|
প্রবীণরা সমাজের বোঝা নয়,সম্পদ: সাতক্ষীরার ডিসি কাউসার আজিজ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
|
"সচেতনতার উর্দ্ধে,প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধকে কার্যকর করা" এই প্রতিপাদ্যে সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।মঙ্গলবার(১৬ জুন)সকালে প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম গ্যালারীর নিজস্ব কার্যালয়ে সংস্থাটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মিস্ কাউসার আজিজ। ডিসি কাউসার আজিজ প্রধান অতিথির বক্তব্য বলেন, প্রবীণরা পরিবারের বোঝা নয়, তারা আমাদের মা-বাবা।তাদেরকে সম্মান করতে হবে, নির্যাতন নয়। তারা আমাদের সম্পদ। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমেই সেটাই সম্ভব। প্রবীণদের পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ভাবে তাদেরকে সম্পৃক্ততা করতে হবে শ্রদ্ধা ভরে।তাহলে প্রবীণরা রাষ্ট্রের সম্পদে পরিনত হবে।উন্নত বিশ্বে প্রবীণদেরকে রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন করায়।নবীব-প্রবীণদের সমন্বয়ে রাষ্ট্রকে পরিচালিত করতে হবে।তাহলে বাংলাদেশ আদর্শ রাষ্ট্রে পরিনত হবে। প্রবীণদের বৃদ্ধাশ্রমে নয়, পরিবারেরই থাকবে সকলের মাঝে।অসুস্থতায় তাদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হবে স্বাভাবিক ভাবে। সাতক্ষীরা জেলা প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে ও সাহিত্যিক শহীদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম, সাবেক অধ্যক্ষ মো.আব্দুল হামিদ, সহকারী কমিশনার মো.শাহেদ হোসেন। আলোচনা সভার শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবেদুর রহমান। এছাড়া বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবসের বক্তারা তাদের বক্তব্যে আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু ৭৩.৫ বছর (২০২৫) যা ২০৫০ সালের মধ্যে ৭৭ বছরে পৌছাবে বলে মনে হচ্ছে। ২০২৫ এর দশকের শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর ৫০% এর বেশি ৬ বছর বয়সীদের মধ্যে ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। যাহা ১৯৯৫ সালে ছিল ১৭%। জনসংখ্যা একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক রূপান্তরে পরিণত হতে চলেছে, যার প্রভাব সমাজের সকল ক্ষেত্রের উপর পড়বে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রম ও আর্থিক বাজার, আবাসন, পরিবহন ও সামাজিক সুরক্ষার মতো পণ্য ও পরিসেবার চাহিদা। সেই সাথে পারিবারিক কাঠামো এবং আন্তঃপ্রজন্মীয় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপজনিত বয়স্ক মৃত্যু হার পূর্বাপেক্ষা ১০৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, বণ্যার কারণে বার্ষিক আয় ৩% কমেছে এবং তাপজনিত কারণে ৬% আয় হারিয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৬০ বছর বা তার বেশী বয়সী ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এক বিলিয়ন থেকে ১.৪ বিলিয়নে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা তরুণদের ছাড়িয়ে যাবে। এই বৃদ্ধি উন্নয়নশীল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি এবং দ্রুততম হবে। এটি স্বীকার করতে মানবাধিকার ক্ষেত্র সহ প্রবীণ ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে এমন নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলোর প্রতি আরো মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রবীণ নির্যাতন এমন একটি সমস্যা যা উন্নয়নশীল এবং উন্নত উভয় দেশেই বিদ্যমান। কিন্তু বিশ্বব্যাপী এটি সাধারণত কম রিপোর্ট করা হয়। এর ব্যাপকতার হার বা আনুমানিক হিসাব শুধুমাত্র কয়েক উন্নত দেশেই পাওয়া যায়, যা ১% থেকে ১০% পর্যন্ত। যদিও প্রবীণ নির্যাতনের মাত্রা অজানা, এ নৈতিক তাৎপর্য সুস্পষ্ট। এ কারণে এরজন্য একটি বিশ্বব্যাপী বহুমুখী প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন,যা প্রবীণ ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। প্রবীণ নির্যাতনকে সংজ্ঞায়িত, সনাক্ত এবং মোকাবেলা করার পদ্ধতিগুলোকে এক প্রেক্ষাপটে স্থাপন করতে হবে এবং সংস্কৃতি নির্দিষ্ট ঝুকির কারণগুলোর সাথে বিবেচনা করতে হবে।উদাহরণ স্বরূপ কিছু ঐতিহ্যবাহী সামাজে বয়স্ক বিধবাদের জোর পূর্বক বিয়ে দেয়া হয়, আবার অন্য সমাজে নিংসঙ্গ বয়স্ক নারীদের ডাইনীবিদ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা উভয়ক্ষেত্রেই যদি এই সমস্যার শনাক্ত ও মোকাবেলা করার জন্য সুসজ্জিত না থাকে, তবে প্রবীণ নির্যাতন ক্রমাগতভাবে অসনাক্ত ও উপেক্ষিত হতে থাকবে। প্রবীণ নির্যাতন এখনও ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত ও অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। এটি শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক নির্যাতনের পাশাপাশি অবহেলা সহ বিভিন্ন রূপ নিতে পারে। এটি প্রায়শঃই এমন পরিস্থিতি ঘটে যেখানে প্রবীণ ব্যক্তিরা দৃশ্যমানতা, সমর্থন বা পরিসেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য শুধু সচেতনতা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। এরজন্য এমন শক্তিশালী ব্যবস্থা প্রয়োজন যাহা প্রতিরোধ করতে পারে এবং ঘটলে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারে, একই সাথে বয়স্ক ব্যক্তিদের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং অধিকারকে সম্মান করবে বলে বক্তারা মনে করেন। এছাড়া আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কলেজ ও স্কুল প্রতিনিধিদের মধ্যে সাবেক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান শামসুজ্জামান বাবু।জেলা প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক কাজী আবু হেলাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা বি এম আব্দুর রাজ্জাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জালা উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আশরাফ উদ্দীন আহমেদ, শঙ্কর কুমার রায়, মো. আবুল কালাম প্রমূখ। |