|
৫ই আগস্টের পর গা ঢাকা: অনলাইনে সক্রিয় হলেও অধরা বনানী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
|
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন বনানী থানা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মাহফুজ। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে তার ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) আইডি দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় (ডি-অ্যাক্টিভ) ছিল। তবে সম্প্রতি তথাকথিত ‘সেফ জোনে’ গিয়ে আবারও ফেসবুকে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। আত্মগোপনে থেকেই নিয়মিত রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক পোস্ট, দলীয় বার্তা, নেতাদের বিভিন্ন নির্দেশনা এবং ‘শেখ হাসিনা ফিরে আসবেন’—এমন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন তিনি।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাহফুজ অনলাইনে নিয়মিত সক্রিয় থাকলেও তাকে এখনো গ্রেপ্তার না করা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও তার পরিচিতদের একাংশ দাবি করছেন, গ্রেপ্তার এড়াতে মাহফুজ ইতিমধ্যেই অবৈধভাবে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে অনলাইনে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে তিনি বারবার দাবি করছেন, তিনি দেশেই অবস্থান করছেন। আওয়ামী লীগেরই কয়েকজন নেতাকর্মী মাহফুজের অধরা থাকার পেছনে ভিন্ন একটি গোপন হিসাবের কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মাহফুজ ঢাকায় এসে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পদে বসে দাপট দেখালেও গ্রামে তার পরিবার ভিন্ন রাজনৈতিক অনুসারী। তার বাবা ও চাচারা এলাকায় প্রভাবশালী বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত। এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়েই তিনি এখন আত্মগোপনে থেকে আইনের হাত থেকে বেঁচে আছেন বলে ধারণা করছেন অনেকে। এদিকে, বিগত সরকারের আমলে বনানী এলাকায় চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ রয়েছে মাহফুজের বিরুদ্ধে। তৎকালীন সময়ে তার অপকর্ম ও চাঁদাবাজিতে বনানী এলাকার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ছিলেন অতিষ্ঠ। তবে ভয়ে সে সময় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। গা ঢাকা দিয়েও নিয়মিত অনলাইনে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সাবেক এই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকে দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন বনানীর ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মাহফুজের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। |