|
দিনের বেশিরভাগ সময় কাটছে পাম্পের সামনেইঃ সিএনজি স্টেশনের সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
আরিফুল ইসলাম। পেশায় সিএনজি চালক। স্ত্রী-সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার তার। বসবাস করেন রাজধানীর মানিকনগরে। গত কয়েকদিন ধরেই তার বাসার রান্নার গ্যাসের সমস্যা। ঠিকঠাক জ্বলছে না চুলা। হোটেলের খাবারে চলছে পুরো পরিবার। গ্যাস নিতে সকাল ৮টায় দাড়ান টিটিপাড়া এনএস সিএনজি ফিলিং স্টেশনে। দুই ঘন্টায়ও গ্যাস জোটেনি। চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। আলাপে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এভাবে আর চলে না, বউ-বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছে। ৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়ে ৭০-৮০ টাকার গ্যাস পাই। কিছু সময় গাড়ি চালিয়ে আবার পাম্পে আসতে হচ্ছে। এভাবে দিনের বেশিরভাগ সময় সিএনজি পাম্পেই কাটছে। এই স্টেশনে দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন প্রাইভেটকার চালক এনামুল হক। বলেন, স্টেশনে গ্যাসের চাম কম। কখন গ্যাস পাব- তার ঠিক নেই। অপেক্ষা ছাড়া উপায়ই বা কি। কথা হয় স্টেশনের ক্যাশিয়ার আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভয়াবহ অবস্থা ভাই। চাপ নেই বললেই চলে। কিছু সময় পরপর বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সামনে লম্বা লাইন, জনভোগান্তি চরমে।আশপাশের বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও শান্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ছিল একই চিত্র। রাস্তার এক-তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে লাইনে ছিলেন সিএনজি ও প্রাইভেটকার চালকরা। ফলে রাস্তায় তৈরি হয়েছে যানজট। টিটিপাড়া এলাকার ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট পলাশ আখতার বলেন, এমনিতেই রাস্তায় গাড়ির চাপ অনেক। এরমধ্যে গ্যাস নিতে অনেকে রাস্তা দখল করে লাইনে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভোগান্তি আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে চলা গ্যাস সংকটের দুর্ভোগ সোমবারও বহাল ছিল। সবুজবাগ: মালিবাগ হাজীপাড়ায় অবস্থিত সিটি ওভারসিজ সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়- গ্যাস নাই লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। তবে স্টেশনের সামনে শতাধিক সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন লাইন। এ ছাড়া খিলগাঁও, বনশ্রী, মুগদা ও সবুজবাগের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনের সামনেও একই চিত্র দেখা যায়। গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রায় প্রতিটি স্টেশনেই সামনেই গাড়ির দীর্ঘ লাইন। যাত্রাবাড়ী: ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল মাল্টিমিডিয়া সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন কোম্পানির লিমিটেড, জয়কালি মন্দির রোডে এইচ এস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এলপিজি স্টেশনে সিএনজি ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেল। ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে গ্যাস নিতে পারেনি। এছাড়াও গ্যাসের অভাবে যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও মতিঝিলের অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা বন্ধ। এলাকার অনেক মানুষ হোটেল নির্ভর হয়ে পড়েছে। মিরপুর: মিরপুর-১০, ১২, সেনপাড়া ও কালশী এলাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেল। এতে ওই এলাকার সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। চালকদের অভিযোগ- ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না তারা। কালশীর শতাব্দী ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষামান মাইক্রো চালক বাশার বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের লাইনেই সময় পার। আয় কমে গেছে। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্তরা: উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গ্যাস না থাকায় অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ। কোথাও কোথাও পাম্প চালু থাকলেও গ্যাসের সরবরাহ নেই। সিএনজি চালক ইলিয়াস হোসেন জানান, গাড়ি চালানোর চেয়ে এখন পাম্পে দাঁড়িয়েই বেশি সময় চলে যাচ্ছে। চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ৭০-৮০ টাকার বেশি গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় অনেক বাসায় চুলা জ্বলছে না। কোথাও ভোর বা গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস মিললেও তা দিয়ে স্বাভাবিক রান্না সম্ভব হচ্ছে না। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা শিমু বেগম বলেন, ভোরে গ্যাস থাকলে সারাদিনের রান্না করে রাখা যায়। কিন্তু গত তিন দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একেবারেই গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। হাতিরঝিল: তীব্র গ্যাস সংকটে মগবাজার, শাহবাগ , কলাবাগান, নিউমার্কেট, সেন্ট্রাল রোড, কাঁঠালবাগন এলাকায় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে চালকদের। গাড়িচালক আতিকুর রহমান বলেন, ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। কয়েক ঘণ্টা হয়ে গেছে, এখনো গ্যাস পাইনি। এভাবে দিন চলে গেলে আয় হবে না। মগবাজার ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আশা সিএনজি চালক সবুজ বলেন, এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে ১০০ টাকা ঘুস দিয়ে ৭০ টাকার গ্যাস নিয়েছি। সিএনজির খরচ মিটিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। |