/ প্রবাস বাংলা / বিদেশগামী ৭১শতাংশ কর্মীই ‘অদক্ষ’ঃ দক্ষের নামে পাঠানো হচ্ছে অদক্ষদের
দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে, পিছিয়ে বাংলাদেশ
বিদেশগামী ৭১শতাংশ কর্মীই ‘অদক্ষ’ঃ দক্ষের নামে পাঠানো হচ্ছে অদক্ষদের
পর্যাপ্ত জনবল ও প্রশিক্ষকেরও প্রকট সংকট
নতুন বার্তা, ঢাকা:
Published : Thursday, 1 October, 2026 at 5:23 AM
বিদেশগামী ৭১শতাংশ কর্মীই ‘অদক্ষ’ঃ দক্ষের নামে পাঠানো হচ্ছে অদক্ষদেরবাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের প্রায় ৭১ শতাংশই সরকারি টিটিসি বা বেসরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্র—কোনো জায়গা থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকা কর্মীর হার ৯২ শতাংশ, রাজশাহী ও রংপুরে ৮৪ শতাংশ এবং ঢাকায় ৮৩ শতাংশ।
একই সময়ে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশই আধাদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ। ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়লেও দেশের প্রশিক্ষণব্যবস্থা এখনো সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠাচ্ছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও বিদেশগামী কর্মীদের বড় অংশ এখনো আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ হয়ে উঠতে পারছে না।
অভিবাসী কর্মীদের সাধারণত পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ—এই চার ভাগে দেখা হয়। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষক, হিসাবরক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর, ফার্মাসিস্ট ও নার্সদের মতো পেশাকে পেশাজীবী হিসেবে ধরা হয়। মেকানিক, ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, রংমিস্ত্রি, পাচক, ড্রাইভার, প্লাম্বার, গার্মেন্ট শ্রমিক ও সনদপ্রাপ্ত কেয়ারগিভারদের দক্ষ কর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে কৃষক, মালি ও বিভিন্ন সহায়ক কাজের কর্মীরা আধাদক্ষ এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গৃহকর্মীসহ কিছু পেশা স্বল্প দক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রামরুর ‘বাংলাদেশ হতে শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০২৫ : অর্জন ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অভিবাসন মূলত আধাদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ শ্রমবাজারনির্ভর। ২০২৫ সালে মাত্র ৩-৪ শতাংশ পেশাজীবী, ২০ থেকে ২২ শতাংশ দক্ষ এবং ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ আধাদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ কর্মী বিদেশে গেছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব রিপ্যাট্রিয়েটেড বাংলাদেশি এমপ্লয়িজ (ওয়ারবি) ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় বিদেশগামী কর্মীদের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার হিসাবে, সরকারি টিটিসি বা বেসরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্র—কোনো জায়গা থেকেই প্রশিক্ষণ না নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন প্রায় ৮৭ শতাংশ কর্মী। ৭১ শতাংশের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না।
চট্টগ্রামে এই হার ৯২ শতাংশ, রাজশাহী ও রংপুরে ৮৪ শতাংশ এবং ঢাকায় ৮৩ শতাংশ।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের মধ্যে টিটিসিতে যাঁরা ভর্তি হন, তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য বিদেশে যাওয়া নয়। ৭৮.৭ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থী মূলত দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বিদেশে চাকরির আশায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মাত্র ৩৭.৯ শতাংশ কর্মী। প্রায় ৭.৪ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণকালীন সম্মানী পাওয়ার জন্য ভর্তি হয়েছেন। ফলে টিটিসির প্রশিক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে বিদেশমুখী কর্মসংস্থানের সরাসরি যোগসূত্র এখনো সীমিত।
তথ্য বলছে, টিটিসির প্রশিক্ষণার্থীদের ৫০.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ১৯.৩ শতাংশ বেকার। বিপরীতে ইলেকট্রিশিয়ান, চালক বা মেকানিকের মতো সরাসরি দক্ষ পেশায় থাকা প্রশিক্ষণার্থীর হার খুবই কম। গবেষকদের মতে, এতে টিটিসির প্রশিক্ষণের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থান ও বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে বড় ফাঁক স্পষ্ট হয়।
টিটিসিতে প্রশিক্ষকসংকট : শুধু প্রশিক্ষণ নেওয়ার হার কম নয়, প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। গবেষণায় ৪০টি টিটিসির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৭৩টি অনুমোদিত পদ থাকলেও প্রায় ৩৬টি পদ শূন্য। এর মধ্যে প্রশিক্ষকের অনুমোদিত পদের গড়ে ২১টি শূন্য। কোনো কোনো কেন্দ্রে একজন প্রশিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশগামী কর্মীদের জন্য দেশভিত্তিক ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী কারিকুলাম ও যন্ত্রপাতি উন্নয়ন, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো, দক্ষতার মানসম্মত সনদ চালু এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল ডেটা বেইস তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। টিটিসির চাকরি দেওয়ার কার্যক্রমকে বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদা ও নিয়োগ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মীরা বিদেশে গিয়ে একই পেশায় কাজ করছেন কি না, সেই তথ্যও পর্যাপ্ত নেই। সিপিডির গবেষণায় দুই হাজার ১৭৮ জনের মধ্যে বিদেশে যাওয়া কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় মাত্র ১৫ জন। তাঁদের কেউ ওয়েল্ডিং, কেউ মেশিনের কাজে, কেউ হোটেল ম্যানেজমেন্টে ছিলেন। কেউ টিটিসিতে নেওয়া প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ করছিলেন, আবার কেউ প্রশিক্ষণ নিয়েও ভিন্ন পেশায় কাজ করছিলেন।
সাত বাজারেই ৯৪ শতাংশ কর্মী : বিএমইটির তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৭৫টি দেশে কর্মী গেলেও মোট কর্মীর প্রায় ৯৪ শতাংশ মাত্র সাতটি দেশে যায়। এর মধ্যে পাঁচটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ এবং দুটি মালয়েশিয়াসহ প্রধান কয়েকটি শ্রমবাজার রয়েছে। ফলে বেশির ভাগ প্রশিক্ষণও মূলত এসব বাজারের প্রয়োজনকে ঘিরেই হয়ে থাকে।
ইউরোপীয় দেশগুলোতে যাওয়া কর্মীরা অনেক সময় বাংলাদেশ থেকে বেসিক প্রশিক্ষণ নিয়ে সেখানে গিয়ে আরো বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ বা কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেন।
কিছু দেশ নিজেরাই জনশক্তিকে দক্ষ করে নিয়ে যাচ্ছে : সূত্র জানায়, সব সংকটের মধ্যেও নতুন শ্রমবাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের মতো বাজারে শুধু কোনো একটি কাজ জানলেই হচ্ছে না; ভাষা, নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতা, কাজের মান, নিরাপত্তা এবং কখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দক্ষতার প্রমাণও প্রয়োজন হচ্ছে।
জাপানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী বা এসএসডাব্লিউ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পেশার জন্য দক্ষতা ও ভাষাগত যোগ্যতার পরীক্ষা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের জাপান সেলও জানিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য টেকনিক্যাল ইন্টার্ন, স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার এবং প্রকৌশলী বা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে।
দক্ষতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবস্থায়ও ভাষা ও কাজের সক্ষমতার পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের দক্ষতা প্রশিক্ষণকে ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা এবং যোগ্যতার স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। ২০২৪-২৭ মেয়াদের প্রকল্পে স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, তথ্য-প্রযুক্তি, কেয়ার, আতিথেয়তা, নির্মাণ, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে তিন হাজার কর্মীর দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্য রয়েছে। কাতারের সঙ্গেও ২০২৬ সালে বাংলাদেশের পাঁচটি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে চারটি খাতে কর্মী নেওয়ার আগ্রহের কথা সরকার জানিয়েছে।
সিপিডির রিসার্চ ফেলো আবু সালেহ মো. শামীম আলম শিবলী বলেন, কিছু দেশ কর্মী নেওয়ার আগেই পরীক্ষা ও যাচাই করে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাষা ও কাজের মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। জাপানের ক্ষেত্রে ভাষা শেখানোর পরও কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। যদিও মোট অভিবাসনের তুলনায় এ ধরনের কর্মীর সংখ্যা খুবই কম।
তিনি বলেন, সৌদি আরব, দুবাই, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে অনেক সময় পুরনো প্রশিক্ষণ পদ্ধতি চালু থাকে। ফলে দেশে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তা বিদেশের বর্তমান প্রযুক্তি ও কাজের চাহিদার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো হয়নি। বিভিন্ন দেশের চাহিদার কথা কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জানতে পারে। কিন্তু সেই চাহিদা নিয়মিত বিশ্লেষণ করে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম, আসনসংখ্যা ও প্রশিক্ষকের দক্ষতার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার জন্য আলাদা কার্যকর কাঠামো দুর্বল।

বিদেশ গমনে ভাষা গুরুত্বপূর্ণ, তবে শিখতে অনাগ্রহ : অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে সমস্যার আরেকটি বড় জায়গা ভাষাগত দক্ষতা। অনেক কর্মী বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাষা শেখাকে প্রয়োজনীয় মনে করেন না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিতজনের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকে মনে করেন, বিদেশে গিয়ে কাজ করতে করতেই ভাষা শিখে নেওয়া যাবে।
এই প্রবণতা শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ নিয়োগকর্তার চাহিদা এখন শুধু শারীরিক শ্রমনির্ভর নয়; কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ, নিরাপত্তা নির্দেশনা বোঝা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে কাজ পারলেও কাজে গিয়ে নিজের চাহিদামতো চাকরি পাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা।

টিটিসি বাড়ালেও শিক্ষক ও সুবিধা অপ্রতুল : বাংলাদেশের টিটিসিগুলোতে বর্তমানে কিছু আধুনিক প্রশিক্ষণ হচ্ছে। তবে ভালো শিক্ষকের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে ভালো প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে দেশে ১১০টি টিটিসি পরিচালনার কথা জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে বলা হয়েছিল, দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিসর, মান ও শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য।

কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষকসংকট, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, কারিকুলামের আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষা এবং বিদেশি নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ—এসব নিশ্চিত না হলে অবকাঠামো বাড়ালেও দক্ষ কর্মীর সংখ্যা সেই হারে বাড়বে না।

দক্ষ কর্মী তৈরিতে প্রতিযোগীদের থেকে পিছিয়ে বাংলাদেশ : বাংলাদেশের সঙ্গে একই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করছে ভারত, ফিলিপাইন, নেপাল ও ভিয়েতনাম। এসব দেশের অভিজ্ঞতার একটি বড় পার্থক্য হলো, তারা শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা নয়, কর্মীর দক্ষতা, নিয়োগ, যাচাই এবং বিদেশে যাওয়ার পরের অবস্থার ওপরও বেশি গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশের শুধু প্রশিক্ষণে নয়, তথ্যেও ঘাটতি রয়েছে। কোন কর্মী কোন দেশে গেলেন, কোন পেশায় গেলেন, সেখানে গিয়ে একই পেশায় আছেন কি না, কর্মস্থল পরিবর্তন করলেন কি না এবং দেশে ফিরে এলে তাঁর কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন—এসব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যায় না।

সাবেক বিএমইটি পরিচালক ও বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসআইসিআইপি প্রকল্পের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ স্পেশালিস্ট ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, গত ২০ বছরে দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আগে প্রশিক্ষণে তেমন কাঠামো ছিল না, সিলেবাসও যথাযথ ছিল না। প্রশিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও ঘাটতি ছিল। এখন এসব ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে বড় একটি ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে যে ধরনের দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সেই চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ পুরোপুরি সাজানো হয়নি।

ড. নুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা বা ফিলিপাইনের তুলনায় খুব বেশি পিছিয়ে নেই। মূল সমস্যা অন্য জায়গায়। সবচেয়ে বড় ঘাটতিগুলোর একটি হলো প্রশিক্ষকসংকট। ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশে প্রশিক্ষকদের দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশে তার ঘাটতি রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রশিক্ষণযন্ত্র দ্রুত আধুনিকায়ন করতে না পারাও বড় সমস্যা।

অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সাফল্য কত লাখ কর্মী বিদেশে গেলেন, এই সংখ্যায় মাপা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার বদলে যাওয়ায় এখন শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা দিয়ে সাফল্য মাপার সুযোগ কমছে। কর্মীটি কী কাজ জানেন, তাঁর দক্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আছে কি না, তিনি যে পেশার জন্য বিদেশে গেলেন সেই পেশায়ই কাজ করছেন কি না, ভাষা জানেন কি না, নিয়োগকর্তার প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেন কি না এবং তাঁর দক্ষতার কারণে তিনি কতটা ভালো মজুরি পাচ্ছেন—এসব প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
 
১
বিদেশগামী ৭১শতাংশ কর্মীই ‘অদক্ষ’ঃ দক্ষের নামে পাঠানো হচ্ছে অদক্ষদের
বিদেশগামী ৭১শতাংশ কর্মীই ‘অদক্ষ’ঃ দক্ষের নামে পাঠানো হচ্ছে অদক্ষদের
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের প্রায় ৭১ শতাংশই সরকারি টিটিসি বা বেসরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্র—কোনো জায়গা থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিক ...
২
সাতক্ষীরায় নদীকৃত্য দিবস পালিত দখল-দূষণমুক্ত জীবন্ত নদীর দাবি
সাতক্ষীরায় নদীকৃত্য দিবস পালিত দখল-দূষণমুক্ত জীবন্ত নদীর দাবি
“নদী বাঁচাও—প্রকৃতি ও মানুষ বাঁচাও” এবং “দখল-দূষণমুক্ত প্রবাহমান জীবন্ত নদী চাই”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব নদীকৃত্য দিবস ২০২৬ পালিত ...
৩
আগৈলঝাড়ায় গ্রামীণ সড়কের অগ্রাধিকার নির্ধারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
আগৈলঝাড়ায় গ্রামীণ সড়কের অগ্রাধিকার নির্ধারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নকে আরও পরিকল্পিত, টেকসই ও জনবান্ধব করতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রামীণ সড়ক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন (জিআইএসভিত্তিক) প্রকল্পেরআওতায় কোর রোড নেটওয়ার্ক ...
৪
জয়পুরহাটে বিএনপি'র ৪ নেতাকে হত্যার হুমকি
জয়পুরহাটে বিএনপি'র ৪ নেতাকে হত্যার হুমকি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে দলের চার নেতাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ...
৫
হাতিবান্ধা সীমান্তে ইয়াবাসহ ২ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক
হাতিবান্ধা সীমান্তে ইয়াবাসহ ২ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা সীমান্তে বিজিবির এক বিশেষ অভিযানে ১৪ পিস ইয়াবাসহ দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার (৩০ ...
৫
৫০ শয্যার ডেঙ্গু কর্নারে ভর্তি শতাধিক রোগী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে নারী ও শিশুর মৃত্যু
৫০ শয্যার ডেঙ্গু কর্নারে ভর্তি শতাধিক রোগী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে নারী ও শিশুর মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা এক শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোর ...
৭
বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরা হলোনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিজানের, মরদেহ মিলল ইটভাটায়
বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরা হলোনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিজানের, মরদেহ মিলল ইটভাটায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর অনুপনগরের একটি ইটভাটা থেকে মিজানুর রহমান নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ...
৮
বোয়ালখালীতে আবারো আগুন, পুড়ে ছাই ৫ বসতঘর
বোয়ালখালীতে আবারো আগুন, পুড়ে ছাই ৫ বসতঘর
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আবারো আগুনে পুড়েছে ৫ বসতঘর। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ...
৯
ভয়ের বদলে তোয়াক্কা না করার সংস্কৃতি চালুঃ নিয়ন্ত্রণে আসছেই না আইনশৃঙ্খলা
ভয়ের বদলে তোয়াক্কা না করার সংস্কৃতি চালুঃ নিয়ন্ত্রণে আসছেই না আইনশৃঙ্খলা
গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশে এক ধরনের ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ চালু ছিল। বলা হতো, বাংলাদেশ একটি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত ...
১০
চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান এবং তা আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ...
 
১
তীব্র গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি
তীব্র গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আকুয়া এলাকায় আবাসিক বসতবাড়ির মধ্যে ‘মিঠু বিড়ি’ কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটি শাহিন মিয়ার মালিকানাধীন। ...
২
পঞ্চগড়ে মাতৃসেবা ফার্মেসীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে সংবাদ সম্মেলন
পঞ্চগড়ে মাতৃসেবা ফার্মেসীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে সংবাদ সম্মেলন
পঞ্চগড়ে মাতৃসেবা ফার্মেসীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে আট মাসের ...
৩
সোনারগাঁয়ে ট্রলারডুবি: নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের ৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার
সোনারগাঁয়ে ট্রলারডুবি: নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের ৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ...
৪
বোদায় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা পেল নতুন বাইসাইকেল ও টর্চলাইট
বোদায় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা পেল নতুন বাইসাইকেল ও টর্চলাইট
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের যাতায়াত সহজকরণ ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানে সহায়ক হিসেবে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ৯৮ জন গ্রাম পুলিশের মাঝে উন্নতমানের ...
৫
টাঙ্গাইলে লোডশেডিংয়ের জন্য দায়ী ইজিবাইক, দিনে খরচ ৩০ মেগাওয়াট
টাঙ্গাইলে লোডশেডিংয়ের জন্য দায়ী ইজিবাইক, দিনে খরচ ৩০ মেগাওয়াট
টাঙ্গাইলে চলমান ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা। জেলার ১২টি উপজেলায় চলাচলকারী প্রায় ৬০ ...
৫
“আইনের শাসন, ক্ষমতা, বিচারহীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা: কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ?”
“আইনের শাসন, ক্ষমতা, বিচারহীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা: কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ?”
“বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই”—২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম উচ্চারিত এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে যে বৈষম্যহীনতার প্রত্যাশা সামনে এসেছিল, ...
৭
কালাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
কালাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ...
৮
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: মানুষের ওপর জুলুম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: মানুষের ওপর জুলুম
‘হঠাৎ করে কোন প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়া জ¦ালানি তেলের মূল্য লিটার প্রতি ২০টাকা বৃদ্ধি সরকারী ঘোষণাকে আত্মঘাতী। কোন প্রকার প্রস্তুতি ...
৯
কালিহাতীতে বালু মহালে অভিযান, ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা
কালিহাতীতে বালু মহালে অভিযান, ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চারজনকে মোট ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ...
১০
বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
ঢাকার আশপাশের শহরতলি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ...
সম্পাদক ও প্রকাশক: ইউসুফ আহমেদ (তুহিন)
প্রকাশক কর্তৃক ৭৯/বি, ব্লক বি, এভিনিউ ১, সেকশান ১২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ থেকে প্রকাশিত ও ৫২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা ১১০০ থেকে মুদ্রিত
বার্তাকক্ষ : +৮৮০১৯১৫৭৮৪২৬৪, ই-মেইল editor@natun-barta.com, Web : www.Natun-Barta.com.com