|
আয় কম ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি বেশি, ইংরেজি ঘাটতি ও সাংস্কৃতিক সংকট প্রধান কারণ: বিবিইউটি গবেষণা
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিবিইউটি) এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পেছনে আর্থিক, একাডেমিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কারণ মিলিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষার দুর্বলতা, গণিতে পিছিয়ে থাকা এবং গ্রাম-শহরের সাংস্কৃতিক সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।"এ ফিল্ড ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট অন পিউপিলস্ পারসেপশনস্ অব ইকোনমিক অ্যান্ড নন-ইকোনমিক ফ্যাক্টরস ইনফ্লুয়েন্সিং অ্যাডমিশন অ্যান্ড নন-কমপ্লিশন অব স্টাডিজ অ্যাট বিবিইউটি" শীর্ষক এই গবেষণাটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়। গবেষণায় ২,৩৮৯ জন শিক্ষার্থীকে জরিপ করা হয়েছে এবং ৪০টি কেস স্টাডি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাসুদ হোসেন, ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন, গবেষণাটিকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার প্রেক্ষাপটে এটি আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে বিকশিত হবে। বিবিইউটি জাতীয় শিক্ষা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক নীতি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"'গবেষণা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সহায়তা করবে' অনুষ্ঠানের সেশন চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "এই গবেষণা শিক্ষার্থী ধরে রাখার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নিশ্চয়ই সহায়তা করবে।" মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ;; মিস ফারহানা ইয়াসমিন মিতু (সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ); (অনুপস্থিত অবস্থায়) সাবেক প্রভাষক মিজানুর রহমান (অর্থনীতি বিভাগ); তাসফিয়াননূর পিংকি, প্রভাষক ,অর্থনীতি বিভাগ । ২০ মে বিবিইউটির আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থাপিত ফলাফল অনুযায়ী, লজিস্টিক রিগ্রেশন বিশ্লেষণে দেখা গেছে—যেসব শিক্ষার্থীর পারিবারিক আয় ৪০,০০০ টাকার উপরে ইতিবাচক শেখার পরিবেশ , ক্যাম্পাসের সহজলভ্যতা এবং উচ্চতর সিজিপিএ তাদের ঝরে পড়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কম । ফ্যাক্টর বিশ্লেষণে শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টির চারটি মুখ্য উপাদান চিহ্নিত হয়েছে: একাডেমিক ও মেন্টর ক্লাইমেট; পরিকাঠামো ও কল্যাণের ঘাটতি; মনো-সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিবেশ; এবং ন্যায্যতা ও ক্যারিয়ার সহায়তা। যেসব শিক্ষার্থী অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তারা সব চারটি ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্যভাবে কম নম্বর পেয়েছেন। গবেষণায় আর্থিক সীমাবদ্ধতা, ইংরেজি ভাষার দুর্বলতা এবং গ্রাম-শহরের সাংস্কৃতিক সংকটকে স্থানান্তরের আগ্রহের সবচেয়ে শক্তিশালী পূর্বাভাসক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিবিইউটির প্রক্টোরিয়াল ব্যবস্থায় সন্তুষ্টি জানালেও, গুণগত সাক্ষাৎকারে পিএইচডি প্রোগ্রাম, সিনিয়র শিক্ষক মেন্টর, ক্যারিয়ার সেবা এবং উন্নত পরিকাঠামোর দাবি উঠে আসে। গবেষকরা একটি সমন্বিত প্রভাব লক্ষ্য করেছেন: গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের যেসব শিক্ষার্থী ইংরেজিতে দুর্বল, তাদের স্থানান্তরের আগ্রহ ৫৮ থেকে ৬৫ শতাংশের মধ্যে, যেখানে নমুনার গড় হার ৩৪.৯ শতাংশ। বিইউবিটিতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করার কৌশলগত পরিকল্পনাটি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে সম্পর্কিত (হাই পজিটিভলি কোরিলেটেড) পাওয়া গেছে। |