|
ধর্ষণ মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, শিশু সুরক্ষায় 'সাংবিধানিক ব্যর্থতা'র অভিযোগ
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার মামলায় বাংলাদেশে সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। একই সময়ে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে সাংবিধানিক পর্যবেক্ষণ সংগঠন কনস্টিটিউশন ওয়াচডগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে।আজ প্রকাশিত 'নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা পরিস্থিতি প্রতিবেদন' শীর্ষক এই প্রকাশনায় মে ২০২৬ মাসের তিনটি ঘটনার বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা, নেত্রকোণার মদনে একটি মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী ছাত্রীর দীর্ঘ ছয় মাস ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়া, এবং ফরিদপুরে সাত বছরের আইরিন আক্তারের হত্যাকাণ্ড, যেখানে রাজনৈতিক গুজব ছড়িয়ে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সারাদেশে ধর্ষণের ৭ হাজার ৬৮টি মামলা দায়ের হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৩৫ হাজারেরও বেশি মামলা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। গড়ে একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। সংগঠনটির সভাপতি মো. ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ্ বলেন, "রাষ্ট্র যখন ঢাকার বুকে একটি আট বছরের শিশুকেও রক্ষা করতে পারে না, তখন সংবিধানের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি।" প্রতিবেদনে সরকারের কাছে আট দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, অভিযোগ দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের বাধ্যবাধকতা, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন। |