|
মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, দুজন গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
|
মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আরিফুল ও সানি। তাদের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শফিরকান্দি গ্রামে।সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি দল মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে বাঞ্ছারামপুরের শফিরকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। বুধবার (১০ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মুনতাছিরের বাবা মালয়েশিয়াতে কর্মরত। গত ১১ জানুয়ারি মুনতাছিরের মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, তার বাবা ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। টাকা নিতে তাকে ঢাকার জয়নাল মার্কেট এলাকায় যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে কৌশলে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মিরপুর পল্লবীর একটি ভবনে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে অপহরণকারীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে মুনতাছিরকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করলে অপহরণকারীরা বিষয়টি টের পেয়ে ১২ জানুয়ারি গভীর রাতে তাকে শেরে বাংলা নগর এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় মুনতাছিরের মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় অপহরণ, মারধর, অবৈধভাবে আটকে রাখা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা করেন। সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা দেশে এসে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়ে আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,গ্রেফতার ব্যক্তিরা এবং তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে। সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন মামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। |