|
বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকা থেকে ৯৪ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, আটক ৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা :
|
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে সক্রিয় স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। বিমানবন্দরের সরকারি খোলা পার্কিং এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ ছয়জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা।বুধবার (১০ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মুখস্থ সরকারি খোলা পার্কিং এলাকার দক্ষিণ পাশে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, মো. মনির হোসেন (৩২), কাজী মাসুদ (২৩), সাইদুল ইসলাম (২৬), ইলিয়াছ খাঁন (৩৩), সাব্বির মিয়া (২২) এবং মো. কামাল হোসেন (৪৪)। এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা একটি মাইক্রোবাসে দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করলে এপিবিএনের সদস্যরা ধাওয়া করে তাদের আটক করেন। পরে এপিবিএন কার্যালয়ে নিয়ে শরীর তল্লাশি চালানো হলে তাদের হেফাজত থেকে মোট ৫৯৭ দশমিক ৩ গ্রাম ওজনের ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৪০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে আনা স্বর্ণ সংগ্রহ করাই ছিল তাদের কাজ। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের ‘রিসিভার’ হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। এ ঘটনায় আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, “বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে সংঘটিত স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” বিমানবন্দরে এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে, আন্তর্জাতিক রুটকে ব্যবহার করে পরিচালিত চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। |