|
ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র: নিরাপত্তা শঙ্কা নাকি প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ?
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
|
রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজকে কেন্দ্র করে মহাখালী এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অস্ত্রহাতে সেলফি পোস্টের ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মাঝে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্রের উপস্থিতি এবং এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে। রাজধানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক হেনস্থা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। একপর্যায়ে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ওই এলাকায় দীর্ঘ সময় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে ঘটনার নতুন মোড় নেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে। ভাইরাল হওয়া সেই ছবিতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ রামদা ও লাঠিসোটার মতো দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, "তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে আমরা আপোষহীন।" ছবিটি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। মহাখালী ভিত্তিক একটি ফেসবুক গ্রুপে ছবিটি শেয়ার করে প্রশ্ন তোলা হয়, "শিক্ষার্থীর নামে দেশীয় অস্ত্র হাতে এরা কারা?" পোস্টটির নিচে সাধারণ মানুষ যেমন শিক্ষার্থীদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তেমনি আবির রহমান নামে তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থী মন্তব্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরে লেখেন, "আমার ক্যাম্পাসের ভাইকে মারলে আমি যাব না? আসেন আপনাকে আমরা অযথা মারি, পরে দেখি আপনার ভাই, বন্ধু বা পরিবারের মানুষ কেমন রিয়্যাকশন দেয়। বোকা নাকি!" সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল বা মেসে কীভাবে এসব দেশীয় অস্ত্র আসছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কতটা কার্যকর? এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "রবিবার রাতের ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্রহাতে ছবিটি আমাদের নজর কেড়েছে। এতে জড়িতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।" সার্বিক বিষয়ে তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ছদরুদ্দীন আহমদ জানান, "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। রবিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও ভাইরাল হওয়া ছবিটির বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হবে। বহিরাগত কেউ শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" শিক্ষাবিদদের মতে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্ত্রহাতে রাস্তায় নেমে পড়া ছাত্র রাজনীতির অশুভ চর্চা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শিথিলতারই প্রতিচ্ছবি। হলের নিরাপত্তা জোরদার এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অনতিবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। |