|
জালালাবাদ সিটি পার্ক হবে সিলেটের সাংস্কৃতিক হাব
৭ বছর বন্ধ থাকার পর আবারো জানালাবাদ সিটি পার্ক নামে নতুন রুপে
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া,সিলেট ব্যুরো:
|
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা আর অর্থনৈতিক সংকটে ৭ বছর থেকে সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকার পর আবারো চালু হচ্ছে সিলেটের জালালাবাদ পার্ক। তবে এটি নতুন আঙ্গিকে জালালাবাদ সিটি পার্ক হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। জালালাবাদ পার্ক টি ২০১৬ সালে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায়শিশু পার্কের রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু হলেও সীমানা প্রাচীর এবং রাউন্ড বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় সেই কাজ। সেই সময় বন্ধ ঘোষণা করা হয় জনসাধারণের জন্য পার্কে প্রবেশ। বন্ধ কাকার ৭ বছর পর জালালাবাদ পার্ক আবার চালু হচ্ছে। পার্কটির গুরুত্ব অপরিসীম অবস্থানগত কারণে। সার্কিট হাউস, ক্বিনব্রিজ, সুরমা নদী ও আলী আমজদের ঘড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে যার অবস্থান। শুধু তাই না এই স্থানটিকে কেউ কেউ ঐতিহ্য চত্বর বলে ঘোষণা দিয়েছেন । ঐতিহ্য চত্বর ঘোষণা করে অবিলম্বে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে আহ্বান করেছেন ডাক্তার বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ জহিরুল ইসলাম অচিনপুরি। আবার নানা রকম ঐতিহ্য এক স্থানে থাকায় স্থানটিকে সিলেটের প্রবেশ মুখ বা প্রবেশদ্বার বলে দাবি করছেন অনেকেই। সিলেটের এপার -ওপার দুই পারের মানুষের সংযোগস্থলেই উপস্থিতি জালালাবাদ পার্ক এর। যারা রেলপথ বা সড়কপথে ক্বিনব্রিজ হয়ে সিলেটে প্রবেশ করবেন তাদের নজরে পার্কটি পড়বেই। সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন হলে নগরবাসীর পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদের জন্য ও আকর্ষণীয় একটি স্পট হবে এটি। অনেকেই সিলেটে এসে বিকেল বেলা বা সন্ধ্যায় কিছু সময় কাটাতে পারবেন আনন্দগন পরিবেশে পার্কটি বাস্তবে রূপ নিলে। সিলেট নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হবে জালালাবাদ সিটি পার্কের। বয়স্কদের স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা এবং শিশুদের খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি পার্কের সীমানাপ্রাচীরও সংস্কার করা হবে, যাতে বাহির থেকেও পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সোমবার (৫ অক্টোবর) সরেজমিনে পার্কটি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি পার্কটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করবেন বলে ঘোষণা দেন। সিসিক প্রশাসক বলেন, আমরা এই পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করছি। তবে তার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে। শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করে পার্কটি সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি পার্কটিকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে, যাতে নগরবাসী এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন। নতুন নামকরণ করা হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’। তিনি বলেন, পার্কের গেট ও সীমানাপ্রাচীর এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, এখানে একটি পার্ক রয়েছে। তাই সীমানাপ্রাচীরও সংস্কার করা হবে, যাতে বাইরে থেকে পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য দেখা যায়। একই সঙ্গে পার্কের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে। সিসিকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত থাকবে এবং তারা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। খুব দ্রুত পার্কের সংস্কারকাজ শুরু হবে। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ যান এবং সুন্দর সময় কাটান। জালালাবাদ সিটি পার্কের সংস্কারকাজ শেষ হলে নগরবাসীকে এখানে এসেও অবসর সময় কাটানো এবং শরীরচর্চা করার আহ্বান জানানো হবে। তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে নগরবাসীর হাঁটাচলার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। মুক্ত বাতাসে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও সীমিত। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরোনো কারাগারের জায়গাতেও পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিসিকের নিজস্ব মালিকানাধীন জালালাবাদ পার্ক ছাড়া পার্ক করার মতো আর তেমন জায়গা নেই। তাই এই পার্কটি নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, জালালাবাদ সিটি পার্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে অবস্থিত। এর কাছেই রয়েছে সার্কিট হাউস, ক্বিনব্রিজ, সুরমা নদী ও আলী আমজদের ঘড়ি। ফলে পার্কটি সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নগরবাসীর পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি স্থান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এটি হবে সিলেটের সাংস্কৃতিক হাব। সরেজমিন পরিদর্শনকালে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদারসহ সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য,সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বন্ধ হয়ে থাকা জালালাবাদ পার্ক খুলে দেয়া। এটি আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে জেনে আশা করছেন নগরবাসী প্রতিদিন পর্যটন নগরীর মানুষের বিকেলের বিনোদন , ছুটির দিনের বিনোদন এর জন্য আর যেতে হবে না শহর ছেড়ে। পরিবারের পরিজন নিয়ে একসাথে যখন বাসায় তালা দিয়ে শহরের বাহিরে যান কোন বিনোদন স্পটে, তখন আতঙ্কে থাকতে হয় বাসা নিয়ে। অনেক সময় এসে দেখা যায় তালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটে গেছে।আবার কোন কোন সময় ঘরে বয়স্ক লোক আছে অসুস্থ ঊনাকে রেখে দূরে গেলে থাকতে হয় দুশ্চিন্তায়। সব মিলিয়ে শহর কেন্দ্রিক জালালাবাদ পার্কের মত বন্ধ হয়ে থাকা একটি পার্ক খুলে দেয়া ছিল সিলেট নগরবাসীর সময়ের দাবি। অপরদিকে পর্যটকরা যখন সিলেটে আসেন তখন শহর কেন্দ্রিক কোন পার্ক না থাকার কারণে তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে সময় কাটাতে অথবা প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পর্যটন এরিয়া গুলোতে বসে থাকেন শুধু অবস্থান করেন খাওয়া দাওয়া করে সংশ্লিষ্ট আবাসিক হোটেলে ঘুমানোর জন্য শহরে। শহর কেন্দ্রিক এই পার্ক যদি সেবা দেয়ার মত মান বহন করে সুরমার পাড়ে যদি সিসিকের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। তাতে আমরা আশা করছি পর্যটক ও নগরবাসী কে বিনোদন দিতে পারে জানালাবাদ সিটি পার্ক। উপভোগ করে আনন্দময়ী হতে পারে নগরবাসী ও ভ্রমণ পিপাসুরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক হাব যেন পায় সিলেট বাসি। |