|
বিশ্বশান্তিতে বারুদের গন্ধ : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয় আসন্ন
মীর আব্দুর আলীম:
|
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন আর কেবল নক্ষত্রের নয়, বরং সেখানে রাজত্ব করছে ধাবমান মিসাইল আর বারুদের উগ্র গন্ধ। তেহরানের আকাশে যখন আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়, তখন তার তপ্ত আঁচ অনুভূত হয় হাজার মাইল দূরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। জায়নবাদী ইসরায়েল আর সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার যে রক্তলিপ্সা আজ বিশ্বশান্তিকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে, তা কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখার সংঘাত নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র। পবিত্র রমজান মাসে যখন শান্তির বারতা আসার কথা, তখন এই নগ্ন বর্বরতা প্রমাণ করে যে আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের কাছে মানবিকতার কোনো মূল্য নেই।পবিত্র রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর কাছে সংযম ও শান্তির প্রতীক। কিন্তু এই পবিত্র মাসেই যখন তেহরানের আকাশ ছেয়ে যায় ইসরায়েলি মিসাইলে, তখন তা কেবল একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নয়, বরং কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর এক নগ্ন কুঠারাঘাত। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এই আস্ফালন নতুন কিছু নয়। ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, যখনই কোনো মুসলিম রাষ্ট্র আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করেছে বা পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, তখনই তাদের ওপর নেমে এসেছে তথাকথিত ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ বা ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী’ যুদ্ধের খড়গ। সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাকের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আজ তারা ইরানকে শ্মশান বানানোর নেশায় মেতেছে। এই দম্ভ কেবল সামরিক শক্তির নয়, এটি এক চরম নৈতিক স্খলন। ইসরায়েল ও আমেরিকার এই আগ্রাসনের নেপথ্যে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনা। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা। তেহরানকে অস্থিতিশীল করার অর্থ হলো পুরো অঞ্চলের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া। যখন একটি স্বাধীন দেশের কনস্যুলেটে হামলা চালানো হয়, তখন আন্তর্জাতিক আইন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় জায়নবাদী শক্তি। আমেরিকা যখন এই হামলাকে পরোক্ষ সমর্থন দেয়, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং বিশ্ব মানচিত্র থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মুছে ফেলার সুগভীর নীল নকশা। এটি একুশ শতকের নতুন ঔপনিবেশিক শাসনের মহড়া। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তেহরানে বোমা পড়লে আমাদের ভাতের থালায় কেন টান পড়বে? উত্তরটি লুকিয়ে আছে হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক অবস্থানে। পারস্য উপসাগরের এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ইরান যদি আক্রান্ত হয় এবং আত্মরক্ষার্থে এই প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে সুনামি শুরু হবে, তা সামলানোর ক্ষমতা কারো নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ব্যারেল প্রতি দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া এখন আর অলীক কল্পনা নয়। তেলের দাম বাড়া মানেই বিদ্যুতের সংকট ও কৃষি সেচের খরচ বৃদ্ধি। বর্তমানে বাংলাদেশে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১০৬-১১০ টাকার আশেপাশে, যা যুদ্ধের প্রভাবে আরও বৃদ্ধি পেলে বোরো চাষীর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে দ্বিগুণ। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে চালের বাজারে যেখানে নাজিরশাইল বা মিনিকেট চাল ইতোমধ্যে ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন ক্ষত বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থাকে (ঝঁঢ়ঢ়ষু ঈযধরহ) তছনছ করে দেবে। বাংলাদেশ কেবল জ্বালানি তেল নয়, প্রচুর পরিমাণে সার ও মধ্যবর্তী কাঁচামাল এই অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে। যুদ্ধের ফলে জাহাজ ভাড়া ও বিমা খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আমাদের স্থানীয় বাজারে। একে বলা হয় ‘ইমপোর্টেড ইনফ্লেশন’ বা আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতি। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, তখন দেশের ভেতরে হাজার চেষ্টা করেও দাম কমানো সম্ভব হয় না। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি আর ডলারের সংকটে ধুঁকছে। এর মধ্যে যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজ, যারা নির্দিষ্ট আয়ে জীবন কাটায়, তাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। যখন মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর ছাড়িয়ে যাবে, তখন ডাল-ভাতের সংস্থান করাও হবে এক বিলাসিতা। বাজারের এই আগুনের পেছনে থাকবে তেহরানের আকাশে ওড়া সেইসব মিসাইল, যার মূল্য চোকাবে বাংলার সাধারণ কৃষক ও শ্রমিক। এটি এক অদৃশ্য যুদ্ধ, যা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে শেষ সঞ্চয়টুকুও কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এবং শক্তিশালী স্তম্ভ হলো প্রবাসী রেমিট্যান্স। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটির বেশি মানুষ কঠোর পরিশ্রম করছেন, যাদের পাঠানো অর্থ আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলটি ভূ-রাজনৈতিক কারণে চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হওয়া মানেই আমাদের এই অকুতোভয় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কর্মসংস্থান সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়া। যদি সেখানে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হয়, তবে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হতে পারেন, যা আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থা এমনিতেই শোচনীয়; এটি ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে বর্তমানে বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে যদি রেমিট্যান্স প্রবাহ সামান্যতমও হ্রাস পায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাবে। বিশেষ করে আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এলসি (খঈ) খোলা সাধারণ মানুষের জন্য তো বটেই, বড় আমদানিকারকদের জন্যও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে জীবন রক্ষাকারী জরুরি ওষুধ থেকে শুরু করে কলকারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সবকিছুরই তীব্র সংকট দেখা দেবে। এই সংকট শুধু মুদ্রাস্ফীতিই বাড়াবে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে, যা কাটিয়ে ওঠা আমাদের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো বড় মাপের সংঘাত মানেই হচ্ছে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী এক মানবিক ট্র্যাজেডি। আমরা অতীতে সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের শরণার্থী সংকটের ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। এবার যদি ইরান ও তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলো সরাসরি এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে এশিয়া ও ইউরোপ জুড়ে এক বিশাল ও নজিরবিহীন শরণার্থী ঢল তৈরি হবে। এই ধরনের বৈশ্বিক জরুরি অবস্থায় আন্তর্জাতিক অনুদান প্রদানকারী সংস্থা এবং শক্তিশালী দেশগুলোর মনোযোগ ও তহবিলের সিংহভাগ সেই অঞ্চলের দিকে ঘুরে যাবে। বাংলাদেশের জন্য এর ফল হবে অত্যন্ত উদ্বেগের। আমাদের দেশে বর্তমানে ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রিত আছে, যাদের জীবনধারণ মূলত আন্তর্জাতিক ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে বড় কোনো যুদ্ধ শুরু হলে রোহিঙ্গাদের জন্য আসা মানবিক সাহায্যের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একদিকে খাদ্য ও চিকিৎসার সংকটে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হবে, অন্যদিকে সেই ঘাটতি মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে নিজস্ব সীমিত তহবিল থেকে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করতে হবে। এটি আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর এক অসহনীয় এবং বাড়তি সামাজিক ও আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। সবচেয়ে পীড়াদায়ক বিষয় হলো মুসলিম বিশ্বের নীরবতা এবং কতিপয় দেশের নির্লিপ্ত বিশ্বাসঘাতকতা। যখন ফিলিস্তিনের পর ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তখন তেল-সমৃদ্ধ মুসলিম দেশগুলোর শাসকরা তাদের রাজপ্রাসাদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত। ভ্রাতৃত্বের সেই বন্ধন আজ সাম্রাজ্যবাদী ডলারের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। ইতিহাস সাক্ষী আছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখন কেউ আওয়াজ তোলে না, তখন ধ্বংস সবার জন্যই অনিবার্য হয়ে পড়ে। আজ যদি ইরান পতন ঘটে, তবে কাল অন্য কোনো মুসলিম দেশের ওপর যে হায়েনারা ঝাঁপিয়ে পড়বে না, তার গ্যারান্টি কে দেবে? আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই যুগলবন্দী প্রমাণ করছে যে, বর্তমান বিশ্বে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিই শেষ কথা। জাতিসংঘ আজ ঠুঁটো জগন্নাথ। যখন একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হামলা চালানো হয়, তখন বিশ্বের প্রতিটি শক্তিহীন দেশ অনিরাপদ বোধ করে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি যদি বজায় থাকে, তবে আন্তর্জাতিক আইনের যে কাঠামো গত আট দশকে গড়ে উঠেছে, তার চূড়ান্ত অপমৃত্যু ঘটবে। এটি বিশ্ব ব্যবস্থার এক নৈতিক ধস। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি আমাদের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে আমরা কি এই সংকটে কেবল অসহায় দর্শক হয়ে থাকব, নাকি একে টিকে থাকার নতুন শক্তিতে রূপান্তর করব? বাংলাদেশের জন্য এখনই সময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করার। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আর কেবল শ্লোগান নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্ববাজারে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আগেই আমাদের গমের বিকল্প এবং অন্যান্য নিত্যপণ্যের নতুন উৎসের সন্ধান করতে হবে। পাশাপাশি, দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে, তা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদনে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। জ্বালানি খাতের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমাদের সাশ্রয়ী এবং দূরদর্শী হতে হবে। কেবল বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, বরং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। বিলাসিতা বর্জন করে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত উভয় পর্যায়ে কঠোর মিতব্যয়িতা এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। একইসাথে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আরও বলিষ্ঠ ও কৌশলগত ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো দেশের আগ্রাসন বা প্রক্সি যুদ্ধের ফলে যেন আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি পিষ্ট না হয়, সে বিষয়ে বৈশ্বিক ফোরামগুলোতে সোচ্চার হতে হবে। আমাদের সাধারণ মানুষকে এটি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের এই সংঘাত কেবল মানচিত্রের দূরের কোনো বিদেশের যুদ্ধ নয়; এটি সরাসরি আমাদের বাজারদর, আমাদের কর্মসংস্থান এবং আমাদের প্রতিটি ঘরের শান্তির ওপর এক নীরব আক্রমণ। এই সংকটকে মোকাবিলা করতে হলে জাতীয় ঐক্য এবং সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। উপসংহার: তেহরানের আকাশে বারুদের ধোঁয়া আমাদের জন্য এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। যদি এখনই বিশ্ববিবেক জাগ্রত না হয় এবং মুসলিম উম্মাহর অনৈক্য দূর না হয়, তবে এই আগুনের আঁচ থেকে কেউ রেহাই পাবে না। আমরা কি কেবল নিরব দর্শক হয়ে ধ্বংস দেখব, নাকি সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হব? উত্তরটি আজ আমাদেরই খুঁজতে হবে। কারণ ঘরে যখন অর্থনৈতিক সংকটের পদধ্বনি শোনা যায়, তখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন হোক, শান্তির জয় হোক—তবে সেই শান্তি হতে হবে ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখনও সময় আছে, মুসলিম উম্মাহ যদি তাদের পা থেকে গোলামির জিঞ্জির খুলে ফেলে ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে এই আগুনের লেলিহান শিখা আমাদের তিলে তিলে গড়া অর্থনীতিকে ভস্মীভূত করে দেবে। আমেরিকা-ইসরায়েলের এই আগ্রাসন কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, এটি সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে এক নগ্ন যুদ্ধ। এই অন্যায় হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই এখন ঈমানের দাবি এবং সময়ের অনিবার্য প্রয়োজন। আমাদের নীরবতা যদি আজ আগ্রাসীদের উৎসাহিত করে, তবে আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা অপরাধী হিসেবে গণ্য হবো। আমরা কি বীরের মতো প্রতিবাদ করব, নাকি দাসের মতো বিনাশ হব সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে। মীর আব্দুল আলীম: সাংবাদিক, সমাজ গবেষক, মহাসচিব-কলামিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ। |