|
বনানীতে ছাত্রলীগের মশাল মিছিল: অধরা সহ-সভাপতি রাব্বি, প্রকাশ্যে মাদকের জাল
বিশেষ সংবাদদাতা, ঢাকা:
|
বর্তমান সরকারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র বনানীতে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বনানী থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইফতে আলম রাব্বি ওরফে টিপুর নেতৃত্বে সম্প্রতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বনানীতে বের করা হয় একটি মশাল মিছিল। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনা ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও পুলিশ প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন এই মূল হোতা।অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অনিয়মের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকলেও রাব্বি বনানী এলাকাতেই অবাধে ঘোরাফেরা করছেন। বনানীর ২ নম্বর রোডে তার পুরনো গাড়ির ব্যবসা (রিকন্ডিশন্ড কার শো-রুম) সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নিয়মেই পরিচালিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে, ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় থেকে তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিরোধীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। 'শেখ হাসিনা দ্রুতই দেশে ফিরবেন'—এমন নানা উসকানিমূলক ও রাজনৈতিক পোস্ট দিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিপু শুধু নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নন; দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় ইয়াবা সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তার এই মাদক ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে তার ছোট ভাইরা। আওয়ামী লীগ আমলেই গড়ে তোলা এই বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য ও বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য বর্তমানে তার ছোট ভাইদের মাধ্যমেই সচল রাখা হয়েছে। রাব্বির বনানীতে নিয়মিত যাতায়াত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক মশাল মিছিলের সার্বিক প্রস্তুতি ও অর্থায়নের পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল তার এই অনুসারী ও ভাইদের। এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, "সরকার পরিবর্তনের পর সবাই ভেবেছিল অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমবে। কিন্তু টিপু প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে, শো-রুম চালাচ্ছে, এমনকি রাতে এলাকায় মহড়াও দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে কীভাবে এসব সম্ভব হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।" এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী এলাকায় অপতৎপরতা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মশাল মিছিলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রাব্বি ওরফে টিপুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মাদকের সংশ্রবের বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" অন্যদিকে, বনানী থানা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মইনুল ইসলাম রনি বলেছেন, প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ও শীর্ষ অপরাধীদের অবাধ বিচরণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চরম হুমকি। অনতিবিলম্বে এ ধরনের অপরাধী ও তাদের সহযোগী সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা না হলে রাজধানীর শান্তিশৃঙ্খলা আরও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। |