রামে থাকা উচিত। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানকে চট্টগ্রামে প্রধান কার্যালয়ে অফিস করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া উচিত।’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার উদ্দেশ্যে শিপিং করপোরেশন ও চা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে আনা হয়। সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে হলে সরকারি আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে আনতে হবে। কোনোক্রমেই বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না।’ যা বলছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির প্রত্যেক বিভাগের প্রধানদের মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা। জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কথা হলে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লি. এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘পদ্মা অয়েলসহ বিপিসির সবগুলো অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে। বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে গেলে জটিলতা আরও বাড়বে। জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হবে। তাছাড়া চট্টগ্রামের মানুষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। আমরা শ্রমিক সংগঠনগুলো এর বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেবো।’ বিপিসির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (ইআইবি) চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, ‘বিপিসির প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যক্রম চট্টগ্রামে। তেল আমদানি ও পরিশোধন হয় চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম থেকেই সারাদেশে তেল পাঠানো হয়। একমাত্র রিফাইনারি ও এসপিএম (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম থেকে পাম্পিং করে পাইপলাইনে ঢাকায় তেল নেওয়া হচ্ছে। আবার আমদানির এলসি হয় চট্টগ্রামে। কাস্টমসের শুল্কায়ন কার্যক্রম এবং বন্দর সেবাও চট্টগ্রামে। সবমিলিয়ে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া বুমেরাং হবে।’ এ বিষয়ে কথা হয় বিপিসির অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক আবু হানিফের সঙ্গে। তিনি দীর্ঘদিন বিপিসির বিপণন, বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, ‘বিপিসিতে বর্তমানে যেসব পরিচালক রয়েছেন তারা আমলা হলেও বিপিসির একজন মহাব্যবস্থাপকের মতোও অপারেশন চালানোর দক্ষতা পাওয়া যাবে না। শুধু আমলাদের সুবিধার জন্য বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এতে কমার বদলে ব্যয় আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সবগুলোর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে, প্রধান স্থাপনাগুলো চট্টগ্রামে, সে কারণে বিপিসির কার্যক্রমে আরও জটিলতা তৈরি হবে। বর্তমান সরকারকে সমালোচনায় ফেলার জন্য পেছন থেকে কেউ ষড়যন্ত্র করছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্যই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটি হলে পুরো চট্টগ্রামে রাজনৈতিভাবেও অস্থিরতা তৈরি হবে।’ |