|
নারী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবিতে সমাবেশ ও র্যালী
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নারী শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
আজ ৮ মার্চ, শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানী মিরপুরস্থ টেকনিক্যালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার ও গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এর যৌথ উদ্যোগে নারী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত শীর্ষক নারী শ্রমিক সমাবেশ ও র্যালী অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার, গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি ও এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ কমিটির সদস্য সচিব মোসাঃ সুলতানা বেগম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোজিনা আক্তার সুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফরিদ উদ্দীন, মিরপুর আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম প্রমুখ। নারী শ্রমিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য মোসাঃ সুলতানা বেগম বলেন, আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুরুটা হয় শ্রমিক আন্দোলন থেকে, যা একসময় জাতিসংঘ স্বীকৃত বাৎসরিক দিবস হয়ে উঠে। মানবসভ্যতা ও সৃষ্টির বিকাশে নারী ও পুরুষের সমান অবদান ও মর্যাদা অপরিহার্য। নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক, কেউ কারো চেয়ে কম নয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়ন ও আত্মসামাজিক কাঠামো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অগ্রগতির পেছনে নারী শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি বৈষম্য, অনিরাপত্তা ও হয়রানির শিকার। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এই দিনে আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই-নারী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সরকার ও মালিকপক্ষকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমাবেশে নারী শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাত বিশেষ করে পোশাক শিল্পের মূল চালিকাশক্তি নারী শ্রমিকরা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারাই সবচেয়ে বেশি মজুরি বৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে অনিরাপত্তা, হয়রানি এবং সামাজিক অবহেলার শিকার। নারী শ্রমিকদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও সহিংসতা থেকে মুক্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই নারী শ্রমিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উক্ত কর্মসূচিতে ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার ও গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ: ১. নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ২. সমান কাজের জন্য সমান মজুরি ও বৈষম্যমুক্ত শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩. মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ৪. কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থা ও কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে। ৫. শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ৬. নারী শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক সুবিধা সম্প্রসারণ করতে হবে। সমাবেশ শেষে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণে একটি র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র্যালীটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং নারী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। |