|
রৌমারীতে ইটালুকান্দা আদর্শপ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা,সীমানা প্রাচীরের মাটি ধসে মাঠটি এখন পুকুর সদৃশ
বেলাল হোসেন রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
|
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তর্গত 'ইটালুকান্দা আদর্শগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় টির মাঠ ও সামগ্রিক অবকাঠামো যথেষ্ট বেহাল দশায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর থেকে উপযুক্ত গাইডওয়াল না থাকায় বৃষ্টির জলে মাটি ধুয়ে মাঠের একাংশ বিশাল গর্ত ও পুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও প্রাতঃকালীন সমাবেশ কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় জনতা এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।সরজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের একাংশ আধাআধি অবস্থায় রয়েছে। মূল রাস্তা থেকে বিদ্যালয়ে প্রবেশক যে রাস্তাটি একটি এনজিও কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই ভঙ্গুর অবস্থা। এই রাস্তায় গাইড ওয়াল না থাকায় মাটি ধসে যাচ্ছে, যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের চলাফেরা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ছবির মত ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় বিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন সীমানা প্রাচীরের কাছে, যেখানে পানির তোড়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব ইব্রাহিম খলিল সরকার তার আকুতি জানিয়ে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ভবন সংকট না থাকলেও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো বেশ প্রকট। বিশেষ করে সীমানা প্রাচীরের নিচে বৃষ্টির জলে মাটি ধুয়ে যথেষ্ট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাচীরের নিচদিয়ে গাইডওয়াল সাপেক্ষে মাটি ভরাটের ব্যবস্থা হলে বাচ্চারা খেলতে পারতো এবং তাদের যাতায়াত সহজ হতো। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ল্যাট্রিনটি ভগ্নদশা হয়ে আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যালয়ের একমাত্র নলকূপটি বিনষ্ট হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দিন যাবৎ সুপেয় পানির তীব্র অভাবে ভুগছে। আমি এসব সমস্যা নিরসনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। জানি না, কখন সেগুলোর নিরসন ঘটবে। তবে দ্রুত নিরসনের জন্য বিনীতভাবে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ বিষয়ে ইটালুকান্দা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনাব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইটালুকান্দা আদর্শগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির মাঠ যেহতু বেহাল দশা সেহেতু আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- মাঠটি দ্রুত মাটি ভরাট করা হোক। এতে করে গ্রামের মানুষের অনেক সুবিধা হতো এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতিও হতো। এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অতি দ্রুত এই সমস্যাগুলো নিরসনের জন্য সরকারের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, গাইডওয়াল নির্মাণ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। |