|
আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে ঢুকে বারিধারায় গোলাগুলির পর অবশেষে গ্রেপ্তার লাবুসহ ৩
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
|
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খোলস বদলে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি নেতা বনে যাওয়া সৈয়দ এনামুল হক লাবুর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটেছে। বারিধারার ময়লার ডিপোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় এলিট ফোর্স র্যাবের হাতে অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন লাবু ও তার সহযোগীরা। তবে গ্রেপ্তারের সময় অপরাধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।ময়লা টেন্ডার সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক খোলস বদল অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দ এনামুল হক লাবু আগে বনানী থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. নাছিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই প্রভাবেই তিনি মহাখালী ও বনানী এলাকার কড়াইল বস্তি সংলগ্ন ময়লার টেন্ডার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর লাবু রাতারাতি খোলস বদলে ফেলেন এবং বনানী থানা বিএনপির কতিপয় নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিএনপি কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের 'ম্যানেজ' করে তিনি তার পুরনো ময়লা সিন্ডিকেট বহাল রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও কড়াইল বস্তি সংলগ্ন ময়লার ডিপোতে একই কায়দায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটিয়েছিলেন লাবু। তবে সে সময় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত রোববার (১৯ জুলাই)। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান থানার কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে একটি পিকআপে করে বাসাবাড়ির ময়লা নিয়ে বারিধারা ‘কে’ ব্লকের একটি ডিপোতে যান শ্রমিক তৌহিদ (৩৮)। ওই সময় চারটি মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। প্রাণ বাঁচাতে পিকআপের নিচে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে তৌহিদের পায়ে গুলি লাগে। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই শহীদ মিয়া বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে বরকতুল্লাহ শুভ, হেলাল, লাবু ও মোশারফসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর সোমবার (২০ জুলাই) রাতে বান্দরবান সদর উপজেলার আর্মিপাড়া এলাকার একটি রিসোর্টে যৌথ অভিযান চালায় র্যাব-১ ও র্যাব-১৫। সেখান থেকে মূল অভিযুক্ত সৈয়দ এনামুল হক লাবু (৪৬), মো. হেলাল মিয়া (৪০) ও মোশারফ হোসেন (৩৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও তাদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি র্যাব। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিক তৌহিদ। তৌহিদ বলেন, “আমাকে সশরীরে গুলি করা হলো, অথচ সেই অস্ত্রই উদ্ধার হলো না! অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় আসামিরা খুব সহজেই আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসবে। এতে আমাদের জীবন আবার চরম ঝুঁকিতে পড়বে।” র্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম বলেন, ,“আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবানের একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে বারিধারা গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। গ্রেপ্তারকৃতরা অত্যন্ত চালাক, আত্মগোপনে থাকার সময় তারা অস্ত্রটি অন্য কোথাও লুকিয়ে রেখেছে। আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।” বনানী থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে বিএনপি তার দায় নেবে না। লাবু বা তার সহযোগীদের সঙ্গে বিএনপির কোনো দাপ্তরিক সম্পর্ক নেই। যদি দলের কোনো নেতাকর্মী সুবিধাবাদী বা অপরাধীদের মদদ দিয়ে থাকে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” |