|
বনানীর বেলতলা বস্তিতে বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, চাঁদা দাবি: অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের
রিয়াদ আহমেদ, বিশেষ সংবাদদাতা :
|
রাজধানীর বনানী থানাধীন বেলতলা বস্তির চিহ্নিত চাঁদাবাজ কুরুমের ছত্রছায়ায় চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ইয়াছিন, নাটা রুবেল ও তাঁর ভাই সোহেল বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আগে তাঁরা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে কথিত যুবদল কর্মী। পুরোনো একটি ছবিতে নাডা রুবেলকে বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেলেকে ফুলেল তোড়া দিয়ে বরন করতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, বেলতলা বস্তিতে তাঁরা মাদক ব্যবসার স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। তাঁদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখল বানিজ্য, চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ বস্তিবাসী।চাঁদা না দেওয়ায় মো. জাহিদ খাঁন নামক পেশাদার একজন গাড়ি চালক ইয়াছিন, নাটা রুবেল ও তাঁর ভাই সোহেল এর হামলার শিকার গুরুত্বর আহত হয়ে বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ইং ডিসেম্বর জাহিদ খাঁন বেলতলা বস্তিতে একটা বাড়ি কিনেন কুরুমের কাছ থেকে। ক্রয়কৃত বাড়ির দখল বুঝিয়ে দিতে বললে আজ নয় কাল এভাবে বিলম্ব করতে থাকে। পরে বলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বুঝিয়ে দিবে। বর্তমানে সেই বাড়ি দখল করে রেখেছে মাদক ব্যবসায়ী ইয়াছিন, নাটা রুবেল ও তাঁর ভাই সোহেলসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী। তাঁরা সেখানে মাদক ব্যবসা করে। জাহিদ খাঁন জানান, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে রাত আনুমানিক ৯টার সময় বাড়ির দখল বুঝে নিতে গেলে গেলে দখলকারী সন্ত্রাসীরা বাধা দেয়। এবং বাড়ি দিবেনা বলে হুমকি দেয়। পরে কুরুম ও তাঁর ছোট ভাই মোজাম্মেল আরো কিছুদিন সময় নেয়। গত শুক্রবার আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সেই বাড়িতে গেলে সন্ত্রাসী ইয়াবা ব্যাবসায়ী নাটা রুবেল তার ভাই সোহেল এবং ইয়াছিন অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে আমাদের বের করে দেয়। এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। উক্ত ঘটনা গোপনে আমার বড় ভাই ভিডিও করে। পরবর্তীতে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ইয়াছিন, নাটা রুবেল ও তাঁর ভাই সোহেল আমার উপর হামলা করে কুপিয়ে জখম করে। এ বিষয়ে বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অবশ্য নাডা রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জাহিদ খাঁন ২০নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদের গাড়ি চালক। সে আজাদের নাম ভাঙিয়ে বস্তিতে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। সে কোন বাড়ি কিনেনি উল্টো প্রভাব খাটিয়ে আজাদের গুন্ডা বাহিনী নিয়ে দখল করতে এসেছিল। পরে বস্তিবাসী তাদের গণধোলাই দেয়। আজাদ ভিডিও কলে কথা বলে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। আমাদের কাছেও সব রেকর্ড আছে। এ বিষয়ে জানতে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে সন্ত্রাসী কুরুমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। |