|
ইসরাইলের হৃদপিণ্ডে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
মধ্য ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পেটাহ তিকভা ও অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র রামাত গানে শক্তিশালী ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেডসহ (বিস্ফোরকযুক্ত ক্ষুদ্র কণা বহনকারী) একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে জানা গেছে, গতকাল এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। টাইমস অফ ইসরাইল এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ এবং এর ভেতরে থাকা মারাত্মক ধাতব কণাগুলো শহরের একটি বিশাল অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।এতে ওই অঞ্চলের বেশ কিছু স্থাপনা ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক রিপোর্টে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ‘ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড’ মূলত আঘাতের পর বিশাল এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মধ্য ইসরাইল জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই রামাত গানের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী এবং প্যারামেডিকসরা দ্রুত পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। হামলার পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আকাশজুড়ে ধোঁয়ার কু-লী দেখা গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের নিক্ষিপ্ত বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা গেলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরেই গতকাল সন্ধায় ইসরাইলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরান থেকে ছোড়া শক্তিশালী প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র। হামলার পরপরই শহরের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পরপরই ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইসরাইলের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে। পুলিশ বর্তমানে পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং অবিস্ফোরিত কোনো অংশ আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইহুদি-নাসারাদের হামলায় ১৭৬ শিশুসহ ৭৮৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত : ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় দেশটিতে চারদিনে কমপক্ষে ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে। তাদের দাবি, মোট নিহতদের মধ্যে ৭৪২ জনই বেসামরিক নাগরিক। হরমুজ বন্ধ, জাহাজ গেলেই হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। সোমবার (২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এখান দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করে, তবে বিপ্লবী গার্ড এবং নিয়মিত নৌবাহিনীর বীর যোদ্ধারা সেই জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেবে।’ জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত : হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের ‘তেল বাণিজ্যের ধমনী’ বলা হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক এবং কুয়েতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। জাহাজে হামলার খবর : ইতিমধ্যেই প্রণালী এলাকায় উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকায় অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ বা ড্রোনের আঘাতে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ-মিশনগুলো বলছে যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরান এককভাবে এই জলপথ বন্ধ করতে পারে না, তবে নিরাপত্তার অভাবে অনেক জাহাজ কোম্পানি ইতিমধ্যেই তাদের যাত্রাপথ পরিবর্তন করেছে অথবা যাত্রা স্থগিত করেছে। ৬ মার্কিন সেনা নিহত, ইসরাইলের পরিকল্পনাতেই হামলা : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠেছে। এই হামলার সময় নির্ধারণে ইসরাইলের পরিকল্পনা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ওয়াশিংটন আগে থেকেই জানত যে ইসরাইল ইরানে আঘাত হানতে যাচ্ছেÑএবং সেই হিসাব কষেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম পদক্ষেপ নেয়। সোমবার (২ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুবিও বলেন, ইসরাইল ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেÑএ তথ্য মার্কিন প্রশাসনের জানা ছিল। তার ভাষায়, ইসরাইল আঘাত করলে ইরান নিশ্চিতভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর পাল্টা হামলা চালাত। তাই সম্ভাব্য বড় ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র আগাম ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, সংঘাতের এই পর্যায়ে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়। কিছু স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। রুবিও দাবি করেন, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, এই সামরিক শক্তি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলো বন্ধ ঘোষণা : ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে তাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে এই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার অথবা সম্ভব হলে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ইরানের ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। হামলায় দূতাবাসের প্রাঙ্গণে মৃদু অগ্নিকা- ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার পর রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাহরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের সমস্ত নিয়মিত ও জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন কর্মকর্তাদের এবং সাধারণ নাগরিকদের মিসাইল ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বাড়ির ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কাতারের আল-উদেইদ সামরিক ঘাঁটির নিকটবর্তী মার্কিন দূতাবাস থেকেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাগরিকদের জরুরি রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জর্ডানে মার্কিন দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে যে, আকাশপথে চলমান যুদ্ধের কারণে যে কোনো সময় জর্ডানের আকাশসীমায় মিসাইল বা ড্রোন প্রবেশ করতে পারে। অন্যদিকে, বাহরাইনে মার্কিন মিশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইসরাইলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখান থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের সক্ষমতা সীমিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের ১৪ দেশ ছাড়ার আহ্বান : নিজ দেশের নাগরিকদের ১৪টি দেশ অবিলম্বে ছেড়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গতকাল কনস্যুলার বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, গুরুতর ঝুঁকির কারণে পররাষ্ট্র দফতর আমেরিকান নাগরিকদেরকে যত দ্রুত সম্ভব, বর্তমানে যে পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে তা ব্যবহার করে ১৪টি দেশ থেকে বেরিয়ে যেতে বলছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি ভূখ-, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সউদী আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন। সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলা, রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য : সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে আকস্মিক ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই হামলার প্রেক্ষাপটে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের গুরুতর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির অন্যতম আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ডানকান’-কে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও জাহাজটি মোতায়েনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে কৌশলগত কারণে একে যেকোনো মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পাঠানোর জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। সউদী প্রিন্স ও বাহরাইনের রাজার সঙ্গে ফোনালাপ পুতিনের : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং সউদী আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সোমবার (২ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দুই নেতা ওই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ইরান এবং পশ্চিমাপক্ষগুলোর মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা। প্রেসিডেন্ট পুতিন এই পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। যুবরাজও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে রিয়াদের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পুতিন বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা-র সঙ্গে ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়ে অঞ্চলে অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে ইরান এবং ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল রুটে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও লাফিয়ে বাড়ছে। পুতিন এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি এর আগে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও একই বিষয়ে কথা বলেছেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া ঐতিহাসিকভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুতে সমঝোতার জন্য কাজ করে আসছে এবং বর্তমানেও স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগ্রহী। ‘বৈশ্বিক বিপর্যয়ের’ সতর্কবার্তা মেদভেদেভের : দিমিত্রি মেদভেদেভ মঙ্গলবার তীব্র সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বিশ্বকে ‘বৈশ্বিক বিপর্যয়’-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি ওয়াশিংটনের কথিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’কে শাসন পরিবর্তনের অপরাধমূলক প্রচেষ্টা ও বৈশ্বিক প্রাধান্য কায়েমের মরিয়া লড়াই হিসেবে আখ্যা দেন। মেদভেদেভ দাবি করেন, পরিস্থিতি সরাসরি পারমাণবিক মুখোমুখি সংঘাতে গড়ালে ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমার ঘটনাও তুলনায় ‘শিশুদের খেলা’ মনে হবে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে এবং শিয়া বিশ্বজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সূত্র : টাইমস নাউ, তাস, রয়টার্স, আল-জাজিরা, ডেইলি সাবাহ, নিউইয়র্ক টাইমস। |