|
তত্ত্বাবধায়কের পূর্ণাঙ্গ রায়: সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন প্রধান
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
সংবিধানে বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বহুল আলোচিত এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, চতুর্দশ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে বর্তমান সংসদ চাইলে এই ব্যবস্থার সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে বলে জানান আইনজীবীরা। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান।এদিন বিএনপির আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এই রায় কোনো দলের নয়, পুরো জাতির জন্য মাইলফলক। আগের প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক রাজনীতির ফায়দা লুটতেই তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করেই দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিল বলে জানান আইনজীবীরা। তারা বলেন, এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান আবার ফিরল। এ-সংক্রান্ত বিধান পুনরুজ্জীবিত হলেও এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না। জাতীয় সংসদের চতুর্দশ নির্বাচন থেকে তা প্রয়োগ হতে পারে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, রায়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবলিত ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। এই পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্বহাল হওয়াটা সংবিধানের ৫৮বি ও ৫৮সি অনুচ্ছেদ সাপেক্ষে প্রয়োগ-কার্যকর হবে। ওই অনুচ্ছেদে আছে সংসদ ভেঙে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। তবে বর্তমান সংসদ চাইলে এই ব্যবস্থার সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০১১ সালের সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলে নতুন করে আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত নেয় সর্বোচ্চ আদালত। পরে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেন সর্বোচ্চ আদালত। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ৬ বিচারক হলেন, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। |