|
নতুন আলোচনা রিকনসিলিয়েশন
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
দেশের রাজনীতিতে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিরোধ ও সংঘাতের পর টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় রিকনসিলিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ-এমন মত থাকলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় তা কতটা সম্ভব, এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্ষমা না চাওয়া এবং ফিরে আসার বিষয়ে নানা হুমকি-ধমকি দেওয়ার ঘটনা এতে বড় বাধা। পাশাপাশি এ প্রশ্নে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে-দায় ও দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, অপরাধের বিচার এবং জবাবদিহির মধ্য দিয়ে কি ‘রিকনসিলিয়েশনের’ পথ তৈরি হবে? নাকি তার আগে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন? বিশ্লেষকদের মতে, রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজন আছে। তবে তারা দেশে এখনো সেই পরিস্থিতি বা সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন না। বরং যাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত, তারাই উলটো প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের আস্ফালন করছে বলেও মনে করেন তারা।ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার সম্ভাবনা আমি দেখি না। কারণ, তারা পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শক্তি। তবে তারা যদি নিজেদের ভুল ও অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং প্রকাশ্যে দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চায়-তাহলে তাদের মধ্যে যারা গুরুতর অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয়, স্বাভাবিকভাবেই তারা তা করবে না। কারণ, আজ পর্যন্ত তারা কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি এবং তাদের অন্যায়ের ভুল স্বীকার বা ক্ষমাও চায়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। কারণ, একটি বিভক্ত জাতি, যারা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত এবং একে-অপরকে নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত; সেই জাতি বেশি দূর এগোতে পারে না। বরং এই অশুভ প্রতিযোগিতা ও প্রচেষ্টা জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। আমরা একটি শাসনযোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত হতে চাই। তাই রিকনসিলিয়েশনের কোনো বিকল্প নেই। এটা করতে হবে। কিন্তু কীভাবে করতে হবে, সেটিই প্রশ্ন।’ তিনি বলেন, রিকনসিলিয়েশন তখনই হয়, যখন সবাই খোলামনে সামনে এগিয়ে আসে, নিজেদের দোষ স্বীকার করে এবং অনুশোচনা ব্যক্ত করে। অতীতে যেসব ভুলত্রুটি ও অন্যায় হয়েছে, সেগুলো অনুধাবন করে ভবিষ্যতে যেন সেগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সবাইকে সামনে এগোতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি তার কোনো লক্ষণ দেখছি না। তিনি আরও বলেন, ‘যারা অন্যায় করেছে, লুটপাট করেছে-তাদের মধ্যে এখনো সেই উপলব্ধি দেখা যাচ্ছে না যে ওই অধ্যায়ের ইতি ঘটিয়ে নতুন করে ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করতে হবে। এটি না হলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব নয়। বরং এখনো আমরা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের আস্ফালন দেখতে পাচ্ছি। এর মধ্যে কোনোভাবেই সমঝোতা, সম্প্রীতি কিংবা সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষণ নেই। লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় রিকনসিলিয়েশন কঠিন। কিন্তু এটিই প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর ক্ষেত্রে যেমন অপারেশন কঠিন হলেও প্রয়োজন হয়, তেমনই এটিও কঠিন হলেও প্রয়োজন। কারণ, রিকনসিলিয়েশন না হলে আমরা প্রতিশোধের চক্রেই পড়ে থাকব। তিনি আরও বলেন, প্রতিশোধের চক্রে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে আমাদের সমৃদ্ধি কখনোই সম্ভব নয়। কারণ, এক দল ক্ষমতায় আসবে, আরেক দল টাকাপয়সা সব নিয়ে পালিয়ে যাবে-এভাবে চলতে থাকলে ২০ কোটি মানুষ মিলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখনো তাদের ভুল স্বীকার বা অনুতাপ প্রকাশ করেনি। এটা তাদের আরেকটি ভুল। তবে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, বিজয়ী পক্ষ হিসাবে তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রিকনসিলিয়েশনের একটি প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। রাষ্ট্রপতি এই উদ্যোগ নিতে পারেন। কিংবা সংসদও এ উদ্যোগ নিতে পারে। তবে উদ্যোগটা নেওয়া দরকার। এতে জনগণের কাছে সরকারের আন্তরিকতারও প্রতিফলন ঘটবে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এ ‘রিকশনসিলিয়েশন’-এর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সেখানে বক্তারা বলেন, অপরাধের বিচার যেমন প্রয়োজন, তেমনই সমাজের বিভাজন কাটিয়ে উঠতে ‘রিকনসিলিয়েশন’ প্রয়োজন। তবে এজন্য আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিচার হতে হবে। যৌথ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ এবং অপরাধীদের অনুশোচনা ও শাস্তি ছাড়া ‘রিকনসিলিয়েশন’ হবে না। ওই কনভারসেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আগে ফ্যাসিস্টদের বিচার, এরপর রিকনসিলিয়েশন হবে। সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের আইনি পরিণতি থেকে আড়াল করার প্রচেষ্টার কারণেই বিশ্বব্যাপী রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশে রিকনসিলিয়েশন বিষয়টি আলোচনায় আসার পর বিশ্লেষকদের কেউ কেউ দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার অভিজ্ঞতা সামনে আনছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রায়েলের মাধ্যমে নাৎসি নেতৃত্বের বিচারের উদাহরণও আলোচনায় আসছে। সমকালীন বিশ্বে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন। বর্ণবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সত্য উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীদের কথা তুলে ধরা এবং নির্দিষ্ট শর্তে ক্ষমার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে দেশটি অতীতের সংঘাত মোকাবিলার চেষ্টা করেছে। নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক রূপ দেয়। ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, ‘প্রতিশোধ নিলে আমরা কীভাবে ওদের চেয়ে ভালো হলাম।’ তবে দক্ষিণ আফ্রিকার মডেলকে কেবল ‘ক্ষমা করে দেওয়া’ হিসাবে দেখার সুযোগ নেই। সত্য প্রকাশ, দায় স্বীকার, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং জবাবদিহি-সবই ছিল এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালের গণহত্যার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দেশীয় পর্যায়ে গাকাকা আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক প্রক্রিয়া চালু হয়। অর্থাৎ পুনর্মিলনের পাশাপাশি অপরাধের বিচার ও দায় নির্ধারণও চলেছে। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রায়ালে নাৎসি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডা ছাড়াও সিয়েরা লিওন, ঘানা, কেনিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, শ্রীলংকা, ব্রাজিল, তিউনিসিয়াসহ প্রায় ৪০টি দেশে এ ধরনের কমিশন গঠিত হয়েছে। তবে এসব দেশের অভিজ্ঞতা এক নয়; কোথাও ক্ষমা ও পুনর্মিলনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কোথাও বিচার ও জবাবদিহি ছিল প্রধান ভিত্তি। বাংলাদেশেও এ ক্ষেত্রে অপরাধ স্বীকার, বিচার, ক্ষতিপূরণ, ক্ষমা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। এগুলো না হলে তা ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মঙ্গলবার পিআইডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিকনসিলিয়েশন নিয়ে সরকারের ভাবনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কৌশলী জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্রমাগত হুমকির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সরকারের দিক থেকে ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর আলাপ করা কঠিন। তাছাড়া আওয়ামী লীগই তা চাচ্ছে না, রিকনসিলিয়েশন তাদের চাইতে হবে। মৌলিক শর্ত নিশ্চিত করা হলে সেই আলাপ শুরু হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। রিকনসিলিয়েশনে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোই সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার বলে মনে করা হয়। বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবে ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনের ইশতেহারেও ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল। বিএনপির বড় একটি অংশ রিকনসিলিয়েশনের পক্ষে বলেও জানা যায়। কিন্তু পালিয়ে যাওয়া মন্ত্রী, এমপি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সরকারের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা ‘বয়ান’ তৈরি এবং শেখ হাসিনার ক্রমাগত হুমকির কারণে ওই অংশটি এখন আর কথা বলছে না। তাছাড়া সরকার চাইলেও বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি রিকনসিলিয়েশনের ঘোরতর বিরোধী। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এখন পর্যন্ত রিকনসিলিয়েশনের কোনো বাস্তবতা তৈরি হয়নি। এখানে তাদেরই দায়িত্ব বেশি, যারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ যদি নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত না হয়, আইনের কাছে আত্মসমর্পণ না করে এবং দেশের বাইরে বসে ষড়যন্ত্র তৎপরতা চালায়; তাহলে এ দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। আর জনগণ না মানলে বিএনপিও তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশন’ গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ। এর জন্য অনুতপ্ত হতে হয়, ক্ষমা চাইতে হয় এবং আইনের মুখোমুখি হতে হয়। তারা আগে এসব প্রক্রিয়া শুরু করুক। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেদিকে যাচ্ছে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা অপরাধ করেছে, সেই আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত তাদের অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চায়নি। তারা এ বিষয়ে কোনো ধরনের প্রস্তাবও দেয়নি। ফলে রিকনসিলিয়েশন নিয়ে এর বেশি কিছু বলার নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, রিকনসিলিয়েশনের দিকে অবশ্যই যাওয়া উচিত। কিন্তু যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দল হিসাবে আওয়ামী লীগের দায় ও জবাবদিহির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে হবে। কারণ, আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে অনেকে বিভিন্ন অপকর্ম করেছে। দল হিসাবে এখনো আওয়ামী লীগ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকার করে না। বরং তারা আন্দোলনকারীদের বিভিন্নভাবে আখ্যায়িত করে। তিনি বলেন, তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মী, যারা কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, সেই সমর্থকগোষ্ঠী কোথায় যাবে-সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। তাদের জন্য রিকনসিলিয়েশনের সুযোগ থাকা উচিত। তবে তাদের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকার করতে হবে। ২০২৪ সালের আগস্টের পরও রিকনসিলিয়েশন নিয়ে রাজনীতিতে আলোচনা ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তখন ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ট্রুথ জাস্টিস কমিশন অথবা ট্রুথ রিকনসিলিয়েশন কমিশনের খুব দরকার আছে। এটা সম্ভবত আমাদের দেশে ১৯৭২ সাল থেকে থাকলেই ভালো হতো। আমরা সবকিছুই খুব কনফরমেশনালভাবে (ঐকমত্যের ভিত্তিতে) নিষ্পত্তি করতে চাই। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি অপরাধের দায় স্বীকার করেনি, অনুশোচনাও জানায়নি। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দলটির নীতিনির্ধারণী মহলের কেউ ক্ষমা চাওয়া, ভুল স্বীকার করা এবং ‘রিকনসিলিয়েশন’ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। কিন্তু দলের মধ্যকার একটি অংশ মনে করে, রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে হলে আওয়ামী লীগকে অতীত কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জনগণের কাছে যেতে হবে। |