|
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবারো স্কুল ফিডিং কেলেংকারী, ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্তে আসছেনা কোন সুরাহা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
|
আবারো স্কুল ফিডিং কেলেংকারীর ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এবারের ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার লহলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় গ্রাম উন্নযন কর্ম-গাক কর্তৃক সরবরাহকৃত টিফিনের খাবার খাওয়ার পরপরই বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীদের তীব্র পেট ব্যথা হয় এবং তার পরপরই বমি হতে শুরু করে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের উদ্ধার করে দ্রæত শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ তাদের অভিভাবকের জিম্মায় বাড়িতে ফেরত পাঠান চিকিৎসকরা।বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সব শিশুই এখন পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে এবং তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন থেকে দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং তারা তা করেছেন বলে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা। আর সরবরাহকৃত খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার কারণ অনুসন্ধানে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। জানা যায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)-কে আহŸায়ক এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নিরাপদ খাদ্য অফিসার ও জেলা স্যানিটারি পরিদর্শককে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যা স্বাক্ষরিত পত্রে অনুমোদন দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। পত্রে গঠিত তদন্ত কমিটিকে, গাক কর্তৃক সরবরাহকৃত খাবারের গুণগত মান যাচাই, অসুস্থতার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিভাবকরা বলছেন, সরকার একটি ভালো উদ্দ্যোগ নিলেও বারবার কে বা কারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এমন নি¤œ মানের খাবার সরবরাহ করছে। এটা বাচ্চাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জেলায় বেশ কয়েকবার একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি হয়েছে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় গাক দুপুরের টিফিন সরবরাহ করছে, শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে, তদন্ত কমিটি গঠন হচ্ছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। আমরা তো আর আমাদের বাচ্চাদের চোখের সামনে মরতে দিতে পারিনা। আর তাই সরকারের উচিৎ সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, নতুবা এই কর্মসূচী পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া। |