|
জেনেভা ক্যাম্পে ৩ বাহিনীর তিন শতাধিক ফোর্স নিয়ে অভিযান, আটক ১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
|
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে র্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সমন্বয়ে এক বিশাল যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তিন বাহিনীর সাড়ে তিন শ সদস্যের এই চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ অভিযানে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।সোমবার (১ জুন) বিকেল পৌনে পাঁচটা থেকে জেনেভা ক্যাম্পের বিভিন্ন সেক্টরে একযোগে এই চিরুনি অভিযান শুরু হয়। অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম বলেন, ‘বিকেল থেকে আমরা জেনেভা ক্যাম্পে তিন বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানে ১৬ জনকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।’ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক বশির আহমেদ জানান, জেনেভা ক্যাম্পে মাদক নির্মূলে ডিএনসি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে আমাদের অফিসারসহ ৯০ জন ফোর্স অংশ নেন। অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে। এদিকে, র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেনেভা ক্যাম্পের এই বিশেষ অভিযানে র্যাব-২-এর বিভিন্ন কোম্পানির ৭০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা ও সদস্য যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজকের এই মাদকবিরোধী অভিযানে অফিসারসহ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় ২০০ জন সদস্য অংশ নেন। সবমিলিয়ে তিন বাহিনীর সাড়ে তিন শ সদস্যের এক বিশাল বহর এই অভিযানে অংশ নেয়। এদিকে, ঘটা করে এমন বিশাল অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরই কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ক্যাম্পের স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ ও র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, জেনেভা ক্যাম্পে আকস্মিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও একশ্রেণির অসাধু চক্রের কারণে মাদককারবারিরা আগে থেকেই খবর পেয়ে যায়। ফলে মূল অভিযান শুরু হওয়ার আগেই তারা সটকে পড়ে। এভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘটা করে অভিযান পরিচালনা করলে মূল অপরাধীদের ধরা কঠিন। ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান মূলত লোক দেখানো। যেভাবে তারা দলবল নিয়ে অভিযান করতে আসে, তাতে কোনোভাবেই জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদককারবারীদের ধরা সম্ভব নয়। বাসিন্দারা আরও জানান, আজ অভিযানের শুরুতে ক্যাম্পের প্রবেশমুখে পুলিশ, র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক গাড়ি এবং প্রিজন ভ্যান এসে দাঁড়ায়। এরপর কর্মকর্তারা ক্যাম্পের ভেতরে একটি স্কুলের ভেতর ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনার বৈঠক করেন। আর সেই ফাঁকেই ক্যাম্পের সব মাদককারবারি নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা দাবি করেন, ক্যাম্পের শীর্ষ মাদককারবারিরা আগেই খবর পেয়ে ৬২টি বাস রিজার্ভ করে সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের নামে পালিয়ে গেছে। সুনির্দিষ্ট ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান না চালালে এদের কোনোভাবেই ধরা যাবে না। তবে, পুলিশের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই ধরনের যৌথ বড় অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন অনেক সাধারণ বাসিন্দা। |