|
ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট, ভুল বুঝতে পারা নারীর জীবনে ফের ভোগান্তি
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গ থেকে ‘ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট’ (স্তনের সৌন্দর্য বাড়ানোর পদ্ধতি) সরিয়ে নিতে ‘ব্রেস্ট এক্সপ্ল্যান্ট সার্জারি’ নামের জটিল অস্ত্রোপচার সম্প্রতি বেড়ে গেছে। মূলত ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট নিয়ে স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেক নারী নিজের ইচ্ছায় এখন এমন অস্ত্রোপচার করাতে চাইছেন। তবে বর্ধিত স্তন-যুগলকে ফের আগেকার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এক্সপ্ল্যান্টিংয়ের পথে অনেকেই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ক্যাটি কোরিওর মতো অনেক নারী, যারা শরীর বিশেষত স্তনের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ২৪ বছর বয়সে ব্রেস্ট অগমেন্টেশন সার্জারি করিয়েছিলেন, এখন ৩০-এর কোঠায় পৌঁছে সেই ইমপ্ল্যান্টের কারণে অনেক ধরনের অস্বস্তিতে ভুগছেন। স্যান ডিয়েগোর শরীরচর্চা প্রশিক্ষক ও মডেল ক্যাটি বলেন, তার ইমপ্ল্যান্ট অনেক ভারী ও অস্বস্তিকর হয়ে গিয়েছিল, বিশেষ করে পেক্টোরাল এক্সারসাইজ করার সময়। তিনি আরও জানান, ইমপ্ল্যান্টের ফলে তার নিপলের অনুভূতি হারিয়ে গিয়েছিল এবং পরে তিনি জানতে পারেন যে তার ব্যবহার করা টেক্সচারড ইমপ্ল্যান্টের সঙ্গেই বিরল রোগ লিম্ফোমার সম্পর্ক রয়েছে। এটি জানার পর ক্যাটির মনে নিজের শরীর ও স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। খবর সিএনএনের। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে-যেখানে তার ৫ লাখ ফলোয়ার রয়েছে- আলোচনা করেন। তিনি ইমপ্ল্যান্ট সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরে ইউটিউবে এক্সপ্ল্যান্ট সার্জারির বিস্তারিত ভিডিও শেয়ার করেন। তার সিদ্ধান্তের পর, তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে এবং অনেক নারী তার কাছ থেকে এমন সার্জারি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। তবে তার সিদ্ধান্তে কিছু সমালোচনাও হয়েছিল। এই ধরনের অস্ত্রোপচার করার জন্য নারীদের মাঝে অনেক বাধা থাকে, যেমন অর্থনৈতিক সমস্যা, সাংস্কৃতিক চাপ বা প্লাস্টিক সার্জারির ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে চাপ। তবে, বিশেষজ্ঞরা জানান, এক্সপ্ল্যান্ট সার্জারি করার অধিকার সম্পূর্ণভাবে নারীর, এবং যদি তারা আর ইমপ্ল্যান্ট রাখতে না চান, তবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সার্জন ড. নিনা নাইডু ইমপ্ল্যান্ট নেয়া নারীর উদ্দেশে বলেন, ‘এটি আপনার শরীর। আপনি যদি ইমপ্ল্যান্ট আর বইতে না চান, তাহলে এটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত একান্ত আপনার।’ ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ বা সরিয়ে নেয়ার সংখ্যা গত কয়েক বছরে বেড়েছে, তবে বিশ্বব্যাপী এটি প্লাস্টিক সার্জারির মোট সংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ। তবে, বেশ কিছু সেলিব্রিটি যেমন পামেলা আন্ডারসন, অ্যাশলে টিসডেল, এসজেডএ এবং ক্রিসি টিগেন তাদের ইমপ্ল্যান্ট সরিয়ে ফেলার জন্য সাহসি সিদ্ধান্ত নেয়ায়, অনেক নারীর মধ্যে এক্সপ্ল্যান্ট সার্জারির প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এবং শারীরিক অস্বস্তির জন্য অনেক নারী মুক্তি পথ হিসেবে এই সার্জারি বেছে নিচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, ক্যারিনা কারাপেটিয়ান, যিনি তার ইমপ্ল্যান্ট নিয়ে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন, তার মধ্যে মস্তিষ্কে অসাড়তা, ঝাপসা দৃষ্টি, বুকে চাপ এবং বিষণ্নতা ছিল। তিনি মনে করেন, তার স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো তার ইমপ্ল্যান্টের নেতাবাচক প্রভাবের কারণে হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমপ্ল্যান্টের কারণে যেসব সমস্যা হতে পারে তাদের ‘ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট ইলনেস’ (বিআইআই) বলা হয়, যা অনেক নারীর ক্ষেত্রে শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। যদিও এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রমাণ মেলেনি, তবে বিভিন্ন গবেষণায় এ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এক্সপ্ল্যান্ট সার্জারি নারীদের জন্য একটি সাহসী সিদ্ধান্ত হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে যেসব ভোগান্তি সহ্য করেন, তা সহজে মন থেকে মুছে ফেলা যায় না। অনেক নারী তাদের সার্জনদের প্রতি অবিশ্বাস ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কারণ তারা মনে করেন যে তাদের ইমপ্লান্ট করার সময় তারা যথাযথ পরামর্শ পাননি। ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট সরিয়ে নেয়ার ফলে অনেক নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে, কিন্তু এটি এখনও অনেক নারীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত। এবং এতে অনেক সময় তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। |