|
ইরানকেও গাজা বানাতে চায় ইসরাইল: বিশ্লেষক
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই আগ্রাসনের পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে। কিন্তু গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভূমিতে বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণ ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে তার অধিকাংশ ঠেকাতে পারছে না তেহরান। এতে আরেকটি গাজার দৃশ্য ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যাকায় গণহত্যা চালানোয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কেউ। এ কারণে তিনি আবও বেপরোয়া হয়ে ইরান আক্রমণ করেছেন। বরাবরের মতো এবারও নিরীহ মুসলমানদের গণহারে হত্যা করার জন্য পাশে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে। হাজার হাজার শিশুর প্রাণ হরণকারী নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান আক্রমণের সূচনা করেছেন একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার মাধ্যমে। যেখানে একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ১৮০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরো শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আগ্রাসনের পঞ্চম দিন বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। দি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আমজাদ ইরাকি আলজাজিরাকে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমরা ইরানেও ইসরাইলের আগের নীতির প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। তেল আবিবের সেনারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভূমিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা তাদের আগের নীতি থেকে আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ইসরাইল গাজা ও লেবাননে সব সময় ‘ঘাস কাটা‘-এর একটি সাধারণ নীতি অনুসরণ করছে। যার অর্থ হলো ঘাস বড় হলেই মাথা কেটে ফেলতে হবে। এই নীতির কারণ হলো- ইসরাইল সর্বদা ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধা গোষ্ঠী হামাস ও হিজবুল্লাহকে হুমকির বাইরে রাখতে চায়। যখনই তাদের হুমকি মনে হয়, তখনই নানা অজুহাতে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দুর্বল করে দেয়। আমজাদ ইরাকি বলেন, ইরানে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর নীতি অনুসরণ করছে তেল আবিব। তারা ইরানে ‘ঘাস জ্বালিয়ে দেওয়ার’ কৌশল নিয়েছে, যেন দেশটি আর টিকে থাকতে না পারে। ইসরাইল ইরানে তাই করছে যা আড়াই বছর ধরে গাজায় করছে। এই বিশ্লেষক বলেন, গাজায় গণহারে জনজীবন ধ্বংস করে দিলেও কূটনৈতিকভাবে তারা তাদের সেনাবাহিনীর শক্তি বরাবরই বাড়িয়ে নিতে পেরেছে। এজন্য তারা এখন আর ঘাস কাটার নীতিতে নেই, বরং শেকড়সহ ঘাস ধ্বংস করার কৌশল নিয়েছে। তিনি যোগ করেন, ইসরাইল যুদ্ধনীতির তোয়াক্কা না করে নিয়মিত ইরানের স্কুল, মসজিদ, মাজার, বেসামরিক বাড়িঘর, স্থাপনাসহ যা পাচ্ছে তাই ধ্বংস করে দিচ্ছে। এজন্য গাজায় আড়াই বছরের ধ্বংসযজ্ঞ ও ইরানের গণবিধ্বংসী হামলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ আছে। তারা তেহরানকে পুরোপুরি শেষ করে দিতে চাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইল যেকোনো বড় ক্ষতি থেকে মুক্ত, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের হামলায় তাদের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব নয়। আমজাদ ইরাকি বলেন, এই যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইল মোটেও চিন্তিত নয়। এমনকি বিষয়টি তাদের কাছে অতটা গুরুতরও মনে হচ্ছে না। কারণ, ওয়াশিংটন তাদের পাশে থাকায় কূটনৈতিক সমর্থন ও অস্ত্র পেতে তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইউরোপ ও আরব বিশ্বসহ পৃথিবীর অন্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনও আদায় করছে। তাই তারা মূলত একটি ধ্বংসাত্বক খেলায় মেতেছে। |