|
তিন মাসের ব্যবধানে ফের পুলিশের পোশাক বদলের হাওয়া
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
মাত্র তিন মাস আগে পুলিশ বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিবর্তন করে অন্তর্বর্তী সরকার। তখন কেউ সরাসরি মুখ না খুললেও ছিল চাপা অসন্তোষ। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই সিদ্ধান্তে তাদের মত ছিল না বলে প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। বিষয়টি আমলে নিয়ে ফের পরিবর্তনের তোড়জোড় চলছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পোশাক পরিবর্তনে পুলিশ কর্মকর্তাদের যে মতামত চাওয়া হয়েছিল, তাতে কোনো জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট প্রধান সায় দেননি। তাদের অভিযোগ, লৌহ (আয়রন) রঙের নতুন ইউনিফর্ম অন্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। দেশের আবহাওয়ার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। মানুষের শরীরের রঙের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তারা পোশাক পরিবর্তনে তড়িঘড়ি করেন বলে অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তাদের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘিরে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই প্রেক্ষাপটে বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়। জনআস্থা পুনর্গঠন ও ভাবমূর্তি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব পায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। পরে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার পোশাক পুনর্নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি পোশাকের রং, নকশা, ব্যবহারিক দিক ও আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করে। সরকারের অনুমোদনের পর নতুন রঙের ইউনিফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে দেশের সব মহানগর পুলিশের সদস্যরা লৌহ রঙের নতুন পোশাক পরে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে জেলা পুলিশেও তা কার্যকর করার কথা বলা হয়। তবে নতুন সরকার গঠনের পর এই পোশাক নিয়ে অনীহার কথা প্রকাশ্যে আসে। ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং নন-ক্যাডার সদস্যদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন আলাদা বিবৃতিতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। দুই সংগঠনই আগের খাকি পোশাক বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার একটি কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে খাকি ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। সে সময় দেশের আবহাওয়া, সদস্যদের গায়ের রং, দিনরাতের ডিউটিতে সহজে শনাক্তকরণ ও অন্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। সংগঠনের নেতাদের দাবি, নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বাস্তবতা ও সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, যথাযথ জনমত যাচাই ছাড়াই এমন একটি পোশাক নির্বাচন করা হয়েছে, যা অন্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার পোশাকের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন। পোশাক পরিবর্তনের নেপথ্যে খোদা বকশ চৌধুরী! পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন কোনো গবেষণা ছাড়াই হয়েছে। দ্রুত দরপত্র আহ্বান, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া, দ্রুততম সময়ে কাপড় সরবরাহ, মানহীন কাপড়সহ বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে ধাপে ধাপে। এর নেপথ্যে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী। পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কেউ কেউ বিরোধিতা করলেও খোদা বকশের একক সিদ্ধান্তে পুলিশের পোশাক পালটে যায়। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলেও খোদা বকশ চৌধুরী ক্রমাগত চাপে রাখেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও পুলিশ পরবর্তীসময়ে লৌহ রঙের পোশাক মেনে নেয়। অভিযোগের বিষয়ে খোদা বকশ চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন, মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ করলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পুলিশ সুপাররা পোশাক পরিবর্তনে একমত ছিলেন না পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত বছরের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ, র্যাব ও আনসারের পোশাক নিয়ে সভা হয়। সেখানে ট্রায়াল হয়। পোশাকের সেই রং দেখে পুলিশের অনেকে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দেখান। এরপর পুলিশের তখনকার আইজিপি বাহারুল আলম নতুন পোশাকের বিষয়ে সব জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট প্রধানদের লিখিত মতামত চেয়ে চিঠি দেন। প্রত্যেকটি জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট প্রধান পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের অনিচ্ছার কথা জানান। বিষয়টি আইজিপি তখনই সরকারকে জানান। এরপরও সবশেষ গত জুলাইয়ে একটি ক্রাইম কনফারেন্সে সব ইউনিট প্রধান ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে একটি জুম মিটিং করেন আইজিপি বাহারুল আলম। সেখানেও পুলিশের পোশাকের বিষয়ে কর্মকর্তাদের মতামত চাওয়া হয়। ওই মিটিংয়েও কর্মকর্তারা নতুন পোশাকের বিষয়ে আপত্তি জানান। পুলিশ কর্মকর্তাদের আপত্তির পরও র্যাব, আনসার ও পুলিশের নতুন পোশাক চূড়ান্ত করে সরকার। কাপড় কেনার দরপত্র পায় বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রটি জানায়, তাড়াহুড়া করে ১৪১ কোটি টাকার কাপড় কেনার দরপত্র করা হয়। কাজ পায় বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘোষিত আয়ের বাইরে সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। গত বছর দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন। এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মো. নুরুল ইসলামের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮-দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ও ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান সরকারি কোনো কেনাকাটায় অংশ নিতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও তার প্রতিষ্ঠান কাপড় কেনার কাজ পায়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ‘পুলিশকে বানানো হয়েছে সিকিউরিটি গার্ড’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) বলেন, আগে আমাদের যে পোশাক ছিল সেটি খারাপ না। মানুষ দূর থেকেও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারতো। আর এখন সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে পুলিশকে। কে পুলিশ আর কে সিকিউরিটি গার্ড মানুষের বুঝতে কষ্ট হয়। আমরা যারা রাস্তাঘাটে ডিউটি করি পোশাক নিয়ে আমাদেরই সবচেয়ে বেশি নেগেটিভ কথাবার্তা শুনতে হয়। দু-তিনবার ধুয়ে দিলে পোশাকের রং নষ্ট হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরলেই গরম হয়ে যায় শরীর ট্রাফিক রমনা বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সার্জেন্ট বলেন, একটু হাত দিয়ে কাপড়টা দেখেন কত মোটা! এই দেশে এই কাপড় কীভাবে সিলেক্ট হয়? সিনিয়র কর্মকর্তারা তো এসি রুমে থাকেন। তারা রাস্তায় এসে দুই ঘণ্টা ডিউটি করলেই বুঝবেন। কিছুদিন পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে তীব্র গরমে যখন ট্রাফিক পুলিশদের ডিউটি করতে হবে তখন এই পোশাক পরে থাকা কষ্টকর হবে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসবির (ঢাকা) পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, নতুন পোশাক অঙ্গীভূত আনসার, বসুন্ধরার সিকিউরিটির একটা মিল আছে। সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা এই নতুন পোশাক ঐতিহ্য, জনআস্থা ও পেশাগত মর্যাদার প্রতীকী বৈশিষ্ট্য পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত হয়নি। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মতামত, গায়ের রং ও আবহাওয়াগত বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ‘নতুন পোশাক আমরা কেউ পরতে চাইছে না’ বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘নতুন পোশাক পরিবর্তন করা সরকারের জন্য সহজ। কারণ পুলিশের সব সদস্য এখনো বানাননি, অল্প কয়েকজন বানিয়েছেন। শুধু মেট্রোপলিটন পর্যায়ে কিছু কর্মকর্তা। বরং নতুন পোশাক দিলে সরকারের অনেক টাকা অপচয় হবে। এক কথায় নতুন পোশাক আমরা কেউ পরতে চাচ্ছি না। বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের পক্ষে নন। আগের পোশাক বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের প্রতীক।’ তিনি বলেন, ‘বিপুল অর্থ ব্যয়ে পোশাক পরিবর্তন না করে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট বাড়ানোই যুক্তিযুক্ত হবে। ‘পোশাক পরিবর্তন একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত’ সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘পুলিশের পোশাক পরিবর্তন একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত। পোশাক পরিবর্তন করে পুলিশকে পরিবর্তন করা যায় না। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এমনকি অনেক সিকিউরিটি গার্ডরা এ ধরনের পোশাক পরে। ফলে পুলিশের আত্মমর্যাদায় লেগেছে। এজন্য নতুন সরকার আসায় তারা দাবি করছে। আগে যে পোশাক ছিল জেলা ও মেট্রোপলিটনের জন্য সেটা ছিল সবচেয়ে ভালো।’ সবাই চাচ্ছেন ভিজিবল পোশাক এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে সবাই চাচ্ছে একটি ভিজিবল পোশাক। কারণ আমরা যখন বাইরে ডিউটি করতে যাই তখন পুলিশের পোশাক মানুষের চোখে পড়ে না। আমরাও চাচ্ছি এই পোশাক পরিবর্তন হোক। সরকারও এ ব্যাপারে কনসার্ন। আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর একটি পোশাক দেওয়ার ব্যাপারে কমিটি করে দেওয়া হবে।’ আইজিপি বলেন, ‘শুধু পোশাক না পুলিশের মনের পরিবর্তন দরকার। মনটাকে সুন্দর করতে হবে। যত ভালো পোশাকই দেন না কেন পুলিশ যদি প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ না করে তাহলে কাজ হবে না। পজিটিভ অ্যাটিচিউড থাকতে হবে।’ ‘নতুন পোশাক অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই না’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘পুলিশের নতুন পোশাক অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হয়নি। পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের কোনো দরকার ছিল না। এর সঙ্গে অর্থের সংযোগ রয়েছে, তখনই আমরা বলেছি পোশাকের চেয়ে পুলিশ সংস্কারের জন্য প্রয়োজন। অদৃশ্যভাবে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার জন্য এই পোশাক পরিবর্তন কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।’ পুলিশের পোশাকের বিবর্তন একসময় বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রং ছিল খাকি। এই রঙের পোশাকের ইতিহাস ব্রিটিশ আমলের সঙ্গে জড়িত। আমাদের এই অঞ্চল যখন ব্রিটিশশাসিত ছিল তখনই পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, তবে প্রথম দিকে কোনো নির্ধারিত পোশাক ছিল না। কিছু সময় পর তাদের জন্য সাদা পোশাক করা হয়। কিন্তু এই পোশাক নিয়েও একটা সমস্যা দেখা দেয়, সেটা হলো- পুলিশ সদস্যদের সাদা ইউনিফর্ম পরে ডিউটি করার সময় খুব তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যেত। এতে ব্রিটিশ পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খুবই বিচলিত হয়ে পড়তেন। ফলে পোশাকের নোংরা আড়াল করতে পুলিশ সদস্যরা তাদের ইউনিফর্ম বিভিন্ন রঙে রাঙাতে থাকে। ১৮৪৭ সালে ব্রিটিশ অফিসার স্যার হ্যারি লুমসডেনের পরামর্শে পুলিশের ইউনিফর্ম হালকা হলুদ ও বাদামি রঙের করা হয়। তারপর চা পাতা, পানি ব্যবহার করে সুতি কাপড়ের রং রঞ্জকের মতো তৈরি করে ইউনিফর্মের ওপর লাগানো হতো। ফলে পোশাকের রং খাকি হয়ে যায়। সেই বছরই পুলিশে খাকি রঙের পোশাক গৃহীত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাঙালি পুলিশ সদস্যরা খাকি রঙের পোশাক ব্যবহার করেন। অনেকে অবশ্য সাদা পোশাকেও লড়াই করেছেন। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৪ সালে। ওই বছর পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে মহানগরগুলোয় হালকা জলপাই রঙের করা হয়। জেলা পুলিশকে দেওয়া হয় গাঢ় নীল রঙের পোশাক। র্যাবের কালো ও এপিবিএনের পোশাক তৈরি করা হয় খাকি, বেগুনি আর নীল রঙের মিশ্রণে। এমনকি ২০০৯ সালেও কিছুটা পরিবর্তন আসে পুলিশ বাহিনীর পোশাকে। |