|
চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীরা ফেরত পাবেন ৫০ লাখ টাকা
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকবহির্ভূত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি স্কিম তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল টাকার সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এর বেশি অর্থ জমা থাকলে নির্ধারিত হারে কেটে বাকি অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। সভা সূত্রে জানা যায়, এই চার প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর বেশি অর্থ যাদের জমা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে অর্থ কেটে ফেরত দেওয়া হবে। ৫০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকলে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারী। ১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকলে প্রথম ১ কোটি টাকার জন্য ৮০ লাখ টাকা এবং বাকি অংশের ৫০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে। অর্থাৎ, কারও আমানত ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হলে তিনি ৮০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকার ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা—মোট ৯০ লাখ টাকা ফেরত পাবেন। দেড় কোটি থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকলে প্রথম দেড় কোটি টাকার জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং এর অতিরিক্ত অংশের ৪০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে। যেমন, কারও আমানত ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা হলে তিনি ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত ৩০ লাখ টাকার ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ১২ লাখ টাকা—মোট ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ফেরত পাবেন। আর ২ কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত থাকলে প্রথম ২ কোটি টাকার জন্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং এর অতিরিক্ত অংশের ৩০ শতাংশ ফেরত পাবেন আমানতকারী। উদাহরণ হিসেবে, কারও আমানত ৩ কোটি টাকা হলে তিনি প্রথম ২ কোটি টাকার বিপরীতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং বাকি ১ কোটি টাকার ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩০ লাখ টাকা—মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ফেরত পাবেন। চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো—আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। গত ৯ আগস্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রশাসকদের সহায়তার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আরও দুজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চারটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি টাকা, আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। গত বছরের মে মাসে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের নিবন্ধন সনদ বা লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময় কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে ২০টির মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য বেছে নেওয়া হয়। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানের জবাব সন্তোষজনক ছিল না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পিপলস লিজিংকে ঘিরে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় সেটি বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে ওই চার প্রতিষ্ঠানকেও বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড। |