|
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬
রেইনবো বাংলাদেশের পথে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, জ্ঞান ও ন্যায্য অংশীদারিত্ব
শিপন কুমার রবিদাস:
|
প্রতি বছরের ৯ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ আমাদের একটি মৌলিক সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আর সেটি হলো-একটি রাষ্ট্রের শক্তি তার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান, ন্যায়ভিত্তিক অংশীদারিত্ব এবং সকল জনগোষ্ঠীর সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার সক্ষমতায়। আজকের বিশ্বে উন্নয়নের মানদণ্ড শুধু মাথাপিছু আয়, অবকাঠামো কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং একটি রাষ্ট্র কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক, কতটা বৈষম্যহীন এবং কতটা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান করে-তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর প্রায় ৪৭৬ মিলিয়ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী মানবসভ্যতার প্রাচীনতম জ্ঞানভাণ্ডারের ধারক-বাহক। অথচ তারাই আজও ভূমি হারায়, ভাষা হারায়, বৈষম্যের শিকার হয় এবং উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে থাকে।এ বছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য “ঐড়হড়ঁৎরহম ওহফরমবহড়ঁং গরফরিাবং: ঝধভবমঁধৎফরহম খরভব ধহফ ডবষষ-নবরহম”। এই প্রতিপাদ্য প্রথম দর্শনে মাতৃস্বাস্থ্যের বিষয় বলে মনে হলেও এর তাৎপর্য অনেক বিস্তৃত। এ বছরের প্রতিপাদ্য আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়-উন্নয়ন মানে কেবলমাত্র অবকাঠামো নয়; মানুষের জ্ঞান, লোকায়ত সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মানও উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বের বহু অঞ্চলে আদিবাসী ধাত্রীরা শুধু শিশু জন্মদানে সহায়তা করেন না; তাঁরা মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভেষজ চিকিৎসা, সামাজিক সংহতি এবং প্রজন্মান্তরে জ্ঞানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে মর্যাদা দেওয়া আজ টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। এই জ্ঞানকে অবজ্ঞা না করে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার মধ্যেই রয়েছে ভবিষ্যতের পথ। বাংলাদেশও বহুজাতিক, বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক একটি রাষ্ট্র। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খিয়াং, লুসাইসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এবং সমতলের সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা, মাহাতো, গারো, হাজং, কোচ, রাজবংশী, রাখাইনসহ বহু জনগোষ্ঠী শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ভূখণ্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তাঁদের কৃষিজ্ঞান, বন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, লোকজ চিকিৎসা, ভাষা, সংগীত এবং জীবনদর্শন বাংলাদেশের সামগ্রিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল অঙ্গীকার ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। সেই অঙ্গীকার আজও আমাদের রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরেও একটি কঠিন বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই-দেশের আদিবাসী, দলিত এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো উন্নয়নের মূলধারায় সমানভাবে যুক্ত হতে পারেনি। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আমাদের সেই অসম বাস্তবতার দিকে নতুন করে দৃষ্টি দিতে বাধ্য করে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সংবিধান একটি সুস্পষ্ট নৈতিক ও আইনি ভিত্তি প্রদান করে। অনুচ্ছেদ ২৭ সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতার নিশ্চয়তা দেয়। অনুচ্ছেদ ২৮ ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অগ্রগতির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেয়। অনুচ্ছেদ ২৯ সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করে। অর্থাৎ অšর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন কোনো রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয় মাত্র নয়; এটি সাংবিধানিক দায়িত্বও। এ কারণেই বৈষম্যবিরোধী একটি কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রশ্ন আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাসস্থান, ভূমি, সামাজিক সেবা এবং বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে যদি বৈষম্যের শিকার মানুষ সহজে প্রতিকার না পান, তাহলে সাংবিধানিক সমতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে অপূর্ণ থেকে যায়। একটি আধুনিক বৈষম্যবিরোধী আইন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান-উভয় পর্যায়ে জবাবদিহি বাড়াতে পারে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আস্থা পুনর্গঠন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করা। বাস্তবায়নের বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে মতভেদ থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট-দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও উন্নয়নের জন্য সংলাপ, আস্থা এবং অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। এই অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক পরিসরেও একই বার্তা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। জাতিসংঘের ওহফরমবহড়ঁং চবড়ঢ়ষবং-এর অধিকার বিষয়ক ঘোষণা (টঘউজওচ) আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্যগত জ্ঞান, উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে অর্থবহ সম্পৃক্ততার নীতিকে গুরুত্ব দেয়। যদিও প্রতিটি রাষ্ট্র নিজস্ব সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর আলোকে এসব নীতির প্রয়োগ করে, তবুও অংশগ্রহণ, মর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক অধিকারের মতো মূল্যবোধ সর্বজনীন। বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘রেইনবো’ অন্তর্ভূক্তিমূলক রাষ্ট্রদর্শন বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে দেখার একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। একটি রংধনু যেমন বহু রঙের সমন্বয়ে পূর্ণতা পায়, তেমনি বাংলাদেশও তার সব জাতি, ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এই নীতির বাস্তব সফলতা নির্ভর করবে কতটা কার্যকরভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, অংশগ্রহণ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা যায় তার ওপর। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন নীতিনির্ধারণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হবে। তবে বাস্তবতার চিত্র এখনো অনেক ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক নয়। ভূমি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সীমিত অংশগ্রহণ-এসব সমস্যা বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন বাস্তবতা। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে তাদের মতামত ও সম্মতি নিশ্চিত করার বিষয়টিও আরও প্রাতিষ্ঠানিক হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ডিজিটাল সেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন প্রয়োজন এই সেবাগুলোকে আরও সংস্কৃতিসংবেদনশীল ও অন্তর্ভুুক্তিমূলক করা। পাহাড়ি কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন আদিবাসী মা যেন নিজের ভাষায় স্বাস্থ্যসেবা পান, স্থানীয় ধাত্রীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে তাদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়-এগুলো সময়ের দাবি। একইভাবে শিক্ষা খাতেও মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, আদিবাসী ভাষা সংরক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান নথিভুক্তকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিশেষ সহায়তা রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। কারণ একটি ভাষা হারিয়ে গেলে শুধু শব্দ হারায় না; হারিয়ে যায় ইতিহাস, দর্শন এবং একটি জনগোষ্ঠীর পৃথিবীকে দেখার অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বন, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে তাদের অভিজ্ঞতা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। টেকসই উন্নয়নের যে ধারণা আজ বিশ্ব গ্রহণ করছে, আদিবাসী সমাজ বহু শতাব্দী ধরে তার বাস্তব চর্চা করে আসছে। তাই জলবায়ু নীতি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো শুধু ন্যায়সংগত নয়, বরং কার্যকরও। রেইনবো বাংলাদেশের দর্শনকে বাস্তব রূপ দিতে হলে কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। প্রথমত, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ ও পরামর্শ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা এবং আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যজ্ঞান ও স্থানীয় ধাত্রীদের দক্ষতাকে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে স্বীকৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে হবে। চতুর্থত, ভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছ, মানবাধিকারসম্মত এবং অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পঞ্চমত, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ষষ্ঠত, নারী, শিশু ও তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সপ্তমত, উন্নয়ন, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আস্থাভিত্তিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশ উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই যাত্রা তখনই অর্থবহ হবে, যখন উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে এবং কেউ পিছিয়ে থাকবে না। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়-বৈচিত্র্যকে সম্মান করা মানে জাতিকে শক্তিশালী করা; সংস্কৃতিকে রক্ষা করা মানে ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করা; আর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করা মানে গণতন্ত্র¿কে গভীরতর করা। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস তাই কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনের দিন নয়। এটি আত্মসমালোচনার দিন, অঙ্গীকারের দিন এবং নতুন সামাজিক চুক্তি গড়ে তোলার দিন। আমরা কি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে পেরেছি, যেখানে একজন আদিবাসী নারী, একজন দলিত তরুণ, একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী বা একজন প্রান্তিক শ্রমজীবী সমান মর্যাদায় নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ পান? আমাদের মনে রাখতে হবে, বৈচিত্র্য কোনো বিভাজন নয়; বৈচিত্র্যই বাংলাদেশের শক্তি। যে রাষ্ট্র তার ক্ষুদ্রতম জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করতে পারে, সেই রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক, মানবিক এবং টেকসই। রেইনবো বাংলাদেশের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন বৈচিত্র্যকে শুধু উদযাপন নয়, নীতিতে, আইনে, বাজেটে এবং প্রতিষ্ঠানে প্রতিফলিত করা হবে। কারণ একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষও অনুভব করেন-এই রাষ্ট্র আমার, এই উন্নয়ন আমার, এই ভবিষ্যৎও আমার। এই ৯ আগস্ট আমাদের অঙ্গীকার হোক-রেইনবো বাংলাদেশের প্রতিটি রঙ সমান মর্যাদায় বিকশিত হবে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব এবং অধিকারকে সম্মান জানিয়ে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুুলব, যেখানে উন্নয়নের আলো সবার ঘরে সমানভাবে পৌঁছাবে। তখনই আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের চেতনা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে, আর বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। |