|
সচিব কমিটির বৈঠক: পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়লেও ভাতায় কাটছাঁটের প্রস্তাব
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন খাতের ভাতায় বড় ধরনের কাটছাঁট বা যৌক্তিকীকরণের আভাস পাওয়া গেছে। নবম পে-স্কেল নিয়ে সচিবালয়ে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত ধরে রেখে এর রূপরেখা, আর্থিক সংশ্লেষ এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক এজেন্ডা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিদ্যমান (অষ্টম) জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মূল বেতনের পাশাপাশি বেশকিছু নিয়মিত ও বিশেষ ভাতা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে প্রধান প্রধান ভাতা হলো-বাড়ি ভাড়া, যা মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ (অঞ্চলভেদে ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ)। চিকিৎসা ভাতা-সব পদের জন্য বর্তমানে নির্ধারিত মাসিক ১,৫০০ টাকা। যাতায়াত ভাতা-নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াত ভাড়া এবং প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সুবিধা। শিক্ষা সহায়ক ভাতা-সন্তানদের পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট হারে (অনূর্ধ্ব দুই সন্তান) মাসিক ভাতা। উৎসব ও নববর্ষ ভাতা-বছরে দুটি মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসব ভাতা এবং মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ (বৈশাখী) ভাতা। টিফিন ও ধোলাই ভাতা- নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত মাসিক সামান্য কিছু টাকা। বিশেষ ও পাহাড়ি ভাতা-অঞ্চল বা কাজের ঝুঁকি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু পদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু রয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, সচিব কমিটির বৈঠকে মূলত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা এবং সরকারের আর্থিক সামর্থ্যরে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন যখন বাড়ছে, তখন সামগ্রিক বাজেটের ওপর যেন মাত্রাতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেজন্য ভাতার হার পুনর্মূল্যায়ন বা কাটছাঁট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ি ভাড়া ভাতার শতাংশের হার কিছুটা কমিয়ে একটি যৌক্তিক সীমায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। কারণ, মূল বেতন বাড়লে শতাংশের হিসাবে ভাতার পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতার হার কিছুটা সমন্বয় বা নির্দিষ্ট সিলিং (সীমা) বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একইভাবে অপ্রাসঙ্গিক বা বর্তমান সময়ে কার্যকারিতা হারানো কিছু ছোটখাটো ভাতাকে পুরোপুরি বিলোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, রাষ্ট্র সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেতন বাড়াচ্ছে, তাই এর বিপরীতে জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা, কাজের গতি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আর্থিক সুবিধা গ্রহণ নয়, নাগরিক সেবাপ্রাপ্তি যেন সহজ হয়, সেদিকেও নজর রাখার তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ, আইনি ভেটিং এবং কারিগরি জটিলতা দূরীকরণসহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা করা হয়। নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম পে-স্কেলের বেতন-ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবিরা। এজন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। |