|
টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ে নারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তরুণীদের মধ্যে টাইপ টু ডায়াবেটিসের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডে সংগৃহীত জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার (এনএইচএস) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে যে কোভিড-১৯ মহামারী পরবর্তীতে স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির হার ত্বরান্বিত হওয়ায় ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণীদের মধ্যে এই রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের হার যেখানে স্থিতিশীল রয়েছে বা সামান্য কমেছে, সেখানে চল্লিশ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ নারীদের মাঝে এর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইপ টু ডায়াবেটিস একটি অত্যন্ত জটিল ও মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং জীবনহানিকর নানা জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দাতব্য সংস্থা ডায়াবেটিস ইউকে-জানায়, কম বয়সে ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তা শরীরের ওপর অনেক বেশি আক্রমণাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে, যা দ্রুত অঙ্গহানি এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ত্বরান্বিত করে। গবেষক দলের প্রধান ড. শিবানী মিশ্র জানিয়েছেন যে কম বয়সে তীব্র স্থূলতার কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার গড় বয়স উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অতীতে এই রোগটি মূলত নির্দিষ্ট কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও বর্তমান নতুন তথ্য প্রমাণ করছে যে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এর প্রকোপ সমানভাবে বাড়ছে, যা একটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং এর ৯০ শতাংশই টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভুগছেন। বয়স্কদের রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে ত্রিশ বছরের কম বয়সি প্রায় ১২ হাজার মানুষ টাইপ টু ডায়াবেটিসের শিকার, যার একটি বড় অংশই তরুণ নারী। অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং অতিরিক্ত পানির পিপাসা পাওয়া—এই রোগটির সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের এনএইচএস-এর পৃথক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে মহামারী পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডে স্থূলতার হার ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে ১৬ শতাংশ এবং ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তরুণদের এই ডায়াবেটিস বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক অবস্থাতেই রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সুষম খাদ্য গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ওষুধ ছাড়াই অনেক ক্ষেত্রে টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এমনকি নিরাময়ও সম্ভব। এর পাশাপাশি নতুন জিএলপি-ওয়ান ওজন কমানোর ওষুধ ও ইনজেকশন শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে এবং রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে। ডায়াবেটিস ইউকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের পরবর্তী সময়ে বিশেষ ফলোআপ কেয়ার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ ভবিষ্যতে তাদের টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাছাড়া, কোভিড-১৯ সংক্রমণের সঙ্গে ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে গবেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। সূত্র: সামা টিভি। |