|
ফেসবুকে প্রচারণা নাকি জনসেবা? কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
|
ঢাকা উত্তরে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন।সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশিত একাধিক পোস্টে দেখা যায়, আবুল কালাম আজাদ কখনো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সঙ্গে ঝাড়ু দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, আবার কখনো ড্রেন পরিষ্কারের সময় কর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। এসব পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হচ্ছে, "সাবেক কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদের উদ্যোগে এলাকা পরিষ্কার কর্মসূচি"। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের প্রশ্ন, সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ড্রেন পরিষ্কার করলে সেটিকে কোনো ব্যক্তির উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করা কতটা যৌক্তিক। এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের ছেলে নাহিদ রেজা তুষার বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে দীর্ঘদিন ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর তার বাবা সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পরিচ্ছন্নতা কর্মী পাঠিয়ে ড্রেন পরিষ্কারের ব্যবস্থা করে। এ কারণেই তারা বিষয়টিকে আবুল কালাম আজাদের উদ্যোগ বলে মনে করেন। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও কিছু পোস্টে দেখা যায়, আবুল কালাম আজাদের সমর্থকেরা বিভিন্ন দেয়াল থেকে পোস্টার অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। পরে সেই কার্যক্রমের ছবি ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। এ নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার মতে, সকালে দেয়াল পরিষ্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার পোস্টারে ঢেকে যায়। ফলে স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে এসব কার্যক্রম মূলত প্রচারণামূলক উদ্যোগ হিসেবে বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ইতিবাচক হলেও সেগুলোর বাস্তব প্রভাব ও ধারাবাহিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। তাদের মতে, টেকসই নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রচারণা ও জনসেবার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বা দেয়াল পরিষ্কারের মতো উদ্যোগের চেয়ে এলাকার দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত সমস্যা, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখাই জনপ্রতিনিধিত্বের প্রকৃত মানদণ্ড হওয়া উচিত। |